• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

লকডাউন শিথিলে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক তিন হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২০

image

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস বিরোধী লড়াইয়ে সফলতার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো খুলে দিতে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরই মধ্যে গত সোমবার অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনা করে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস সতর্ক করে বলেছে, লকডাউন শিথিল করে অর্থনীতি সচল করা হলে আগামী ১ জুন পর্যন্ত দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তবে এমন আশঙ্কার জবাবে প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব নথির সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে গত ৫ মে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৯ জনের । আর আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ৭৯১ জন। এদিকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১১ লাখ ৮৪ হাজার ১৯ জন। করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দশটিতে ১১ লাখ ৮০ হাজার ২৮৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর এতে সংক্রমিত হয়ে এ পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৯২২ জন মারা গেছেন।

এর আগে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় জনস হপকিন্স- এর গবেষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষের। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নিউইয়র্কসহ পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল। এছাড়া মিশিগান ও লুজিয়ানাতেও সংক্রমণের হার মারাত্মক। শহর আর গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন ১ থেকে ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) ও কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার (ফেমা) নথি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার করে আক্রান্ত হওয়া থেকে বেড়ে মাসের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন এইসংখ্যা দুই লাখে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করছে সিডিসি ও ফেমা। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জাড দেরে বলেছেন, এটা যেমন হোয়াইট হাউজের নথি নয় তেমনি তা করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের কাছেও উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি আন্তঃসংস্থার ভেটিং এর মধ্য দিয়েও তা যায়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের কোন তথ্য টাস্কফোর্স পর্যালোচনা করেনি।

করোনাভাইরাস বিস্তারের আশঙ্কা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি এখন লকডাউনের পদক্ষেপ শিথিলের কথা বিবেচনা করছে। দেশটির ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান গভর্নর দেও আওতায় থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো দ্রুত খুলে দেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরে ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে ট্রাম্পের ভাগ্য। রোববার অঙ্গরাজ্যগুলো খুলে দেয়ার পক্ষে কথা বলেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট।

এবার ট্রাম্পের দাবি নাকচ ফাউসির

এবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালক ও দেশটির রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, করোনাভাইরাস চীনের ল্যাবরেটরি থেকে ছড়িয়েছে- এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করে তিনি আরও বলেছেন, ভাইরাসটি বনাঞ্চল থেকে গবেষণাগারে আনা হয়েছে কিংবা গবেষণাগার থেকে উহানে ছড়িয়ে পড়েছে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইয়ের রাজধানী শহর উহানের একটি ভাইরোলোজি গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাসের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ অন্য মার্কিন নেতারা।