• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

প্রথম করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাচ্ছে ভারত

| ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২০

ভারতে তৈরি প্রথম করোনার প্রতিষেধক টিকা কোভাক্সিনের মানব দেহে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) সম্মতি দিয়েছে দেশটির ওষধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ায় চলতি জুলাই মাস থেকে শুরু হবে এর পরীক্ষা। হিন্দুস্তান টাইমস, রয়টার্স।

গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, সিএমআর-এর সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় এ টিকা তৈরি করেছে হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক। সংক্রামক সার্স-কোভ-২ ভাইরাস থেকে তৈরি করা এ টিকা করোনা সংক্রমণ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে নিরাপত্তা দিতে এবং মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম। ইতোমধ্যেই টিকাটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি হিন্দুস্তান টাইমসের।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারসের দেয়া তথ্য অনযায়ী, বৈশি^ক মহামারী করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার ৪৩৩ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮ হাজার ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০৭ জন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সংক্রমণের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে থাকা দেশ ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩১৫ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৯১৭ জন। পাশাপাশি সুস্থ হয়ে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৭ জন।

এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বব্যাপী ১৪০টিরও বেশি টিকা নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৩টি ইতোমধ্যেই মানব দেহে পরীক্ষায় যেতে সমর্থ হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এ দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনা টিকা। এটি বাজারজাত করতে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আস্ট্রাজেনেকা। ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে করোনা টিকার ৪০ কোটি ডোজ প্রি-অর্ডার করতে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে ইউরোপের চার দেশ। অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার পাশাপাশি মর্ডার্না ইনকরপোরেশনের টিকাও রয়েছে প্রথম সারির (ফ্রন্ট রানার) তালিকায়।

ডব্লিউএইচওর প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেছেন, অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা যতটুকু অগ্রসর হয়েছে সেদিক থেকে আমি মনে করি তারাই শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। মর্ডার্না ইনকরপোরেশনের টিকা নিয়েও কথা বলতে গিয়ে সৌম্য বলেন, আমরা জানি যে মর্ডার্নার টিকাটি সম্ভবত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তৃতীয় ধাপে মানবদেহে পরীক্ষায় যেতে চলেছে। অর্থাৎ এটিও খুব পিছিয়ে নেই। অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের প্রধান অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড। তিনি জানান, পরীক্ষামূলক গবেষণা (ক্লিনিক্যাল স্টাডিজ) খুব ভালো চলছে। আমরা এখন টিকাটি কত বয়সের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের প্রক্রিয়া চালিত করতে পারে তা মূল্যায়ন করে দেখছি। এছাড়া এটি ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম কিনা তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের ২০২০ সালের শেষ নাগাদ টিকাটির উন্নয়ন কাজ বা বাজারজাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।

এদিকে আস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাস্কাল সরিওট জানিয়েছেন, তাদের এ টিকা প্রায় এক বছরের জন্য এ ভাইরাস থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেবে। তিনি বলেন, আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নাগাদ মানব দেহে পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর নাগাদ এ টিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আমরা মনে করি, এটি প্রায় বছরখানেক ধরে সুরক্ষা দেবে। মানব দেহে পরীক্ষার চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে অক্সফোর্ডের করোনা টিকা। করোনাভাইরাস থেকে এসব টিকা মানুষকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে পারে সেটা যাচাই করতেই এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। আস্ট্রাজেনেকার এ টিকার ৪০ কোটি ডোজ প্রি-অর্ডার করতে ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে ইউরোপের চার দেশ জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস। চার দেশের জোট ইনক্লুসিভ ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স’র (আইভিএ) সঙ্গে চুুক্তিতে উপনীত হয়েছে আস্ট্রাজেনেকা। চুক্তি অনুযায়ী, এ টিকা ইউরোপে সরবরাহের কাজে সহায়তা দেবে আইভিএ। ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও চুক্তিতে সম্মত হয়েছে আস্ট্রাজেনেকা।