• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

ভেনিজুয়েলায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে সহায়তার প্রস্তাব চীনের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০১৯

image

ভেনিজুয়েলায় চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, কারাকাসে চলমান পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বেইজিং। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা যায়।

দক্ষিণ আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক এ দেশটিতে গত বছর অনুষ্ঠিত দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর ২ বছর ধরে চলমান অর্থনৈতিক সংকট ভেনিজুয়েলার সাধারণ জনগনকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাস্তায় নামিয়ে আনে। এ বিক্ষোভের সুযোগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। এরপরই তাকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টিরও বেশি দেশ। এদিকে কারাকাসের প্রভারশালী সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোরাস মাদুরো। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন নিয়ে মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া চালু রাখেন গুইদো। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্যেই গত ৮ মার্চ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ভেনিজুয়েলার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা। দেশটির ২৩টির মধ্যে ১৮টি রাজ্যেই অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সরকারবিরোধীরা এ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের (ইলেকট্রিসিটি ব্ল্যাকআউট) সপ্তম দিন চলছে। এর ফলে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মুঠোফোন, ইন্টারনেট, ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ডের মতো বিষয়গুলোও ব্যবহার করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন চরম সংকটের মধ্যে থাকা ভেনিজুয়েলার প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে লু ক্যাং বলেন, ‘চীন আশা করছে যে ভেনিজুয়েলানরা এ ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করে দ্রুতই সমস্যার সমাধান করবে। আর এর পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনর্গঠনে কারিগরি সহায়তা করতেও প্রস্তুত চীন। তবে এ সহায়তার বিসয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

এদিকে এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে থাকা জনজীবনে সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছে দেশটির সব হাসপাতাল। রোগীদের বাঁচিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাজধানী কারাকাসের একটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো রকমে জেনারেটরের সাহায্যে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্ত হাসপাতালের কর্মকর্তারা খুব ঝামেলায় রয়েছেন। হাসপাতালে রোগীর ছেলে জানিয়েছেন, কোন রকমে টর্চলাইটের সহায়তায় তার ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা চলছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালটির পরিচালক বলেন, চলমান এ সংকটের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়েই বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার ৬৭ বছর বয়সের জীবনে আমি এর আগে কোন দিনই এ ধরনের সংকট দেখিনি। হাসপাতালটির বহু রোগীই এখন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছে। তারাও ক্ষমতা থেকে মাদুরোর উৎখাতই চায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বলছে, মাদুরোর আত্মীয়রাই এখন দেশ ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশ কলোম্বিয়ায় যাওয়া শুরু করেছেন। দেশটিতে খাদ্য এবং পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারে দেশটিতে লুটপাটের মতো ঘটনা বাড়ছে। বন্ধ হয়ে গেছে সুপার মার্কেটগুলো। সংবাদ মাধ্যমগুলোর কাছে নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন দেশটির নাগরিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার দেশজুড়ে স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গুইদো’র দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দায়ী করেছেন গুইদো। তার দাবি, টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দেশের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।