• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ক্রাইস্টচার্চ হামলার ভয়াবহতা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

হামলাকারীর বুলেট ফুরিয়ে যাওয়ার জন্য দোয়া করছিলাম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলার ভয়াবহতা উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়। গতকাল ডিনস অ্যাভিনিউয়ের আল নুর মসজিদে কয়েকশ’ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন জুমার নামাজ আদায়ে। একইভাবে লিনউড মসজিদেও সমবেত হন মুসল্লিরা। আল নুর ও লিনউড মসজিদের ভেতরে ও বাইরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। এ সময় হামলার সম্পর্কে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিভিএনজেডকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষ্যদর্শী জানান, তিনি দেখেছেন একজনের বুকে গুলি করছে হামলাকারী। ‘আমি তার বুলেট শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম, মূলত আমি অপেক্ষা আর প্রার্থনা করছিলাম। বলছিলাম, হে খোদা, এ অমানুষটার বুলেটগুলো ফুরিয়ে যাক।’ ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানায়, ওই হামলাকারী প্রথমে মসজিদে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত নামাজ কক্ষে হামলা চালায়। এরপর সে নারীদের নামাজ কক্ষে গিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে।

গতকাল স্থানীয় সময় (আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারী হামলা চালায়। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস অ্যাভিনিউতে আল নুর মসজিদ এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদের কাছ থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। পৃথক এ হামলায় সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে, ৪০ জনের প্রাণহানির কথা নিশ্চিত করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। হামলার সময় আল নুর মসজিদ থেকে পালিয়ে আসা এক প্রত্যক্ষদর্শী সেখানকার সংবাদপত্র ক্রাইস্টচার্চ প্রেসকে বলেছেন, তার স্ত্রী মারা গেছেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তার ওপরেও মৃতদেহ এসে পড়ে। নিউ জিল্যান্ডের ফেডারেশন অব ইসলামিক ফেডারেশনের প্রধান ড. মুস্তফা ফারুক রেডিও নিউ জিল্যান্ডকে জানিয়েছেন, শুক্রবার আল নুর মসজিদের ভেতরে বাইরে নামাজের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ মানুষ জড়ো হতেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, সামরিক কায়দার জ্যাকেট ও হেলমেট পরিহিত হামলাকারী বন্দুক নিয়ে হামলা চালায়। তিনি বলেন, হামলাকারীর কাছে বড় একটি বন্দুক ও প্রচুর গুলি ছিল। সে ঢুকে পড়ে আর মসজিদের ভিতরে থাকা প্রত্যেককে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। যেদিকে ইচ্ছা সেদিকেই গুলি ছুড়ছিল সে। আর তারা দরজা ও জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে জানান, গুলি শুরুর সময়ে তিনি আল নুর মসজিদের ভেতরেই ছিলেন। তিনি জানান, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন বৈদ্যুতিক শক লেগেছে কিন্তু তারপরই মানুষ দৌড়াতে শুরু করে। তিনি বলেন, ভেতরে এখনও আমার বন্ধুরা রয়ে গেছে। আমি তাদের ডেকে যাচ্ছি কিন্তু তারা আমার কথা শুনতে পারছে না। তাদের জীবন নিয়ে আমি শঙ্কায় রয়েছি। বেঞ্জামিন জেলি সংবাদপত্রটিকে বলেছেন, অন্তত তিন দফায় গুলি ছোড়ার শব্দ শুনেছেন তিনি। আর তারপরই মসজিদের পেছনের দেয়াল দিয়ে মানুষ লাফিয়ে পড়তে দেখেছেন। তিনি বলেন, দেয়াল থেকে লাফিয়ে পড়া সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলেন আর তাদের মধ্যে অন্তত তিন জন কাঁদছিল আর চিৎকার করছিল। লেন পানাহ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন, কালো কাপড় পরা এক ব্যক্তিকে মসজিদে ঢুকে অসংখ্য গুলি ছুড়তে দেখেছেন। এরপরই সেখান থেকে মানুষ পালাতে শুরু করে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে ঢুকে সর্বত্র মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান। দ্বিতীয় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে লিনউড মসজিদে। ওই ঘটনা প্রসঙ্গে সায়িদ আহমেদ ক্রাইস্টার্চ প্রেসকে জানান, ছদ্মবেশ ধারণকারী এক হামলাকারী মোটরসাইকেল হেলমেট পরে মসজিদে ঢুকে হামলা শুরু করে। তিনি হামলাকারীকে চিৎকার করতে শুনেছেন তবে তিনি কী বলেছেন তার অর্থ বুঝতে পারেননি বলে জানান। তিনি জানান প্রথমেই তিনি চেয়ারে বসে থাকা বয়স্কদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। পরে সবাইকেই লক্ষ্যবস্তু বানান বলে জানান তিনি।