• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

ভারত মহাসাগরে চীনের জোরালো তৎপরতা

নয়াদিল্লির উদ্বেগ

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

image

পাকিস্তানে করিডর নির্মাণ শেষে মায়ানমারের বন্দর তৈরি করতে যাচ্ছে চীন। ভারতকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলাই যেন দেশটির একমাত্র লক্ষ্য। তবে ভারত মহাসাগরেই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় বেইজিং। সেখানে একের পর এক ডুবোজাহাজ পাঠিয়ে চলেছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে পরমাণু ক্ষমতাসম্পন ডুবোজাহাজও। মাঝেমধ্যেই কলম্বো ও করাচি হয়ে ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি এসে পড়ছে এ জাহাজগুলো। চীনের এমন অপতৎপরতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে নয়াদিল্লির। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারতীয় নৌবাহিনী। হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও নজরদারি চালাচ্ছে দেশটির উপকূল রক্ষীবাহিনী। গত ৫ বছর ধরে ভারত মহাসাগরে এমন কর্মকা- চলছে বলে সম্প্রতি ভারতীয় গোয়েন্দাদের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গত সোমবার বিষয়টি সামনে এনেছে ভারতীয় এক গণমাধ্যম। আনন্দবাজার।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত মহাসাগরে গত পাঁচ বছরে আটটি ডুবোজাহাজ পাঠিয়েছে চীন। ভারতীয় জলসীমার দেশটির কোন কোন ডুবোজাহাজকে এক মাস অবস্থানও করতে দেখা গেছে। নজরদারি এড়াতে বেশকিছু কৌশলও অবলম্বন করতে দেখা গেছে তাদের। একের পর এক পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ পাঠায় না বেইজিং। বরং পর্যায়ক্রমে একবার সাধারণ জাহাজ আর একবার পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ, এভাবে বদল ঘটাতে থাকে তারা। ভারত মহাসাগরে চীনের উপস্থিতির কথা মেনে নিয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা। তিনি জানান, ‘চলতি বছরের অক্টোবরেই টানা একমাস ধরে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল একটি চীনা ডুবোজাহাজ। কখনও আবার এমন হয়েছে যে, ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন জায়গায় একই সময়ে দেশটির একাধিক ডুবোজাহাজকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। এডেন উপসাগরে একবার বেইজিংয়ের জলদস্যু প্রতিরোধ বাহিনীর তিনটি জাহাজকে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।’ গত বছরই ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর ১২টি বহর দেখা গিয়েছিল বলে নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে। যার মধ্যে ছিল তৃতীয় শ্রেণীর ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী লুয়াং জাহাজ, ডুবোজাহাজে সরঞ্জাম সরবরহকারী জাহাজ চেংমিংদও। পরে সেটিকে আবার করাচি বন্দরেও দেখা যায়। এদিকে গত কয়েক বছরে করাচি বন্দরে মোতায়েন চীনা নৌবহরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত মহাসাগরে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর তাই নজর রাখছে ভারত।

চীনা নৌবাহিনী এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাশালী বাহিনী। বিশ্বমানের প্রযুক্তি রয়েছে তাদের হাতে। তার ওপর আবার পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে দেশটি। এ দুই দেশ মিলে আচমকা চড়াও হলে ভারতীয় নৌবাহিনী কি তা সামাল দিতে পারবে? সেই প্রশ্নের জবাবে অ্যাডমিরাল লানবা বলেন, ‘ভারত মহাসাগর নিয়েই যত দুশ্চিন্তা আমাদের। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের হাতে ২০০ রণতরী এসে যাবে। বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০। তখন আমরাও বিশ্বমানের বাহিনী হয়ে দাঁড়াব।’ নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সম্প্রতি ৫৬টি যুদ্ধজাহাজ এবং ছয়টি ডুবোজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে ভারত সরকার। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের প্রথম বিমানবাহী রণতরী ‘বিক্রান্ত’-এর নির্মাণও প্রায় শেষ হয়ে হয়ে এসেছে। পরীক্ষা করে দেখতে ২০২০ সালেই সেটিকে পানিতে নামানো হতে পারে।