• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

প্রথম সফল করোনা ভ্যাকসিন তৈরির দাবি ইতালির

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০

image

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নভেল করোনাভাইরাস। লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি প্রভৃতি নানা উপায়ে এ মহামারীর সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা (ভ্যাকসিন) উন্নয়নে শতাধিক গবেষক দল কাজ করছে। তারপরও বেড়েই চলছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ইউরোপের দেশ ইতালির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই মানুষের ওপর পরীক্ষা করে দেখার জন্য সফল করোনা ভ্যাকসিন তৈরিতে সমর্থ হয়েছে। গত মঙ্গলবার সায়েন্স টাইমস ম্যাগাজিনে ইতালীয় গবেষকদের এ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। সিএনবিসি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, রাজধানী রোমের স্পালানজানি হাসপাতালে সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা এ টিকার পরীক্ষা করেছেন। ইতালীয় গবেষকরা বলছেন, ইঁদুরের দেহে ওই টিকা প্রয়োগ করে দেখা গেছে, তা করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই অ্যান্টিবডি মানবকোষেও করোনাভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হবে। গ্রীষ্ম মৌসুম শেষে এ টিকা মানুষের দেহে প্রয়োগের চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

ইতালীয় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা টাকিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইগি আরিসিচিও ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএকে জানিয়েছেন, বিজ্ঞানীদের তৈরি টিকা মানুষের শরীরে যে কার্যকর হবে, তার সংকেত মিলেছে স্পালানজানি হাসপাতালেই। তিনি মনে করেন, এটিই বিশ্বের প্রথম ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন (সরকারি ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে টিকাটি); যা মানুষের শরীর থেকে করোনাভাইরাসকে দূরে রাখতে সক্ষম। লুইগি আরও জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে তাদের গবেষণা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাদের প্রাযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন সংস্থা লিনারেক্স।

এ মুহূর্তে কোন দেশ আগে করোনার টিকা তৈরি করতে পারে সে অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব। তবে কোন প্রতিযোগিতায় যেতে সম্মত নন লুইগি। তিনি বলেন, ‘করোনার সঙ্গে লড়ছে সবাই। আমরা কোনও প্রতিযোগিতায় নেই। বরং সবার সহায়তা পেলেই লড়াই সার্থক হবে।’

করোনা নিষ্ক্রিয়ের অ্যান্টিবডি আবিষ্কারের দাবি ইসরায়েলের

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, দেশটির একটি কোম্পানি করোনাভাইরাসের মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে; যা প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারার পাশাপাশি ভেঙে দিতে পারে এর ভাইরাল প্রোটিন। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন দাবি করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টেও এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে দেশটির বায়োলজিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলো। তবে কোভিড গবেষণার কোন খবরই সামনে আনছে না দেশটি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে অ্যান্টিবডি বানিয়েছে ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল রিসার্চ (আইআইবিআর)। কোভিড পজিটিভ রোগীদের শরীরের কোষ নিয়ে এই অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়েছে। এটি করোনা প্রতিরোধের বড় হাতিয়ার হতে পারে। তবে এ অ্যান্টিবডি মানব শরীরে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট করা হয়নি বিবৃতিতে। তবে এই মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি খবর দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করলেও, এর প্রয়োগ কীভাবে হচ্ছে, ট্রায়াল হয়েছে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইআইবিআর।

এদিকে দেশটির গবেষকরা জানান, সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়েছেন এমন কোভিড রোগীর দেহকোষে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় সেটি থেকে ক্লোনিং করে কৃত্রিম উপায়ে এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে ল্যাবরেটরিতে। এক্ষেত্রে একটি কোষ থেকে এমন অ্যান্ডিবডির ক্লোন করা হয়েছে।

আইআইবিআর জানিয়েছে, সংক্রামিতের শরীরে যে ভাইরাল প্রোটিনগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে এই অ্যান্টিবডি। শরীরে প্রবেশ করে ভাইরাসকে আক্রমণ করবে তা। সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেবে। ভাইরাল প্রোটিন কাজ করার ক্ষমতা হারালে আর কোষের মধ্যে প্রবেশ পারবে না। ফলে সংক্রমণও থেমে যাবে। আইআইবিআর’র পরিচালক শ্যামুয়েল শাপিরা জানিয়েছেন, এই অ্যান্টিবডি এখনও গবেষণার পর্যায়েই আছে। এর ফর্মুলা পেটেন্ট করা হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে কোভিড টিকা নিয়ে ইসরায়েলের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তবে ওই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ইসরায়েলের আরও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিগভ্যাক্স জানিয়েছে, তাদের তৈরি টিকার ক্লিনিক্যাল রিসার্চ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই টিকা কী বা ট্রায়ালের রিপোর্ট সম্পর্কেও জানা যায়নি।

৮টি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছে ডব্লিউএইচও

অপরদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে পরীক্ষামূলক ১০৮টি টিকার (ভ্যাকসিন) মধ্যে ইতোমধ্যেই আটটিকে মানবদেহে প্রয়োগের (ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের) অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত কয়েক মাস ধরে কাজ চললেও বিশ্ববাসীর প্রত্যাশিত টিকাটি এখনও পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি কোন দেশ।

মানব দেহে প্রয়োগের জন্য অনুমোদন পাওয়া এ আটটি টিকার মধ্যে পাঁচটিই চীনের তৈরি। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একটি করে টিকা তৈরির কাজ চলছে। অপরটি যৌথভাবে তৈরির কাজ করছে জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক কোম্পানি পিজফার। গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের দিকে টিকা উদ্ভাবনে ১০৪টি গবেষক দল নিয়োজিত ছিল। সম্ভাব্য টিকার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে, জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, তুলানে ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্ঁা এবং দি ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ।

কয়েক মাস ধরে কাজ চললেও বিশ্ববাসীর প্রত্যাশিত টিকাটি এখন পর্যন্ত কেউ তৈরি করতে পারেননি। দু-একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সফল বলে দাবি করেছে। গত ১৬ মার্চ প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য টিকা মানবদেহে প্রয়োগ করে দি আমেরিকান ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট (এনআইএস)।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা প্রয়োগের পর আরও সাতটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বায়োটেক কোম্পানি তাদের তৈরি কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য টিকা মানবদেহে প্রয়োগ করে। পরীক্ষা শেষে এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বাজারে আসবে।

এরই ধারাবাহিকতায় টিকা তৈরিতে একধাপ এগিয়ে রয়েছে ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন।

ইনসেট- করোনা নিষ্ক্রিয়ের অ্যান্টিবডি আবিষ্কারের দাবি ইসরায়েলের