• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

রাশিয়ায় করোনা আক্রান্ত ২ লাখ ৬০ হাজার ছাড়াল

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৭ মে ২০২০

image

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬২ হাজার ছাড়াল রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি।

দেশটির করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১১৩ জন। আর নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৫৯৮ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু ২ হাজার ৪১৮ এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৮৪৩ জনে। বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রাশিয়া চীনের সঙ্গে সীমান্ত খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ করলেও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভ্রমণ বন্ধে দেরি করে। সে সময়ই ছুটি কাটাতে বিদেশে থাকা রুশদের অনেকে ভাইরাসে সংক্রমিত হন। মস্কোয় কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তা জানতে সেখানে গত শুক্রবার অধিবাসীদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে। চলতি মে’র শেষ নাগাদ প্রতিদিন ২ লাখেরও বেশি মানুষের ভাইরাস পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে মস্কোর মেয়র। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে সংক্রমণ প্রায় ১০ হাজার বেড়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে। এদিকে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৯৮৯ এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ২ হাজার ৩৭৬ জন। করোনার সার্বক্ষণিক তথ্য রাখা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস হপকিন্স- এর ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্যমতে, এখন পর্যন্তও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এবং সর্বাধিক মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে রাশিয়ায় ২ লাখ ৫২ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩০৫ জনের। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে, করোনায় মৃতের দিক দিয়ে দেশটি ১৮তম।

তৃতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে ২ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত। মৃত্যুর হারও বেশি ব্রিটেনে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৬৯৩ জন মারা গেছেন দেশটিতে। স্পেনে চতুর্থ সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার জন এবং মৃত্যুর সংখ্যায় দেশটি পঞ্চম। করোনায় স্পেনে ২৭ হাজার ৩২১ জন মারা গেছেন। বিশে^ আক্রান্তের সংখ্যায় রাশিয়া দ্বিতীয় হলেও দেশটিতে মৃতের সংখ্যা অনেক কম। এর আগে দেশটিতে একটানা আট দিন ধরে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। রাশিয়ায় সংক্রমণের এ বৃদ্ধি ইউরোপের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানিকে পেছনে ফেলে সংক্রমণের হারে বিশ্বে এ মুহূর্তে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রাশিয়া। রাশিয়ায় মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও একের পর এক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনসহ রাশিয়ার চার মন্ত্রী এ ভাইরাসের শিকার হয়েছেন। এ তালিকায় সর্বেশেষ সংযোজন রাশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ভ্যালেরি ফকভ। যদিও ইতোমধ্যেই তিনি সেরে উঠেছেন। এর আগে রুশ প্রধানমন্ত্রী, নির্মাণমন্ত্রী এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী ভাইরাস আক্রান্ত হন। তারা চিকিৎসাধীন আছেন। এ সংক্রমণের হার বাড়া নিয়ে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষা বেশি হওয়ার কারণেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও একই দাবি করে প্রতিদিনই দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার হার বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১২ মে এ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তারও চিকিৎসা চলছে। পেসকভ তার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার করুণ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, এ সময় তার ডাবল নিউমোনিয়া হয়েছিল। তিনি ও তার স্ত্রী দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পেসকভ করোনাভাইরাসকে চরম রক্তচোষা বলে উল্লেখ করে বলেন, দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়ায় ফুসফুস খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাশিয়ায় ইতোমধ্যেই ৬২ লাখ মানুষকে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা করানো হয়েছে বলে ওয়ার্ল্ডোমিটার জানিয়েছে। তবে সংক্রমিতের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়ালেও উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায় পুতিনের দেশে করোনার কারণে মৃতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

দেশেটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩০৫ জনের। আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৫ জন।

প্রসঙ্গত, ইউরোপের অন্য দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু আগের চেয়েও কমলেও রাশিয়ায় বাড়ায় নতুন করে চিন্তা শুরু হয়েছে। কারণ রাশিয়ায় এ পরিস্থিতি থাকলে ইউরোপ তা থেকে রক্ষা পাবে না বলে অভিমত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। এদিকে বিশ^জুড়ে করোনা মহামারি মৃত্যুযজ্ঞ চালানোর জেরে বিভিন্ন দেশে জারি রাখা লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধের জেরে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।