• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

করোনাভাইরাস

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘আতঙ্ক ছড়ানোর’ অভিযোগ চীনের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

চীনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা না করে বরং বিশ্বে ভয় আর আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বেইজিং। এ ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র গত দু’সপ্তাহে জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা এবং চীন ভ্রমণ করে আসা বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এ অভিযোগ করল চীন। তবে বেইজিংয়ের এমন অভিযোগের বিষয়ে এ প্রতিবেদনে লেখা পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে। আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার মানুষ। দেশটির বাইরে ১৫০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ফিলিপাইনে একজনের মৃত্যুও হয়েছে। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের আরও অনেক দেশও চীনের সঙ্গে যাতায়াত যোগাযোগ বন্ধ করেছে। দেশগুলোর এ পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষভাবে দোষারোপ করে এ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়াং সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই চীনা ভ্রমণকারীদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাসহ দূতাবাস থেকে আংশিকভাবে কর্মী ফিরিয়ে নেয়া প্রথম দেশ।’ ‘তাদের একাজ ভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক না হয়ে বরং উল্টো আতঙ্কই সৃষ্টি করেছে। এবং তা তারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েও দিয়েছে। এভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে একটি ‘বাজে দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে।’ চুনিয়াং আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো এমন একটি উন্নত দেশ এই ভাইরাস মহামারী প্রতিরোধে ভালোভাবে সক্ষম হলেও তারা উল্টো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করার মতো পদক্ষেপে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।’ চীনের এ অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই

যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

গত ২৩ জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে জরুরি নয় এমন সব মার্কিন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে জরুরি নয় এমন সব মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার এবং স্বজনদের চীন থেকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে বলা হয়। ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির পর চীন থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের পরিবারের ২১ বছরের কম বয়সীদের দেশে ফেরানো নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। হুবেই প্রদেশে যে মার্কিনিরা ছিলেন তারা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে ১৪ দিন আলাদা থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সব পদক্ষেপের পরই অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুর চীনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। এরপর একে একে চীনের সঙ্গে যাতায়াত এবং ভিসা বন্ধের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে নিউজিল্যান্ড, ইসরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মিসর, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ইতালি, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ আরও অনেক দেশ।