• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

কোভিড-১৯

শিশুদের মধ্যে বিরল উপসর্গের পেছনে অ্যান্টিবডি!

| ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

image

বিশ্বজুড়ে প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বহু শিশুর মধ্যে ‘বিরল কিন্তু বিপজ্জনক’ কিছু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরবর্তী শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে শিশুদের মধ্যেও এ রোগ ধরা পড়েছে; যার উপসর্গের সঙ্গে ‘টক্সিক শক সিনড্রোমের’ মিল রয়েছে দাবি বিশেষজ্ঞদের। বিবিসি।

বিশ^জুড়ে মহামারী করোনায় গত বুধবার একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৩শ ১৪ জনের। এছাড়া একদিনে বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৬ হাজারেরও বেশি রোগী।

ওয়ার্ল্ডওমিটারসের দেয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৫ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ লাখ ২৯ হাজার ২২৩ জন। অপরদিকে ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৯ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে এ পর্যন্ত প্রায় একশ’রও শিশুর মধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা গেছে। তাদের একটি অংশ দ্রুত সেরে উঠলেও কাউকে কাউকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। গত এপ্রিলে লন্ডনে আট শিশুর মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়ার পর ব্রিটিশ জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এনএইচএস এ বিষয়ে সতর্ক করে। সে সময় ১৪ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুও হয়। তীব্র জ্বর, শরীরে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, প্রদাহ এবং ব্যথার মত উপসর্গ ছিল ওই শিশুদের সবার। তাদের বেশির ভাগেরই ফুসফুসে বড় কোনো সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল না। তারপরও রক্তচাপ ঠিক রাখতে তাদের সাতজনকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। এমন অবস্থায় চিকিৎসকরা বলছেন, এটি কাওয়াসাকি ডিজিজ শক সিনড্রোমের মতো কোনো নতুন ধরনের রোগ হতে পারে। কাওয়াসাকি ডিজিজ মূলত ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে দেখা দেয়। ওই রোগে র‌্যাশ, গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া এবং ঠোঁট ফেটে যাওয়ার মত উপসর্গও থাকে।

তবে এবারের রোগটি আরও একটু বেশি বয়সী শিশুদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কারও কারও সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে।

এ প্রসঙ্গে লন্ডন ইমপেরিয়াল কলেজের প্যানডেমিক ইনফেকশাস ডিজিজেস ও ইমিউনোলজির প্রভাষক ডা. লিজ হুইটাকার বলেন, নতুন এ উপসর্গ যেহেতু একটি মহামারীর মধ্যে দেখা দিয়েছে, দুটোর মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলেই তারা ধারণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পোৗঁছানোর তিন থেকে চার সপ্তাহ পর নতুন এ রোগ বাড়ার খবর আসছে। মনে হচ্ছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার সঙ্গে এর যোগাযোগ থাকতে পারে।’

এদিকে দেশটির রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের সভাপতি অধ্যাপক রাসেল ভিনার জানান, নতুন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শিশুই চিকিৎসায় সেরে যাচ্ছে। আর এ ধরনের উপসর্গ খুবই বিরল। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুর মধ্যে বড় ধরনের অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে না। তেমন কোনো উপসর্গও থাকছে না। তবে কোনো কোনো শিশু অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এর কারণ বুঝতে ওই নতুন রোগ সম্পর্কে আরও জানতে হবে।