• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

করোনা মহামারী

ব্রাজিলের শহর সাও পাওলোর স্বাস্থ্যসেবা পতনের মুখে

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০

image

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ব্রাজিলের বৃহত্তম শহর সাও পাওলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরস জনিত রোগ কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে বেডের চাহিদা বাড়ছে। এতে করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এ শহরের পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পতনের মুখে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ব্রুনো কোভাস। বিবিসি, রয়টার্স।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বুলেটের গতিতে বাড়ছে ব্রাজিলে। গত শনিবার করোনায় আক্রান্তের সংখ্যায় ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও ইতালিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব কবলিত দেশে পরিণত হয়। লাতিন আমেরিকার এ দেশটিতে করোনায় ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনাভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৯১৯ জন ছিল বলে জানা গেছে। এতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার ১৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে আসে।

সাও পাওলো ব্রাজিলের অন্যতম করোনাভাইরাস আক্রান্ত এলাকা। সেখানে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ ইতোমধ্যে মারা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শহরটির মেয়র ব্রুনো কোভাস বলেন, সরকারি হাসপাতালের ৯০ শতাংশই এখন পরিপূর্ণ। সাওপাওলোর মেয়র আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে ৯০ শতাংশ বেড আরও আগেই ভর্তি হয়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি কী হবে তা কেউ বলতে পারবে না। সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর এগুলোতে আর জায়গা থাকবে না।

করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে সাওপাওলোর অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। শুধু এ শহরেই ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এ প্রাণঘাতী ভাইরাসে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে করোনা পরীক্ষার হার কম। এজন্য বাস্তবতার চেয়ে কম রোগী শনাক্ত হচ্ছে। যথাযথ পরীক্ষা হলে আরও অনেক বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হতো। লাতিন আমেরিকার ২১ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এ দেশটিতে শনিবার কর্মকর্তারা করোনার যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তাতেই আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে দেশটির অবস্থান ছিল চার নম্বরে।

একই দিন (শনিবার) কোভিড-১৯-এ আরও ৮১৬ রোগীর মৃত্যু হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, আক্রান্তের এ সংখ্যা নিয়ে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের পরই ব্রাজিলের অবস্থান। কিন্তু করোনা আক্রান্ত শনাক্তে এ তিনটি দেশ যে পরিমাণ পরীক্ষা করেছে ব্রাজিলের পরীক্ষা তার ভগ্নাংশ পরিমাণ বলে জানাচ্ছে রয়টার্স।

আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি হয়ে ওঠা ও পরীক্ষায় অন্য দেশ থেকে পিছিয়ে থাকার কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট জেইর বলসেনারোর ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের অর্থনীতি আবারও সচল করতে মরিয়া প্রেসিডেন্ট বলসেনারো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতোই করোনার চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহী ট্রাম্পের এই ব্রাজিলিয়ান ভক্ত। তার নীতির কারণে বিদ্যমান করোনা মহামারীর মধ্যেই মন্ত্রিসভা ছেড়েছেন দেশটির কমপক্ষে দুইজন মন্ত্রী। শুক্রবার দ্বিতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বলসোনারোর কেবিনেট ছেড়ে যান। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রমাণিত নয় এমন ওষুধের ব্যাপক ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ নিয়ে বিরোধের জেরে তার নতুন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যমন্ত্রীও শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। এর আগে করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিরোধের কারণে পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট বলসেনারো। এর আগে প্রাণঘাতী করোনার বিস্তার রোধে কঠোর সামাজিক দূরত্ব বিধি, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের পদক্ষেপ নিয়ে স্কুল, দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেয় ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার। কিন্তু বলসেনারো এর তীব্র সমালোচনা করেন। রাজ্যগুলোর এসব পদক্ষেপের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি অসহনীয় হয়ে উঠছে যুক্তি দেখিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যামিলন্তন মউরোর কোভিড-১৯ পরীক্ষা হয়েছে। শনিবার থেকে সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে রয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহে পরীক্ষায় তার এক সহকর্মীর করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়। ৬৬ বছর বয়সী মাউরোর পরীক্ষার ফল আজ (সোমবার) পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট বলসেনারোরও বেশ কয়েকবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও আগেই সতর্ক করে বলেছিল, করোনাভাইরাসের পরবর্তী ‘হটস্পট’ ব্রাজিল। সেই সতর্কতা এখন সত্যি হতে চলেছে। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে হু হু করে বেড়েছে সংক্রমণ ও প্রাণহানি। ইউরোপীয় দেশগুলো তুলনায় করোনা শনাক্তের পরীক্ষায় এখনও অনেক পিছিয়ে আছে ব্রাজিল। চলতি সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত ব্রাজিল প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার করোনা পরীক্ষা করেছে ও আরও ১ লাখ ৪৫ হাজার পরীক্ষা বিশ্লেষণের পর্যায়ে আছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

করোনা রোগীর সংখ্যায় ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও ইতালিকেও ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিল। এর বিপরীতে ইউরোপের দক্ষিণের দেশ ইতালি ও স্পেন- উভয় দেশেই ইতোমধ্যে সরকারিভাবে প্রায় ১৯ লাখ করোনাভাইরাস পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন মৃত্যুপুরী হয়ে উঠছে লাতিন আমেরিকার এ দেশটি। এদিকে দুই মাস পর মৃত্যু একশর নিচে নামল স্পেনে। চলতি বছর ব্রাজিলের অর্থনীতি স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় সঙ্কোচনের মুখে পড়বে বলে সরকার আশঙ্কা করছে।