• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ ১৪৩৯

বৈঠককে প্রচারণামূলক ধোঁকাবাজি আখ্যা ডেমোক্র্যাটদের

মিশ্র প্রতিক্রিয়া রিপাবলিকান মহলে

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের মধ্যে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকটির মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা হ্রাস। বৈঠক শেষে বিভিন্ন বিষয়ে এক পৃষ্ঠার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বৈঠক আর পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা একে ‘প্রচারণামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সাংবাদিক অ্যান্থনি জুরকারের বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে ।

এদিন সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপে কাপেলে হোটেলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত ওই ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, দারুণ বৈঠক হয়েছে। দুর্দান্ত সম্পর্কের সূচনা ঘটতে যাচ্ছে। তবে জানা গেছে, দিনের শুরুতে এমন চুক্তি সইয়ের কোন পরিকল্পনাই ছিল না। তবে মধ্যাহ্নভোজের আগে একটি দীর্ঘসময় বিরতির উল্লেখ ছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানান তিনি। বলা হয়, নতুন সম্পর্কের বিষয়ে দুই দেশই সহযোগিতামূলক আচরণ করবে। আর উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেন, ‘কিম জং তার দেশের ভালো চান। আমি আগেই বলেছি, যেকেউ যুদ্ধ শুরু করতে পারে তবে শুধুমাত্র সবচেয়ে সাহসীরাই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।’ কিম জংও আশ্বাস দেন যে তিনি কোরীয় উপদ্বীপে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে পদক্ষেপ নেবেন। এদিকে সাংবাদিক অ্যান্থনি জুরকার জানিয়েছেন, দুই বছর আগে বারাক ওবামা যখন কিউবা সফরে যান তখন অনেকেই এর সমালোচনা করছিলেন। রক্ষণশীলরা সেসময় সমালোচনা করলেও প্রশংসা করেছিলেন উদারপন্থিরা। ট্র্রাম্পের ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটেছে পুরো উল্টো। ট্রাম্পকে সবসময়ই সমর্থন দিয়ে আসা রক্ষণশীল ফক্স নিউজ এই বৈঠকের প্রশংসা করেছে। আর ডেমোক্র্যাটরা একে পাবলিসিটি স্টান্ট হিসেবে মনে করছে। এখান থেকে সাফল্য আসার সম্ভাবনাও কম বলে করেন তারা।

অপরদিকে কংগ্রেসে থাকা রিপাবলিকানরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এ ইস্যুতে অনেক কথা হয়েছে। সিনেট রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, বিষয়টি উদ্বিগ্ন তিনি। বিস্তারিত প্রকাশের পর কি হয় তার জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। তবে কয়েকজন রক্ষণশীল তো যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা পাশাপাশি লাগানোরও সমালোচনা করেছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটি দেশের সঙ্গে ট্রাম্পের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ মেনে নিতে পারেননি তারা। গত মঙ্গলবারের এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বরাজনীতি গত ১৬ মাস থেকে একদম উল্টে গেছে বলেও দাবি করেন অ্যান্থনি জুরকার।