• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের সম্ভাবনা অস্বীকার করছেন না গুইদো

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

ভেনিজুয়েলায় ওয়াশিংটনের মানবিক সহায়তা দেয়ার পেছনে মাদুরো সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা কাজ করছে- এমন সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করছেন না দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। এমন প্রশ্নের জবাবে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি প্রয়োজনে সবকিছু করতে পারেন। তবে মার্কিন আগ্রাসন খুবই বিতর্কিত বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে কারাকাসের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পক্ষ ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আরও এক কর্মকর্তা। গত শনিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা গুইদোকে প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন দেশটির সামরিকবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত কর্নেল রুবেন পাজ জিমেনেজ। কেবল ৩ কর্মকর্তা মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তিনি দাবি করেছেন, সামরিকবাহিনীর ৯০ শতাংশ সদস্যের মধ্যে গুইদোর ওপর অসন্তোষ রয়েছে। গত সপ্তাহে এ বাহিনীর দুই কর্মকর্তা একই ঘোষণা দিয়ে দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদোর প্রতি সমর্থন জানান।

গত বছর অনুষ্ঠিত দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ও অর্থনৈতিক সংকট ভেনিজুয়েলার জনগণকে তাড়িত করেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। এ বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। প্রেসিডেন্ট দাবি করার পর যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় ৪০টি দেশ তাকে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে ২০টি দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত। সে সময়ই গুইদো ঘোষণা দেন, ভেনিজুয়েলাবাসীর সহায়তায় তিনি আন্তর্জাতিক ‘ত্রাণ সহযোগীদের’ নেটওয়ার্ক বানাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি তার অনুরোধেই ভেনিজুয়েলাবাসীর জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। গুইদো বলেন, ‘আমরা এই জরুরি অবস্থা কাটাতে সম্ভাব্য সবকিছু করবো যেন সামাজিক ব্যয় কমে ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাবার ও ওষুধ আনার চেষ্টা করছেন কিন্তু ত্রাণগুলো কলম্বিয়া সীমান্তে আটকে আছে কারণ ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনী সেসব প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। গুইদো বলেন, যদি এই ত্রাণ প্রবেশ করে দেয়া না হয় তবে ৩ লাখ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। এর আগে মাদুরো ঘোষণা দেন ‘ভুয়া মানবিক সহায়তা’ নেবেন না তিনি। তার দাবি, ওয়াশিংটন আগ্রাসন চালানোর প্রেক্ষাপট তৈরি করতেই ভেনিজুয়েলার সমস্যাকে বিশ্বের সামনে বড় করে দেখাতে চাইছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক যুদ্ধের কবলে পড়ে খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে তাদের। লেখক, সাংবাদিক ও আন্দোলনকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত কানাডাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল রিসার্চের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটকে সামনে এনেই যুদ্ধের পথ সুগম করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে সহায়তা করছে তাদের মিত্র কলম্বিয়া ও ব্রাজিল। সম্প্রতি এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, মানবিক সহায়তা দিতে সেনা পাঠিয়ে সেখানে সংঘাত উসকে দেয়ার চেষ্টা নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

স্বাস্থ্যগত জরুরি ব্যবস্থা : এদিকে ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুইদো বলেন, সামনের সপ্তাহেই প্রথম ধাপের ত্রাণ চলে আসা উচিত। তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমাদের সুসাস্থ্যের জন্য ত্রাণ আসছে। দুইদিন আগেই পানির অভাবে, পুষ্টির অভাবে তিনবছরেরও কমবয়সী আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ বেশকিছু জনসেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে ভেনিজুয়েলা। এ সমস্যাগুলো থেকেই চলমান সংকটের সৃষ্টি। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও মেডিকেল সরঞ্জামের স্বল্পতাও রয়েছে। তবে তাদের সহায়তা দেয়াই গুইদোর একমাত্র লক্ষ্য নয়। গত মে মাসের বিতর্কিত নির্বাচনে জয় পাওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ লাতিন আমেরিকা বেশ কয়েকটি দেশ ওই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করলেও বিষয়টিকে সেভাবে ভাবছেন না গুইদো। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী তিনিই ক্ষমতায় থাকবেন। তবে তাকে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করে নির্বাচন করতে হবে। এ দাবি জানিয়ে গুইদো বলেন, ‘আমরা সার্বভৌম ও স্বাধীন উপায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও নির্বাচন করতে চাই।’

মানবতাবিরোধী অপরাধ : মার্কিন ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো গত বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ার কুকুতা সীমান্তে পৌঁছলেও তা ভেনিজুয়েলায় ঢুকতে দিচ্ছে না দেশটির সামরিক বাহিনী। কেননা প্রেসিডেন্ট মাদুরো মনে করছেন, ত্রাণের নামে সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের বাসনা বাস্তবায়ন করতে চায় পশ্চিমারা। গুইদো এখনও বিশ্বাস করেন, মানবতার কথা চিন্তা করে তার দেশের সামরিকবাহিনী তাকে সমর্থন দিবে। তিনি বলেন, ত্রাণ গ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক দ্বিধায় ভুগছে। প্রয়োজনের চরম এই মুহূর্তে তারা যদি ত্রাণ গ্রহণ করে তবে তা খুবই। গুইদো বলেন, এ ত্রাণ প্রবেশ করতে দেয়া না হলে সেটা মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। হুয়ান বলেন, এখন সামরিক বাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা সংবিধানের পক্ষ নেবে নাকি বিচ্ছিন্ন এক স্বৈরশাসকের অনুগত থাকবে। তবে শুধু ভয়ের কারণেই অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা দল পাল্টাতে পারছেন না।

যোগ দিতে পারছেন না গত সপ্তাহে মাদুরোকে ত্যাগ করা বিমানবাহিনীর জেনারেল ফ্রান্সিসকো ইয়ানেজের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি কিছু ন্যাশনাল গার্ড সার্জেন্ট হতাশা প্রকাশ করা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। একজন তো নিখোঁজই হয়ে গেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে পরামর্শদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ জানায়, ‘মাদুরোর মিত্র রাশিয়া ও চীন হয়তো কার্যকরী সমর্থন দিতে পারবে না। ফলে এ প্রশাসন খুব বেশি সময় টিকে থাকতে পারবে না।’ গুইদো বলেন, মাদুরোকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসবে না। তিনি বলেন, ‘আমি শঙ্কিত নই। মাদুরো ২০১৬ সাল থেকে কোন সমর্থন পাচ্ছেন না। আমি নিশ্চিত মস্কো ও বেইজিংও এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত যে, মাদুরোর জনসমর্থন নেই। বিশ্বের সবেচেয় বড় তেল মজুদ থাকার পরও তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারবেন না।