• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ১১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

image

ভারতে সদ্য পাস হওয়া বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে দেশটির ১১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খ-, ওডিশা, পু-চেরি,পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ বিহারসহ পশ্চিমবঙ্গকে এ চিঠি দেয়া হয়েছে। এ রাজ্যগুলোর কোনটিতেই রাজ্য সরকারে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেই। অর্থাৎ বিজেপির শাসনের বাইরে থাকা রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীদেরই এ চিঠি দেয়া হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে বিজেপির শাসনের বাইরে থাকা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এমন চিঠি পাঠান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতা আর পিনরাই-এমন চিঠি বিরোধীদের কিছুটা হলেও অক্সিজেন জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনডিটিভি।

গত শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি এ তথ্য জানিয়ে এক প্রতিবেদনে বলেছে, মোদি সরকারের নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করতেই তার এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চিঠিতে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন বলেন, সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উপলব্ধি করছেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষায় সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। তাই ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী হিসেবে যে আইন (সিএএ) করা হয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ প্রয়োজন। পিনরাই আরও বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ভারতের সংস্কৃতিকে মজবুত করেছে। তাই জাত-ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ঘুচিয়ে সমাজের সব অংশের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। রক্ষা করতে হবে সংবিধানের মৌলিক ধারাকে। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধান নাগরিক অধিকার ও সাম্য রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই সংবিধান গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর সমান অধিকারের কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এ আইন সে কাঠামোকেই আঘাত করছে। এ সময় নিজ রাজ্য কেরালার বিধানসভায় মোদি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও উল্লেখ করেন পিনরাই বিজয়ন। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজ্য উপলব্ধি করেছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) আর জাতীয় জনসংখ্যা (এনপিআর) প্রস্তুতি প্রকৃতপক্ষে নাগরিকত্ব আইনের প্রাথমিক ধাপ। তাই আমরা সব প্রক্রিয়ায়ই স্থগিতাদেশ দিয়েছি।’

পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকড়ে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার, অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি, মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেলট, উড়িষার মুখ্যমন্ত্রী নাভিন পাটনায়েক এবং পুন্ডুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণসোয়ামি।

সপ্তাহখানেক আগে বিজেপির শাসনের বাইরে থাকা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এমন চিঠি পাঠান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ওতে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ যেন এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হয় তার আবেদন জানান তিনি। কেননা এতে করে প্রতিবাদের আওয়াজ আরও জোরালো হবে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনরায়ের চিঠিও যেন মমতা বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। ইতোমধ্যেই এনপিআর ও এনআরসি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করেছে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালা। এদিকে গত শুক্রবার শিলিগুঁড়িতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মোদি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই লজ্জার বিষয় যে, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও মানুষকে তাদের জাতীয়তা প্রমাণে লড়াই করতে হচ্ছে।’ তবে এ আইন কখনও প্রত্যাহার করা হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা ও ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি।