• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২১ জিলহজ ১৪৪১, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

বিদায় নিলেন সম্রাট আকিহিতো

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ০১ মে ২০১৯

image

জাপানের রীতি অনুযায়ী পদত্যাগের আগে ইম্পেরিয়াল প্রাসাদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করছেন সম্রাট আকিহিতো -রয়টার্স

জাপানী রাজ প্রসাদের রীতি অনুযায়ী, ইম্পেরিয়াল প্রাসাদে গতকাল কয়েকটি ধর্মাচার পালনের মাধ্যমে সম্রাট আকিহিতো সিংহাসন ছাড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এ অনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জাপানের রাজ পরিবারের গত ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম সম্রাট হিসেবে স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করছেন তিনি। আজ থেকে তার ছেলে ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ নারুহিতো চন্দ্রমলি সিংহাসনে আরোহণ করবেন।

জাপানের সম্রাটের রাজনৈতিক কোনো ক্ষমতা না থাকলেও তিনি জাতীয় প্রতীক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। রাজকীয় প্যালেসের মাৎসু-নো-মা রাজ্যকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় গতকাল। তবে তার বেশিরভাগ আয়োজনই হয় সাধারণ লোকচক্ষুর আড়ালে। ৩৩০ জন অতিথির সামনে এ অনুষ্ঠান হয় ১০ মিনিট। আজ সকালে যুবরাজ নারুহিতো রাজকীয় ভান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্রাট হিসাবে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। এর আগে বয়স ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যের কারণে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন নাÑ এমন অপারগতার কথা জানানোর পর ৮৫ বছরের বৃদ্ধ সম্রাটকে পদত্যাগ করার আইনি অনুমোদন দেয়া হয়। আকিহিতোর পদত্যাগের দিনটিতে (গতকাল) ৩১ বছরের পুরনো জাপানের হেইসেই যুগের অবসান ঘটে আর নতুন সম্রাটের দায়িত্ব গ্রহণের দিন হিসেবে আজ (বুধবার) থেকে নতুন রেইওয়া যুগ শুরু হতে যাচ্ছে। সম্রাট আকিহিতোর রাজত্বকাল অসুস্থ ও দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষদের প্রতি তার সহানুভূতি ও তাদের সঙ্গে কাটানো সময় দিয়ে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। সম্রাটের এই দয়াপরবশতা বহু জাপানির হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে। গত নতুন তিন বছর আগে (২০১৬ সাল) আকিহিতো ঘোষণা দেন যে, বয়সের কারণে সঠিকভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পাড়ছেন না । তখনই তিনি সিংহাসন ছাড়ার আভাস দেন। জনমত জরিপে দেখা যায়, স্বাস্থ্যের কারণে সিংহাসন ছাড়তে জাপান সম্রাটের ইচ্ছাকে সমর্থন করেছেন বেশিরভাগ জাপানি। পরে সম্্রাট যাতে সিংহাসন ত্যাগ করতে পারেন সেজন্য একটি আইন পাস করে দেশটির সংসদ।

জাপানের ১২৬তম সম্রাট হতে যাচ্ছেন যুবরাজ নারুহিতো। তিনি জাপানকে ‘রেইওয়া’ যুগে নিয়ে যাবেন। ২৮ বছর বয়সে যুবরাজ নারুহিতো অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৬ সালে একটি চায়ের আসরে যুবরাজ্ঞী মাসাকো ওয়াডার সঙ্গে পরিচয় হয় ৫৯ বছর বয়সী যুবরাজের। ১৯৯৩ সালে তারা বিয়ে করেন। এ দম্পতির একমাত্র সন্তান প্রিন্সেস আইকোর জন্ম হয় ২০০১ সালে। যদিও জাপানের বর্তমান আইন অনুযায়ী, কোন নারী সিংহাসনে বসতে পারেন না। যে কারণে প্রিন্সেস আইকো সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী নন। যুবরাজ নারুহিতোর পর উত্তরাধিকারী তালিকায় রয়েছেন তার ভাই প্রিন্স ফুমিহিতো। এরপর রয়েছেন ফুমিহিতোর সন্তান ১২ বছরের হিসাহিতো। নতুন সম্রাটের দায়িত্ব গ্রহণ উদযাপন করতে জাপানের বসন্তকালীন বার্ষিক ছুটি গোল্ডেন উইক ছুটি আরও ১০ দিন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব ত্যাগের আয়োজন অনেকটা উৎসবের মতো আকার পেয়েছে জাপানে। যদিও ৩০ বছর আগে যখন আকিহিতো তার পিতার মৃত্যুর পর সম্রাট হন, তখন পুরো দেশ শোকের সাগরে ভাসছিল। তবে এবার মানুষজন ছুটি কাটাচ্ছেন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো রাজকীয় পরিবার। পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়, যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে থেকে এ রাজতন্ত্র চলছে।

এক সময় জাপানের সম্রাটদের ঈশ্বরের মর্যাদা দেয়া হতো। তবে সম্রাট আকিহিতোর পিতা সম্রাট হিরোহিতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের পর তার সেই দেবত্ব ত্যাগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী স¤্রাট আকিহিতো যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন । রাজ পরিবার ও জনগণের মাঝের ব্যবধান ঘোচাতে তার অবদান রয়েছে। সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পর (১৯৯১ সাল) নাগাসাকিতে একটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রথমবারের মতো প্রথা ভেঙ্গে হাঁটু গেড়ে জনগণের কাতারে বসেন সম্রাট আকিহিতো ও সম্রাজ্ঞী। এরপর থেকে সেই ধারা চলছে। জাপানের অনানুষ্ঠানিক দূত হিসেবে বিশ্বের অনেক দেশে ভ্রমণ করেছেন আকিহিতো। নতুন সম্রাট নারুহিতো অব্যাহত রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।