• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউল সানি ১৪৪০

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রুশ সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার ও ভুয়া প্রতিবেদনের মাধ্যমে চলতি বছরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও রাশিয়া হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির এক বার্ষিক শুনানিতে নির্বাচনকে ঘিরে রুশ সংশ্লিষ্টতা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। গোয়েন্দা প্রধানদের এ আশঙ্কার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচন বিষয়ে ধারণার স্পষ্ট বিরোধ দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। রয়টার্স।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর ট্রাম্পই এ গোয়েন্দা প্রধানদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার কংগ্রেসনাল কমিটির শুনানিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ড্যান কোটস বলেছেন, ‘রাশিয়া ও অন্যান্য বিদেশি শক্তিচলতি বছর এবং তার পরেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে দুই বছর আগের মতো এবারও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ক্ষতি হবে। এটাই মস্কোর ধারণা।’ রাশিয়া যে ২০১৬-র নভেম্বরের নির্বাচনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল সে বিষয়ক তথ্যপ্রমাণ দেখার দাবিও তোলেন কোটস। ওই সময় রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলোর অবস্থানও বিপন্ন হয়ে পড়েছিল বলে দাবি তার। বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হুমকি নিয়ে সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির বার্ষিক শুনানিতে কোটস আরও বলেন, ‘সত্যি কথা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের মুখে রয়েছে।’

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এ গোয়েন্দা প্রধানের পর্যালোচনার সঙ্গে স্পষ্টতই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সংক্রান্ত ভাবনার মতভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়া ট্রাম্প মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছেন। নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বকালের প্রথম বছরের পুরোটা সময়ই এ অভিযোগের কালো ছায়া তাকে ঘিরে ছিল। তবে শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রচারের সময় তার শিবিরের সঙ্গে মস্কোর সংশ্লিষ্ঠতার সম্ভাবনাও নাকচ করে আসছেন তিনি। ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পরই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হ্যাকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ঠতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলে আসছে। এ বিষয়ে কংগ্রেস কমিটির পাশাপাশি মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তও চলছে।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন শুরু থেকেই মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ট্রাম্পও পুতিনের কথাতেই সমর্থন দিয়েছেন। কোটস আরও বলেন, ‘অতীতের চেষ্টাকে সফলতাই মনে করে রাশিয়া। যে কারণে ২০১৮-র মধ্যবর্তী নির্বাচনকেও তারা প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য বানানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে। ‘ধারাবাহিক ও বিভ্রান্তিকর সাইবার অপারেশনের’ মাধ্যমে ‘নির্বাচনকে ব্যবহার করে’ যুক্তরাষ্ট্র ও এর ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর ‘গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত’ করার চেষ্টা চলছে।’ চলতি বছর কী উপায়ে রাশিয়া নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে সে সম্বন্ধেও ধারণা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘তারা (রাশিয়া) প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোপন কর্মকা-, সহানুভূতি উদ্রেককারী ব্যক্তি এবং অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের প্রভাবের তীব্রতা বাড়ানোর চেষ্টা করবে।’ রাশিয়ার হ্যাকিং মোকাবিলায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিছু করছে কিনা, শুনানিতে সিনেটররা গোয়েন্দা প্রধানদের কাছে এ বিষয়েও জানতে চাইলে উত্তরে সিআইএর পরিচালক মাইক পম্পেও এবং এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস রে জানান, প্রতিক্রিয়া হিসেবে সুনির্দিষ্ট ও উল্লেখ করার মতো কাজ চলছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি তারা।