• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

পোশাক-চুল-দাড়িতে করোনা বেশিক্ষণ বাঁচে না বিশেষজ্ঞ অভিমত

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২০

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুযজ্ঞ চালিয়ে প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের সঙ্গে সংশয় তো রয়েছেই। অন্যের শরীরে প্রাণঘাতী এ জীবাণুর সম্ভাব্য সংক্রণের পাশাপাশি নিজের মাথার চুল থেকে পরনের জামা, গালের দাঁড়ি, পায়ের জুতো নিয়েও চিন্তার অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। বাইরে হেঁটে বেড়ালে কি করোনাভাইরাস জামাপ্যান্টে আটকে যেতে পারে? জুতো কতটা ভাইরাস বহন করে? চুল দাড়িতে কি ঘাপটি মেরে থাকতে পারে সার্স-কোভ-২? মানুষের মনে এমন হাজারো প্রশ্নের এবার অ্যারোডায়নামিক্সের ভাষায় একসঙ্গে জবাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিউইয়র্কের একটি সংবাদমাধ্যম।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মহামারী করোনাকালে জামা-জুতো নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। অল্প সময়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হলে জামাপ্যান্ট পাল্টানোরও প্রয়োজন নেই। তবে হাসপাতাল বা বাজারের মতো জনবহুল জায়গায় গেলে অবশ্যই জামাকাপড় নিয়ে সতর্ক হতে হবে বলে অভিমত। কিন্ত পরা সব পোশাক লন্ড্রিতে পাঠানো জরুরি নয়। বাড়িতে সাধারণ ডিটারজেন্টে দিয়ে কাচলেই যথেষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ডা. অ্যান্ড্রু জনস্কি ও ভার্জিনিয়া টেকনোলজির অ্যারোসল বিজ্ঞানী ডা. লিনসে মারের মতে, ‘আমরা বাতাসের মধ্যে ডুবে আছি। কিন্তু আমাদের গতি কম থাকায় ভাসমান কোন জীবাণু জামাকাপড়ে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ঠিক যেমন গাড়ির গতি কম থাকলে পোকামাকড়ের উইন্ডস্ক্রিনে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। গতি বাড়লে বাড়ে সম্ভাবনা। অর্থাৎ, গতি কম থাকার জন্যই আমাদের জামাকাপড়ে ভাইরাস লেগে গেলেও তার ‘লোড’ অনেক কম হবে। ফলে, দ্রুত তা শুকিয়ে যাবে।’

নোভেল করোনাভাইরাস বাতাসে কয়েক মিনিট বেঁচে থাকতে পারে বলে মার্কিন গবেষকদের এক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে। তবে মশা-মাছির মতো তা ওড়ে না। বাতাসের অভিমুখে ভেসে যায়। কাছাকাছি কোনও সংক্রামিত মানুষ হাঁচলে বা কাশলে তবেই এ সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়। গবেষণা বলছে, ধাতব সামগ্রীর উপর ৪৮ ঘণ্টা এবং প্লাস্টিকের ওপর ভাইরাস ৭২ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। ২০০৫ সালে সার্সের সময় কাপড়ের গাউনের ওপর পরীক্ষা চলানো হয়। তখন দেখা যায়, সুতির বস্ত্রের উপর করোনা গোত্রের ভাইরাস জীবন হারায় তাড়াতাড়ি। কারণ, ভাইরাসের গায়ে যে লিপিডের আবরণ, তা সুতির কাপড়ে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁচি-কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসা ড্রপলেট আয়তনে খুবই ছোট হয়। বাতাসে ভাসার পর আরও ছোট হয়ে যায়। ফলে সংক্রমণের জন্য যত পরিমাণ ভাইরাস লোড দরকার, তা বাতাসে থাকে না। যদি না কেউ হঠাৎ আমাদের গায়ের উপর হাঁচি দেয়। এমন পরিস্থিতি ঘটলে জামাকাপড় ধুয়ে নেয়াই বাঞ্ছনীয়। মাথার চুল বা গালের দাড়ি গোঁফ নিয়েও অনেকে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এই করোনাকালে কেউ কেউ আবার মাথার চুল কেটে একেবারেই নেড়া হয়ে গিয়েছেন! যদিও বিশেষজ্ঞদের মত, পোশাকের মতোই চুল দাড়িতে ভাইরাসের বেশিক্ষণ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। তাই যত বার বাইরে যাবেন, ততবার গোসল মশা মারতে কামান দাগা হয়ে যাবে। এর পরিবর্তে ঠা-া লেগে বিপত্তি বাধতে পারে। তবে হাতমুখ ধুতে হবে বারবার।

তবে জুতো নিয়ে অবশ্যই কড়া সতর্কবার্তা রয়েছে সবার জন্য। এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক লিন্ডিয়া মোরাস্কার মতে, এ সময় জুতো নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ না করাই ভালো। বরং বাইরে জুতো রেখে খালি পায়ে ঘরে ঢুকুন। তবে বাজার বা মুদি দোকানে গেলে মাটির সঙ্গে ভাইরাস জুতোর সোলে আটকে থাকার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার।