• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

ভারতকে টুকরো টুকরো করতে চায় কংগ্রেস-আম আদমি জামিয়া ও শাহিনবাগের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে মোদি

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

নয়াদিল্লির সরকারে থাকা আম আদমি পার্টি (এএপি) ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস- এই দুটি দল ভারতকে টুকরো টুকরো করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেছেন, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীরা দেশের পতাকা ও সংবিধানকে সামনে রেখেই একের পর এক আইনবিরুদ্ধ কাজ করে চলেছেন। আর এসবের পেছনে এ দুটি দলের চক্রান্ত রয়েছে। দিল্লির কড়কড়ডুমার এক নির্বাচনী জনসভায় গত সোমবার এসব অভিযোগ করেন তিনি।

গত ডিসেম্বরে ভারতে পাস হওয়া বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাস হওয়ার পর থেকে এ আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) পাস করে ভারত। এতে ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে কেউ ভারতে গেলে তাকে নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রাখা হয়। তবে ওই তালিকায় মুসলিমদের বাদ দেয়া হয়। এ কারণে একে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহিনবাগসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

এ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে উত্তর প্রদেশে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ২১ জন। এ বিক্ষোভকারীদের দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে গুলি করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরসহ ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দলের কয়েকজন নেতা। এরপরই দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহিনবাগে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে ধারাবাহিকভাবে তিনবার গুলি চালায় বন্দুকধারীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম না উল্লেখ করে তাকে ইঙ্গিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এ সময় তিনি বলেন, ‘কিছু লোক রাজনীতি বদলাতে এসেছিলেন কিন্তু এখন তাদের মুখোশ খসে পড়েছে। তারা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাদের অপমান করেছিলেন।’ এরপর স্বভাবসিদ্ধভাবেই তিনি প্রশ্ন তোলন, ‘এমনকি দিল্লিবাসী কখনও চেয়েছিলেন?’ মোদি দাবি করেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন দিল্লিতে প্রায়শই সন্ত্রাসবাদী হামলা হতো। এ হামলায় জড়িতদের যখন বাটলা হাউসে পুলিশ মেরেছিল, তখন তারাই তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তারাই ভারতকে টুকরো-টুকরো করতে চায়।’

অন্যদিকে অমিত শাহের মতো বিরোধীদের সরাসরি ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে আখ্যা দেননি মোদি। তবে এ সময় সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালানো নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি প্রধানমন্ত্রী।

এরপরই জামিয়া মিলিয়া ও শাহিনবাগে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে এনে ঘটনাক্রমকে এক সুতোয় গাঁথার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জামিয়া, শাহিনবাগ গত কয়েক দিন ধরে সিএএ নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু এটা শুধুমাত্র বিক্ষোভ নয়। এখানে আসলে ষড়যন্ত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগ চলছে। এর পেছনে আপ (এএপি) ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, ‘এটা কেবল আইনের বিরোধিতা হলে তা সরকারের যাবতীয় আশ্বাসের পর মিটে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দেশের পতাকা ও সংবিধানকে সামনে রেখে জ্ঞান দেয়া হচ্ছে। বিক্ষোভে প্রতিহিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তারা আদালতের কথা মানেন না; তারা আদালতের কথা শোনেন না। অথচ পুরো বিশ্বকে দেশের সংবিধান দেখাচ্ছেন।’