• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

ইরাকের পার্লামেন্টারি সম্মেলন

মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে সৌদিও

দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘ আঞ্চলিক সম্প্রীতির বন্ধন’ গড়ার লক্ষ্যে এ বিরল সম্মেলনের আয়োজন করেছে ইরাকের পার্লামেন্ট

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯

সৌদির সঙ্গে প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান। ইরাকের মধ্যস্থতায় বাগদাদে অনুষ্ঠিত দেশটির পার্লামেন্টারি সম্মেলনে একত্রিত হবেন তেহরান ও রিয়াদের প্রতিনিধিরা। একদিনের এ সম্মেলনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইরাকের পার্লামেন্টের মুখপাত্র। চির শত্রুভাবাপন্ন এ দেশ দুটি ছাড়াও এ সম্মেলনে অংশ নেয়ার কথা তুরস্ক, কুয়েত, জর্ডান ও সিরিয়ার। মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে গতকাল বাগদাদে একদিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ইরাক। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড। প্রেস টিভি, মিডলইস্ট মনিটর।

মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘আঞ্চলিক সম্প্রীতির বন্ধন’ গড়ার লক্ষ্যে ইরাকের পার্লামেন্ট গতকাল এ বিরল সম্মেলনের আয়োজন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠন করা ‘আরব ন্যাটো’কে অকার্যকর করাও এ সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। একদিনের এ সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ইরাকের পার্লামেন্টের স্পিকার ৩৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-হালবুসি। সম্মেলনের আগের দিন দেশটির ডেপুটি স্পিকার বশির হাদ্দাদ বলেন, ‘এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এ সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রতিবেশীদের মধ্যকার এ সহযোগিতা একটি সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’ এ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পার্লামেন্ট প্রধানরা এ আয়োজনে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো এ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে সিরিয়া। দেশটির পার্লামেন্ট প্রধান হাম্মুদেহ সাব্বাগ ইতোমধ্যেই নিজ দেশের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরাকে পৌঁছেছেন। ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার আল-হালবুসির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জানান, এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলো পাশাপাশি বসে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনার মাত্রা কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

এ সম্মেলনের আয়োজক দেশ ইরাক ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গেও সম্পর্কোন্নয়নে মনোযোগী হয় বাগদাদ। সর্বশেষ দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বুধবার সৌদি পৌঁছান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদি। সফরে সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসব সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। সৌদির বাদশাহ ও যুবরাজ ছাড়াও রাজপরিবারের অন্য সদস্যসহ সৌদির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সাক্ষাতে মিলিত হন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। ছয় মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই তার প্রথম সৌদি সফর। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে সবক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। এ সফর সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন। সাক্ষাৎকালে ইরাকের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দেশ সৌদির সঙ্গে সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত রয়েছে।

১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখলের পর সৌদি-ইরাক সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়ে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক দখলের পর সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলেও এ সময় বাগদাদ ইরানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক তৈরি হয় দেশটির। তবে ২০১৪ সালে হায়দার আল আবাদি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সৌদি-ইরাক সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে উদ্যোগী হন।

২৯০ মার্কিন গুপ্তচরকে গ্রেফতারের দাবি ইরানের

এদিকে ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্প্রতি ২৯০ জন মার্কিন গুপ্তচর শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি করেছে তেহরান। গত শুক্রবার তেহরানে জুমার মূল খুতবার আগে দেয়া ভাষণে এমন দাবি করেন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী হুজ্জাতুল ইসলাম মাহমুদ আলাভি। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সবাই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সদস্য। আলাভি বলেন, বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্টদের শনাক্ত করার পর ওইসব দেশের সরকারকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছে ইরান। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় সিআইএ’র সঙ্গে ওইসব ব্যক্তির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এতে করে সিআইএ বিস্মিত হয়ে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ সংক্রান্ত ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকার একজন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এ ব্যর্থতাকে ১১ সেপ্টেম্বরের পর ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্সের গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধেও ইরান একই ধরনের সফলতা পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন আলাভি। তিনি বলেন, গোয়েন্দা ক্ষেত্রে এসব সফলতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অদূর ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে।