• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে

লোকসভা নির্বাচনে উত্তর-পূর্ব ভারতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিজেপি

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

চলতি বছর অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনে উত্তর-পূর্ব ভারতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় গত মঙ্গলবার নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-২০১৬ পাস হওয়ার প্রেক্ষিতে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে দাবি দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়, পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে কয়েক দশক ধরেই ‘বহিরাগতদের’ প্রভাব বিদ্যমান। অনেকেই এদের অবৈধ অভিবাসী বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। আবার অনেকের আশঙ্কা, এ আইন পাস হওয়ার ফলে বাংলাদেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই ভারতে পাড়ি জমানো শুরু করতে পারেন। এতে করে হুমকির মুখে পড়বে স্থানীয় জনগোষ্ঠী। গত কয়েক মাস ধরেই স্থানীয় বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠন ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এ আইনের বিরোধিতা করা হচ্ছিল। এরই ধারবাহিকতায় মঙ্গলবার বিলটি পাস হওয়ার পর ছাত্রদের ডাকা হরতালে পুরো উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তৃণমূলে আইনটির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান থাকলেও ক্ষমতাসীন বিজেপি সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগেই তা পাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, লোকসভা নির্বাচনে অঞ্চলটিতে ২১ থেকে ২৫টি আসন জয়ে বিজেপির লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মনিপুর ও ত্রিপুরায় ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ে তাদের জোট ক্ষমতায়। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি এ অঞ্চল থেকে ৮টি আসনে জয়ী হয়, সাতটি আসামের ও একটি আসন অরুণাচল প্রদেশের। হিন্দুস্তান টাইমস-এর আশঙ্কা, সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে আসামে। এখানে রয়েছে লোকসভার ১৪টি আসন। সোমবার অসম গণ পরিষদ (এজিপি) বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে এবং দলটির সাবেক এক মুখ্যমন্ত্রী নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। প্রফুল্ল কুমার মহন্ত বলেন, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে আমাদের দলের জোট ছিল। জনগণ আমাদের জোটকে ভোট দিয়েছে এবং তারা ক্ষমতায় এসেছে। বিজেপি দাবি করতে পারে না তারা নিজেরাই জিতেছে। আমরা যখন জোট ছেড়ে দিয়েছি তখন তাদের উচিত নতুন করে জনমত যাচাই করা।

এদিকে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল পিপল’স পার্টির (এনপিপি) সভাপতি মঙ্গলবার পাস হওয়া নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-২০১৬ আইনটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর কারণে বিজেপির সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ ঘটতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। এনপিপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জোটসঙ্গী বিজেপি। এর আগে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় আইনটির বিরোধিতা করে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এখানে লোকসভার দুটি আসন রয়েছে। মনিপুরেও এনপিপি’র চারজন এমএলও রয়েছেন। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের জোটসঙ্গী এনপিপি। ত্রিপুরায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জোটসঙ্গী পিপল’স ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা। এ দলটিও আইনটির বিরোধিতা করেছে। এখানে লোকসভার দুটি আসন রয়েছে। মিজোরামে ক্ষমতায় রয়েছে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)।

তারাও বিলটির বিরোধিতা করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবারের হরতালে সমর্থন জানিয়েছেন। এখানে লোকসভার একটি আসন রয়েছে। অপরদিকে নাগাল্যান্ডে ন্যাশনালিস্ট প্রগ্রেসিভ পার্টি (এনডিপিপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের জোটসঙ্গী বিজেপি। মঙ্গলবার রাজ্যের মন্ত্রিসভা আইনটি পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে লোকসভা নির্বাচনে। বিজেপির পেমা খান্ডু নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ভোটারদের মুখোমুখি হয়। ২০১৪ সালে খান্ডু ও অন্যরা কংগ্রেস থেকে নির্বাচন করে সরকার গঠন করেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরন রিজিজুর বাড়ি এ রাজ্যে। এখানে লোকসভার দুটি আসন রয়েছে। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক গোপাল মহন্ত বলেন, এ মুহূর্তে উত্তর-পূর্ব ভারতের অবস্থা উত্তপ্ত। মানুষ বিরক্ত ও সংক্ষুব্ধ। এ মনোভাব যদি নির্বাচন পর্যন্ত থাকে তাহলে আসাম ও এ অঞ্চলের অন্য রাজ্যে বিজেপির ভাগ্যে তা প্রভাব ফেলবে।