• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী সাজিদ জাভিদের পদত্যাগ

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এর মধ্যেই আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। ইতোমধ্যেই তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন রাজস্ব বিভাগের চিফ সেক্রেটারি রিসি সুনাক। বিবিসি।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর জেষ্ঠ্য উপদেষ্টা ডমিনিক কামিংসের সঙ্গে সাজিদের সম্পর্কে টানাপড়েনের গুজবের মধ্যেই এ পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।

গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান সাজিদ জাভিদ। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সহযোগীদের সরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাজেট উপস্থাপনের মাত্র চার সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ।

ব্রেক্সিট নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় পেয়ে গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদকে অর্থমন্ত্রী নিয়োগ করেন জনসন। তবে নিজের প্রথম বাজেট উপস্থাপনের আগেই সরে দাঁড়ালেন তিনি। পদত্যাগের এ ঘটনা প্রসঙ্গে সাজিদের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি যৌথ দল গঠনের কথা বলে সাজিদকে তার বিশেষ সব উপদেষ্টাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন জনসন। তাদের জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিশেষ উপদেষ্টাদের নিয়োগের কথা বলা হয়। জবাবে সাজিদ জানান ‘কোন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন’ মন্ত্রী এ ধরনের শর্ত মানতে পারেন না।

ডনজের পদত্যাগের বিষয়ে সাজিদ বলেন, তার উপদেষ্টারা কঠোর পরিশ্রম করেছে আর তাদের বদলানোর বিষয়ে একমত হতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে পদত্যাগ ছাড়া আমার আর কোন বিকল্প নেই’। তবে নতুন অর্থমন্ত্রী রিসি সুনাক ও সরকারের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান তিনি।

এদিকে অর্থমন্ত্রী সাজিদ পদত্যাগ করা সত্ত্বেও একইদিন (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সাবেক ব্রেক্সিট সেক্রেটারি স্টিফেন বারক্লে নিযুক্ত হয়েছেন রাজস্ব বিভাগের চিফ সেক্রেটারি। ব্যারোনেস মরগ্যানকে সরিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী হয়েছেন পে মাস্টার জেনারেল অলিভার ডাউডেন। নর্দান আয়ারল্যান্ড মন্ত্রী জুলিয়ান স্মিথের জায়গায় নতুন এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রান্ডন লুইস। জেমস ক্লেভারলিকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়হীন মন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন আমান্ডা মাইলিং।

সরকার থেকে বাদ পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আন্দ্রে লেদসম এবং আবাসন মন্ত্রী এস্থার ম্যাকভে। পরিবেশমন্ত্রী থেরেসা ভিলিয়ারসকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে গত বছর থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে পদত্যাগ করা মন্ত্রী জর্জ এসটিস। অ্যাটর্নি জেনারেল জিওফ্রে কক্সকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার জায়গায় আসছেন সাবেক ব্রেক্সিট মন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী অলোক শর্মাকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগ করেছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্য দিয়ে কার্যকর হয়েছে ব্রেক্সিট। ব্রেক্সিট এখন পূর্ব সম্মত অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইইউয়ের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আগামী মার্চে। একেবারে মুক্ত হতে ২৭ জাতির অর্থনৈতিক জোট ইইউয়ের সঙ্গে একটা চুক্তি প্রয়োজন রয়েছে যুক্তরাজ্যের। এরপর বিশ্বের অন্য সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির জন্য মুক্ত হবে লন্ডন।