• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭, ৮ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

করোনাভাইরাস

ফ্রান্স, স্পেন, ইতালিতে মৃতের সংখ্যা কমছে

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২০

image

লকডাউন শিথিল হওয়া ইতালির জনজীবন -বিবিসি

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ সবচেয়ে বিপর্যস্ত ইউরোপের তিনটি দেশে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম দৈনিক মৃত্যুর তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে। ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন-এ তিন দেশে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিলের প্রস্তুতি নিতে থাকার মধ্যেই মৃত্যু এ হার কমে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এদিকে ইউরোপের অপর দেশ রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিবিসি, রয়টার্স।

মার্কিন বিশ^বিদ্যালয় জনস হপকিন্স-এর দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৬ হাজার ৭২৯ জনে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২৭০ জনের। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০। মৃত্যু হয়েছে ৬৭ হাজার ৬৮২ জনের। আর এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ১৫২ জন।

এদিকে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপের দেশ ফ্রান্স একদিনে ১৩৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ স্পেনে এ মৃত্যু ১৬৪ জন। যা মধ্য-মার্চের পর থেকে দেশ দুটিতে একদিনে সবচেয়ে কম মৃত্যু। আর দক্ষিণাঞ্চলী দেশ ইতালি একদিনে ১৭৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। যা দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে ফরাসি চিকিৎসকদের দাবি, রোগীদের থেকে নেয়া নমুনা নিয়ে করা নতুন পরীক্ষায় দেখা গেছে নতুন নভেল করোনাভাইরাস গত বছরও ফ্রান্সে উপস্থিত ছিল। এটি ঘটেছে দেশটিতে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের আগেই।

অপরদিকে পূর্ব ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত রোববার দেশটিতে ১০ হাজারেও বেশি নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। তবে অন্য দেশগুলোর তুলনায় রাশিয়ার মৃত্যুর হার এখনও কম। এদিন দেশটিতে ৫৮ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৮০ জনে।

ভাইরাসটি গত বছর ফ্রান্সে ছিল!

মধ্য-মার্চের পর থেকে রেকর্ড করা নতুন মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে কম হয়েছে ফ্রান্সে। প্রথমদিকে শুধু হাসপাতালগুলোতে মারা যাওয়া রোগীদের রেকর্ড রাখা হলেও পরে কেয়ার হোমগুলোতে মারা যাওয়া রোগীদের রেকর্ড রাখাও শুরু হয়। গত কয়েক দিন ধরে সব মিলিয়েই দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির রাজধানী প্যারিসের এক নিবিড় পরিচর্যাবিষয়ক প্রধান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফ্রান্সে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার এক মাস আগে ২৭ ডিসেম্বরেই ভাইরাসটি সে দেশে ছিল।

বিএফএমটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডা. ইভ কোহেন নামের ওই নিবিড় পরিচর্যাবিষয়ক প্রধান জানান, ডিসেম্বরে ও জানুয়ারিতে শ্বাসকষ্টের লক্ষ্মণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৪ জন রোগীর নমুনা আবারও পরীক্ষা করেছেন তারা। তিনি বলেছেন, ‘ওই ২৪ রোগীর মধ্যে আমরা একজনকে ২৭ ডিসেম্বরেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত ছিল বলে শনাক্ত করেছি। ওই সময় তিনি আমাদের সঙ্গেই হাসপাতালে ছিলেন।’ ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষাটি কয়েকবার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কী হচ্ছে স্পেনে? :

স্পেনে গত রোববার দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৬৪ জন। যা দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং আগের দিন শনিবারের সংখ্যা থেকে শতাধিক কম। সাত সপ্তাহ পর শনিবার থেকে দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বাইরে যেয়ে ব্যায়াম করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ১৪ বছরের নিচের শিশুদের জন্য লকডাউন শিথিল করা হয়। এ প্রসঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেছেন, তার দেশ এখন লকডাউনের সময়কার ত্যাগের পুরষ্কার পাচ্ছে।

ইউরোপের কঠোরতম লকডাউনের মধ্যে স্পেনেরটি অন্যতম ছিল। আর গতকাল থেকে দেশটিতে গণপরিবহনে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেলুনের মতো কিছু ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সীমিত পরিসরে ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ইতালির পরিস্থিতি কী?

দুই মাস আগে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে গত রোববার করোনায় দৈনিক মৃত্যুর সর্বনিম্ন সংখ্যা লিপিবদ্ধ করেছে ইতালি। দেশটিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রোগীর সংখ্যাও হ্রাস পাওয়া অব্যাহত আছে। গতকাল থেকে দেশটিতে লকডাউন শিথিল হচ্ছে।

রাশিয়ায় একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১১ হাজার :

রাশিয়ায় করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নতুন আক্রান্তের দিক দিয়ে দেশটি প্রায় প্রতিদিনই ছাপিয়ে যাচ্ছে আগের দিনের রেকর্ড। গত রোবাবার দেশটিতে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৬৩৩ জন। একদিনে যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা মোট দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮৬ জনে।

সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া এখন বিশ্বে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে করোনায় মৃতের দিকে থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং স্পেনের মতো দেশগুলোর তুলনায় দেশটিতে মৃত্যুহার কম।

গত রোববার রাশিয়ায় নতুন ৫৮ জনের মৃত্যু নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮০ জনে। রাশিয়ার করোনাভাইরাস ক্রাইসিস সেন্টার তাদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে রাশিয়া এখনও করোনাভাইরাস মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিটি পেরোয়নি বলে সতর্ক করেছেন মস্কোর মেয়র।