• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

জলবায়ু সম্মেলন

বিশ্বনেতাদের ‘দায়িত্বহীন শিশু’ বলে অভিহিত করল শিক্ষার্থী

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

image

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে অ্যান্থেনিও গুতেরেস ও গ্রিটা থানবার্গ -রয়টার্স

জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ‘দায়িত্বহীন শিশু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নবিরোধী স্কুল আন্দোলনের প্রবক্তা গ্রিটা থানবার্গ। গত মঙ্গলবার পোল্যান্ডের কাতোভিতসা শহরে চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে দেয়া এক বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেছে ১৫ বছর বয়সী এ শিক্ষর্থী। জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের ভূমিকা নিয়ে গত আগস্টে একাই আন্দোলন শুরু করে থানবার্গ। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী তার আন্দোলনে যোগ দেয়। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ২৭০টির বেশি শহরে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জলবায়ু সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে থানবার্গ বলেন, ‘গত ২৫ বছরে অসংখ্য মানুষ জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে এসে আমাদের বিশ্ব নেতাদের কার্বন নিঃসরণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আর পরিষ্কারভাবে তা কাজে আসেনি কারণ কার্বন নিঃসরণ বেড়ে চলা অব্যাহত রয়েছে। তাই আমি আমাদের ভবিষ্যতের যতœ নেয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের কাছে কোন প্রার্থনা করবো না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বরং তাদের জানাতে চাই যে, তারা পছন্দ করুক আর নাই করুক পরিবর্তন আসছেই হবে।’ থানবার্গ বলেন, ‘যেহেতু আমাদের নেতারা শিশুদের মতো আচরণ করছে, তাই অনেক আগেই তাদের যেসব দায়িত্ব নেয়ার কথা ছিল, তা আমরাই নেব। বর্তমান প্রজন্ম আমদের জন্য যেসব আবর্জনা রেখে গেছেন আমাদের তা পরিষ্কার করে বেঁচে থাকতে হবে। আমাদের কন্ঠস্বরকে আরও জোরালো করতে হবে।’

কাতোভিতসা জলবায়ু সম্মেলনে প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। মূলত ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করার উপায় খুঁজে বের করাই হবে এ সম্মেলনের মূল্য লক্ষ। এ সম্মেলনে উপলক্ষেই গত সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্থিনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন থানবার্গ।

থানবার্গ তার ভাষণে বলেন, ‘এ সম্মেলন থেকে আমি যে বিষয়টি অর্জনের আশা করি তা হলো আমরা যেন নিজেদের অস্তিত্ব সংকটের বিষয়টি অনুধাবন করতে পারি। এখন পর্যন্ত এটাই মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। প্রথমে আমাদের এটা বুঝতে হবে আর তারপর কার্বন নিঃসরণ থামাতে যা কিছু সম্ভব তা করতে হবে। আমরা যা কিছু পারি রক্ষার চেষ্টা করতে হবে।’ গত মঙ্গলবার গুতেরেস বলেন, ‘আমরা আজ যে কাজ শুরু করেছি, তরুণ প্রজন্মকে তা চালিয়ে নিতে হবে আর শেষ করতে হবে। জলবায়ু লক্ষ্য পূরণের জন্য তাদের শক্তি, উদ্ভাবন ও রাজনৈতিক শক্তিকে আমাদের সংহত করতে হবে।’ সম্মেলনে যোগ দেয়া তাসমানিয়ার এ স্কুলছাত্র টবি থ্রোপি অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক স্কুল আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে একত্রিত আছি। একসঙ্গে আমরা শক্তিশালী আর আমরা হাল ছাড়বো না।’ থানবার্গ বলেন, জলবায়ুর জন্য বিশ্বজুড়ে স্কুল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সত্যিই দারুণ। তিনি বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে যে, একটি পরিবর্তন আনার জন্য আপনি কখনও খুব ছোট না।’

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এ আন্দোলন শুরু করেন থানবার্গ। তবে প্রথমদিকে তার সহপাঠীরা তার সঙ্গে যোগ দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাকে এটা একাই করতে হয়েছে’। প্রথম দুই সপ্তাহ তিনি সুইডিস পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন থানবার্গ। এখন তিনি প্রতি শুক্রবার এ বিক্ষোভ করেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান’কে থানবার্গ জানান, যেদিন সুইডেন তার কার্বন নিঃসরণ বছরে ১৫ শতাংশ কমিয়ে ফেলা শুরু করবে সেদিন তার আন্দোলন শেষ হবে। তিনি বলেন, ‘আমি স্কুল পছন্দ করি আর আমি শিখতেও ভালোবাসি’। তিনি আরও বলেন, ‘সুইডেন একটি ধনী দেশ আর আমরা উচ্চহারে কার্বন নিঃসরণও করি। তাই আমাদের অন্যদের চেয়ে বেশি হারে কার্বণ নিঃসরণ কমাতে হবে।’ অন্যান্য স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা বার্তা দিয়েছেন থানবার্গ। তিনি বলেন, ‘তোমাদের স্কুল ধর্মঘট করতে হবে না, এটা তোমাদের নিজস্ব পছন্দ। কিন্তু আমরা একটি ভবিষ্যতের জন্য কেন পড়াশোনা করবো যদি সেই ভবিষ্যতই আর না থাকে? আমার মনে হয়, স্কুলের চেয়ে এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’