• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

যেভাবে ‘লকডাউন’ উঠছে ইউরোপে

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২০

image

বৈশ্বিক মহামারী করোনার বিস্তার ঠেকাতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ লকডাউনে হাঁপিয়ে ওঠা ইউরোপের দেশগুলো নানা প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা সহজ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে এ দেশগুলোর মানুষ বন্দীদশা থেকে আপাত মুক্তি পেয়ে কিছুটা হাঁফ ছাড়লেও বিধিনিষেধ শিথিলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও চোখ রাঙাচ্ছে। এমন পিরিস্থিতিতে ইউরোপের ভেঙে পড়া অর্থনীতি সচল করতে যেভাবে ঝুঁকি নিয়ে কিছু দেশধীরে ধীরে অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিল করছেসংবাদ মাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে তা জানিয়েছে। এ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে।

এদিকে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল সকাল পর্যন্ত বিশ্বে শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮৪ জনে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩০ জন হয়েছে। এর আগের দিন (সোমবার) পর্যন্ত বিশ^জুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪১ লাখ ৪৮ হাজার ছাড়িয়েছে। এর এক-তৃতীয়াংশ সুস্থ হয়ে উঠলেও প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ২ লাখ ৪৮ হাজার জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যে ‘স্টে হোম’ থেকে ‘স্টে এলার্ট’ : ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমের দেশ যুক্তরাজ্যে কোভিড-১৯ রোগে সবচেয়ে বেশি ৩২ হাজার মানুষ মারা গেছে। তাই সবাইকে ঘরে থাকতে (স্টে হোম) বলা হয়। তবে পরিস্থিতির উন্নতি দেখে সাত সপ্তাহ পর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলছেন, এখন সবাইকে সতর্ক থাকতে (স্টে এলার্ট) হবে। করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়ে কাজে ফেরা জনসন রোববার করোনা সংক্রান্ত দেয়া ব্রিফিংয়ে অর্থনীতি সচল করার নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যে যারা বাসায় থেকে কাজ করতে পারছেন তাদের সেভাবেই কাজ করতে হবে। যাদের অফিসে না গেলেই নয় কেবল তাদেরকেই গণপরিবহন এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর অফিসগুলোকে ‘কোভিড-১৯ নীতিমালা’ অনুসরণ করতে হবে (পরে প্রকাশ করা হবে)।

পাঁচ স্তরের কোভিড-১৯ সতর্কতা চালু করবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের স্কুল খুলবে ১ জুন থেকে। তবে ক্লাসের সময় কমিয়ে আনা হতে পারে। সূর্যস্নান, হাঁটাচলাসহ নানা কাজে ঘরের বাইরে এখন আরও সময় থাকতে পারবেন ব্রিটিশ নাগরিকরা। ২ মিটার দূরত্ব রেখে চলতে হবে। তবে খেলার মাঠ ও জিমগুলো বন্ধই থাকবে। বিপণীবিতানগুলো আগামী জুনে খোলা হতে পারে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতিমালা মেনে। সেলুনগুলো আপাতত বন্ধই থাকবে। আগামী জুলাই খোলা হতে পারে পাব, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, থিয়েটার। তবে তাও পরিস্থিতি বুঝে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে। সুরক্ষা নিশ্চিত করে গণপরিবহন দ্রুতই চালু করতে চায় সরকার। তবে সবাইকে হেঁটে, সাইকেলে বা নিজের গাড়িতে গন্তব্যে যেতে বলা হয়েছে।

জার্মানিতে ফুটবলও গড়াচ্ছে মাঠে : করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা (৭ হাজার ৫শ’) তুলনামূলক কম হলেও আক্রান্তের সংখ্যা জার্মানিতে ১ লাখ ৭১ হাজার। পশ্চিম ইউরোপের এ দেশটিতে ইতোমধ্যে সব দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে জীবাণুমুক্ত রাখার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মানতে হবে দেশটিতে বসবাসকারীদের। লকডাউন শিথিল হতেই সংক্রমণ বাড়া শুরু হয়েছে। ক্ষুদে শিশুদের স্কুলগুলো খুললেও বড় শিক্ষার্থীদের যেসব স্কুলে পরীক্ষা চলছে, তারাও খুলতে পারবে। দুই বাড়ির মানুষ এখন একসঙ্গে মিলিত হতে পারবেন। তবে বড় ধরনের জমায়েত বা উৎসবের নিষেধাজ্ঞা আগামী আগস্টের আগে উঠছে না। এদিকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতেই প্রথম মাঠের ফুটবল শুরু হচ্ছে। আগামী ১৬ মে বুন্ডেসলিগার ম্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে। তবে তা হবে দর্শকশূন্য মাঠে।

ফ্রান্সে এখন বের হতে নেই মানা : এদিকে পশ্চিম ইউরোপের অপর দেশ ফ্রান্স করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দেশটিতে পৌনে ২ লাখ আক্রান্তের মধ্যে ২৬ হাজার জন মারা গেছেন। নাজুক পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ অবস্থা ব্যাপক কঠোর ছিল দেশটিতে। তখন কারও বাইরে বের হতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হত। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিললে তার প্রিন্ট কপি নিয়ে তবেই কেবল বের হওয়া যেত। ফরাসিদের এখন সেই ‘ট্রাভেল সার্টিফিকেট’ লাগছে না ঘর থেকেত বের হতে। গত সোমবার থেকে ইচ্ছা মতো বের হতে পারছেন তারা। ১০ জনের কমে জমায়েত হতেও এখন বাধা নেই।

নার্সারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলেছে ইতোমধ্যেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলবে আগামী ১৮ মে। তবে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার স্থান দূরত্ব রেখে হবে, আর পরতে হবে মাস্ক। দেশটিেেত কলেজ আগামী জুনের আগে খুলছে না। ফ্রান্সে সব দোকানপাটই খুলে দেয়া হয়েছে। অবকাশ কেন্দ্র ?ও কবরস্থানগুলোর তালাও খুলেছে। তবে বার ও রেস্তোরাঁগুলো আপাতত বন্ধই থাকছে।

আংশিক খুলেছে স্পেন : দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের বিপর্যস্ত দেশ স্পেন মূলত দুই ভাগ হয়ে গেছে বিধি নিষেধ তোলার ফলে। বেশিরভাগ এলাকায় বিধিনিষিধ শিথিল হলেও মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, গ্রানাডা, মালাগাসহ উত্তর-পূর্বের কিছু অঞ্চলে কঠোর লকডাউনই থাকছে। এক মাসেরও বেশি সময় গড়িয়ে শিশুদের বাইরে বের হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর ২৬ মে থেকে স্কুলগুলোও আংশিকভাবে খুলছে। বার ও রেস্তোরাঁগুলো ১০ জুনের আগে সম্পূর্ণ খুলছে না। তবে এখন বারের বাইরে দাঁড়িয়ে বিয়ার কেনা যাচ্ছে। তবে তাও সামাজিক দূরত্ব মেনে।

২৬ মে থেকে সিনেমা হল, থিয়েটার ও প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলো খুলছে স্পেনে। তবে ধারণ ক্ষমতার ৩০ শতাংশ দর্শকের বেশি ভেতরে ঢোকানো যাবে না। বাইরে কনসার্টও করা যাবে সর্বোচ্চ ৪০০ দর্শক নিয়ে, তবে সেখানেও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মানতে হবে। চার্চ ও মসজিদগুলোও সোমবার খুলেছে। তবে শর্ত প্রার্থনার সময় আগের মতো জমায়েত করা যাবে না।

ইতালিতে এখন শবযাত্রা করা যাচ্ছে : এদিকে দক্ষিণ ইউরোপের দেশ ইতালিতে করোনায় একের পর এক মৃত্যুতে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ মহামারীতে মারা যাওয়া এ মানুষগুলোকে শেষ বিদায়ও দিতে পারেননি স্বজনরা। পরিস্থিতির উন্নতিতে শবযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এখন তুলে নেয়া হয়েছে। তবে এতে ১৫ জনের বেশি থাকতে পারবে না। ইতালির নাগরিকরা এখন ঘর থেকে বের হতে পারছেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যেতেও পারছেন না। তবে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাওয়ায় বিধি-নিষেধ এখনও রয়েছে। বার ও রেস্তোরাঁগুলো আগামী ১ জুন থেকে পুরোদমে খুলছে। সেলুন ও পার্লারগুলোও তখন খুলবে। এখন কিছু দোকানপাট খোলা রয়েছে। জাদুঘর ও গ্রন্থাগারসহ আরও বেশি দোকানপাট খুলবে ১৮ মে থেকে। ওই দিন থেকে ইতালির ফুটবল ক্লাবগুলো তাদের মাঠে অনুশীলনে নামতে পারবে। ইতালিতে স্কুলগুলো সেপ্টেম্বরের আগে খোলার সম্ভাবনা কম।

বেলজিয়ামে ৪ জনে নেই মানা : অপরদিকে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যার অনুপাতে মৃতের সংখ্যায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করায় এখন দেশটিতে কোন বাড়িতে সর্বোচ্চ চারজন অতিথি ঢুকতে পারবেন। দোকানগুলো ইতোমধ্যে খুলেছে, তবে সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মানতে হবে। গণপরিবহনে সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে হবে। আগামী ১৮ মে থেকে স্কুলগুলো খুলছে। তবে একটি শ্রেণীকক্ষে ১০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বসতে পারবে না। ৮ জুন থেকে ক্যাফে ও রেস্তোরাঁও খুলছে বেলজিয়ামে।

নেদারল্যান্ডসে কেশচর্চারও সুযোগ : অনেক দেশ দোকানপাট খুললেও সংক্রমণ এড়াতে সেলুন-পার্লারের মতো স্থানগুলো এখনও বন্ধ রাখলেও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের অপর দেশ নেদারল্যান্ডসে এগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। যদিও দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা কম নয় ৪৪ হাজার। কেশ চর্চার সঙ্গে খুলেছে রূপচর্চার দোকানও। গ্রন্থাগারগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও আংশিক খুলেছে। বার ও রেস্তোরাঁগুলো ১ জুন থেকে তাদের চত্বরে খাবার পরিবেশন করতে পারবে।