• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ৮ শাবান ১৪৪১

ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৬শ’ ছাড়াল, মৃত্যু ১২

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০৬ জনে। দেশটির তামিলনাড়ু ও মধ্যপ্রদেশে আরো দুইজনের মৃত্যু নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি।

সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, গত বুধবার ভারতজুড়ে নতুন করে প্রায় ৯০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ শ’ পেরিয়েছে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায়র প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতজুড়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন। এ সময়ে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। সংক্রমণ ঠেকাতে আগে থেকেই দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন, কারফিউ জারি ছিল। তা কার্যকর ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এদিকে বুধবার নতুন করে করোনায় আক্রান্তদেরকে পাওয়া গেছে মিজোরাম, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, মঙ্গলবার একদিনেই ভারতে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৫২ জন। আর পুরো ভারতজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে কেরালা। সেখানে ১০৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে, তামিলনাড়ুতে বুধবার করোনাভাইরাস সংক্রমণে প্রথম মৃত্যু হয়েছে । সেখানে হাসপাতালে ৫৪ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়াও, মধ্যপ্রদেশেও হাসপাতালে মারা গেছেন ৬৫ বছরের এক ব্যক্তি। তবে এ মৃত্যুর মধ্যেও স্বস্তির খবর হচ্ছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৪০ জন ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

পুলিশি হয়রানির অভিযোগ ই-কমার্স কর্মীদের

এদিকে সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ দিনের চলমান লকডাউনের মধ্যে জরুরি মুদি পণ্য, ওষুধ ও খাবার সরবাহ করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছে ভারতের বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানি। এ বিষয়ে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপও দাবি করেছে তারা। এই হয়রানির কারণে বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে তারা। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে,

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে টানা ২১ দিন ভারতজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেন। এ সময়ে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। আর সবাইকে ঘরে রাখতে রাস্তায় রাস্তায় টহল জোরালো করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

এ প্রসঙ্গে অনলাইনে ভারতের খুচরা পণ্য বিক্রির প্লাটফর্ম বিগবাস্কেট, ফ্রেশ মেন্যু এবং পোর্টিয়া মেডিক্যালের প্রোমোটার কে গনেশ বলেছেন, গত কয়েক দিনে পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের হাতে হয়রানি। নিপীড়ন এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে গ্রেফতারের শিকারও হয়েছে তাদের সরবরাহকারীরা। এনডিটিভিকে তিনি বলেন, সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে কিন্তু জরুরি সেবা এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে। তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ সদস্যরা বুঝতে পারছে না মুদি পণ্য, ওষুধ ও খাবার গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া জরুরি সেবা। সেকারণে হয়রানি ও নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশি এ হয়রানির কারণে প্রচুর পরিমাণ সবজি ও দুধ নষ্ট হচ্ছে। গ্রাহকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় মুদি পণ্য ও দুধ বিক্রেতা ওয়েবসাইট মিল্ক বাস্কেট জানিয়েছে তারা প্রায় ১৫ হাজার লিটার দুধ ও দশ হাজার কেজি সবজি নষ্ট করতে বাধ্য হয়েছে। লকডাউন শুরুর দ্বিতীয় দিনেই গুরগাও, নয়ডা ও হায়দ্রাবাদে তাজা দুধ সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একই ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে বিভিন্ন রেস্তোরার কর্মীরাও। পিৎজা সরবরাহ প্রতিষ্ঠান বেকিং বাদ এর প্রতিষ্ঠাতা অর্জুন জয়শওয়ালের অভিযোগ মোটরসাইকেলে করে পণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে পুলিশি লাঠিপেটার শিকার হয়েছে তাদের কর্মী। তবে জরুরি পণ্য সরবরাহকারীদের হয়রানি করা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দিল্লি পুলিশের পাবলিক রিলেশন কর্মকর্তা এমএস রাধা। গুরুগাও পুলিশও এক টুইট বার্তায় সরবরাহকারীদের কাজ নির্বিঘ্নে রাখতে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

অপরদিকে লকডাউনের মতো সরকারি পদক্ষেপে বিড়ম্বনায় পড়েছে দেশটির দৈনিক কাজ করে খাওয়া লাখো দিনমজুর।