• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

ব্রিটিশ পর্যটক কোম্পানি থমাস কুককে দেউলিয়া ঘোষণা

ব্রিটিশ বিমান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যে ফিরতে শুরু করেছে যাত্রীরা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো অবকাশ পর্যটন কোম্পানি থমাস কুককে দেউলিয়া ঘোষণা করা পর গতকাল স্পেনের গ্লাসগো দীপপুঞ্জের বিমানবন্দরে আটকাপড়া যাত্রীরা -ডেইলি মেইল

ব্যবসায়িক মন্দা ও তহবিল জোগাড়ের ব্যর্থতার জেরে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো অবকাশ পর্যটন কোম্পানি থমাস কুককে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে পর্যটন পরিচালনাকারী এ কোম্পানিটির ‘তাৎক্ষণিক সব কার্যক্রম’ বন্ধ হয়ে গেল। যুক্তরাজ্যের বেসামরিক বিমান পরিহন কর্তৃপক্ষের (সিএএ) এ ঘোষণার ফলে এ মুহূর্তে বিদেশে থাকা দেড় লাখের বেশি ব্রিটিশ পর্যটককে দেশে ফেরানোর জন্য নতুন করে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। বিবিসি।

ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে চলতি বছরের আগস্টে বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার চীনা সংস্থা ফোসুনের নেতৃত্বে ৯০ কোটি পাউন্ডের একটি পুনরুদ্ধার তহবিল জোগাড়ে সমর্থ হয় থমাস কুক। কিন্তু কোম্পানিটির ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর তরফ থেকে জরুরি তহবিল হিসেবে আরও ২০ কোটি ডলার বাড়ানোর দাবি তোলায় ওই বিনিয়োগ চুক্তি সংশয়ের মধ্যে পড়ে। থমাস কুক গত রোববার সারা দিন বাড়তি তহবিল জোগাড়ের মাধ্যমে চুক্তি টিকিয়ে রাখতে ঋণদাতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু কোন ফল আসেনি। কোম্পানিটি সরকারের কাছেও আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল, যার জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোও সুপারিশ করেছিল। কিন্তু রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক র‌্যাব বিবিসিকে বলেন, ‘সুকৌশলগত জাতীয় স্বার্থ’ না থাকলে মন্দার ব্যবসা উদ্ধারে সরকার ‘পদ্ধতিগতভাবে পদক্ষেপ’ নেয় না। থমাস কুক ব্যবসায় মন্দা জন্য তুরস্কের মতো পর্যটন গন্তব্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গত গ্রীষ্মের দীর্ঘ তাপপ্রবাহ এবং বেক্সিটের কারণে গ্রাহকদের বুকিং বিলম্বিত করাসহ একাধিক বিষয়কে দায়ী করে আসছিল। তবে কোম্পানিটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্ট এবং স্বল্প খরচের এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখেও পড়েছিল। তাছাড়া এখন অনেকেই ছুটির দিনে ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবহার না করে নিজেরাই একসঙ্গে বেড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে থমাস কুকের কার্যক্রম বন্ধ হলেও বিদেশে গ্রাহকদের হোটেল খরচসহ প্যাকেজভুক্ত যাবতীয় ব্যয় মেটানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিশ্চিত করেছে সরকার। পর্যটন শিল্পের দেয়া করের টাকায় গঠিত একটি বিশেষ তহবিল (এয়ার ট্রাভেল ট্রাস্ট ফান্ড ও এয়ার ট্রাভেল অর্গানাইজার্স লাইসেন্স স্কিম-অ্যাটল) থেকে এ ব্যয় বহন করবে সরকার।

এক প্রতিবেদনে বলা বলা হয়, এটা শান্তিকালীন সময়ে সবচেয়ে বড় ব্রিটিশ প্রত্যাবাসন। অর্থাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া এর আগে সরকারকে এত ব্রিটিশ নাগরিককে একসঙ্গে দেশে ফেরানোর আয়োজন করতে হয়নি। থমাস কুকের প্রধান নির্বাহী পিটার ফ্যাংকহসার বলেন, ১৭৮ বছরের পুরনো এ কোম্পানির এরকম পতন ‘গভীর আক্ষেপের বিষয়’। তিনি কোম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে দেওলিয়া ঘোষণা করার কথা জানিয়ে লাখ লাখ গ্রাহক ও কয়েক হাজার কর্মীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। থমাস কুকের পতনের ফলে যুক্তরাজ্যে নয় হাজারসহ বিশ্বজুড়ে ২২ হাজার মানুষের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ব্রিটিশ পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস বলেন, কোম্পানিটির পতন ‘কর্মীদের জন্য এবং অবকাশযাপনকারীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের’। এখন প্রত্যাবাসনের ‘বিশাল’ ভার বহনকারী এসব কর্মীদের সঙ্গে ‘আন্তরিক আচরণ’ করতে অবকাশযাপনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শ্যাপস জানান, গ্রাহকদের বিনা খরচে দেশে ফেরাতে সরকার ও বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর মধ্যেই কয়েক ডজন উড়োজাহাজ ভাড়া করেছে। থমাস কুকের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া নাগরিক ফেরাতে জরুরি এ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন ম্যাটারহর্ন’। সোমবার থেকে ব্রিটিশ পর্যটকদের যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রোববারই খালি বিমানগুলো বিদেশের পথে উড়তে শুরু করেছে। ১৮৪১ সালে লিসেস্টারশায়ারের কেবিনেট নির্মাতা থমাস কুকের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল এ কোম্পানি।