• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫, ১৬ রজব ১৪৪০

যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন মোড়

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

image

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিরোধী দলীয় ডেমোক্র্যাটরা এমন একটি বিল উত্থাপন করেছে যাতে নতুন করে মাত্রা পেতে যাচ্ছে দেশটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন। ধারণা করা হচ্ছে, এ আইনবলে অনেকদিন ধরেই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আইন কঠোর করার যে আন্দোলন চলছে, তা সাফল্যের ?মুখ দেখবে।

বিগত কয়েক বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গুলির ঘটনা ঘটছে। প্রত্যেকবার বন্দুক হামলায় প্রাণহানির ঘটনার পর সামনে আসে দেশটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের দুর্বলতার বিষয়টি। দেশটিতে সংঘটিত বন্দুক হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতাকে দায়ী করা হয়। এদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পাঁচদিন পর হাউজ ডেমোক্র্যাটের উত্থাপিত বিলে এমন কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে যাতে করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর হবে।

২০১২ সালে স্যান্ডি হুক এলেমেন্টারি স্কুলে এক বন্দুক হামলায় ২০ শিশু ও ছয় শিক্ষক নিহত হওয়ার পরই এ আন্দোলন জোরদার হয়। এছাড়াও গত বছরের মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৭ জনের প্রাণহানির পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জোরালো হয়েছিল অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি। এ দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রাজপথে নামে দেশটির কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। সমালোচকদের দাবি, লবিস্ট গ্রুপের জোরালো প্রচেষ্টার কারণে বারবার থেমে যায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার প্রচেষ্টা। এরপর এ আইন কিছুটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন। অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জীবনবৃত্তান্ত যাচাইয়ের আওতা বৃদ্ধি, বয়সসীমা বাড়ানো এবং আদালতের অনুমতি ছাড়াই পুলিশকে সন্দেহভাজনের অস্ত্র বাজেয়াপ্তের ক্ষমতা দিয়ে অস্ত্র আইন সংশোধনের পরিকল্পনার বিস্তারিত জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্যাব্রিয়েল গিফর্ডস বলেন, ‘অস্ত্র সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে অনেক সাহসের প্রয়োজন। আমাদের কখনোই এ লড়াই থামানো উচিত না।’ আট বছর আগে এ গিফোর্ডই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সে ঘটনায় প্রাণ হারায় ছয়জন। মাথায় গুলি লাগলেও বেঁচে যান তিনি। এখন তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনে সোচ্চার কণ্ঠস্বর। গিফোর্ডকে সমর্থন জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের কিছু করার দিন। যথেষ্ঠ হয়েছে। নতুন এ বিলটি হাউজে পাস হয়ে গেলেও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে আটকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তারপরও এই আংশিক পাশ হওয়াকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

অপরদিকে গিফোর্ডের গান কন্ট্রোল গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক পিটার আম্বলার বলেন, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবো। এর পাশাপাশি ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’ এর প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকলিন করিন বলেন, ‘আজ খুবই খুশির দিন, উৎসবের দিন। আমাদের কঠোর পরিশ্রম সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যে লড়াইয়ের পরিকল্পনা শুরু করেছেন। করিন বলেন, তারা যদি এ বিল সমর্থন না করে, তবে জনগণের সামনে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে তারা তাদের কতটুকু মূল্য দেয়।