• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

পোপ ফ্রান্সিসের সমালোচনায় কট্টরপন্থি ধর্মগুরুরা

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিসের উদারপন্থি মনোভাবের সমালোচনা করেছেন রক্ষণশীল ক্যাথলিক ধর্মগুরুরা। পোপ ফ্রান্সিস পথভ্রষ্ট বলে এক নজিরবিহীন দাবি তুলে তারা অভিযোগ করেছেন, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের বিভ্রান্ত করছেন তিনি। এমনকি পদচ্যুত ভ্যাটিক্যানের সাবেক এক উচ্চপদস্থ ধর্মগুরু ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রচারপত্র প্রকাশও শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চ ও সার্বভৌম ভ্যাটিকান সিটি উভয়েরই প্রধানের দায়িত্ব পালনকারী পোপ ফ্রান্সিসের প্রকৃত নাম জর্জ মারিও বেরগোগলিও। ক্যাথলিক গির্জার ২৬৬তম এবং ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ তারিখে সপ্তদশ বেনেডিক্ট হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। ফ্রান্সিস আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রথম নির্বাচিত কোন পোপ। ১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আইরেসে জন্মগ্রহণ করেন ফ্রান্সিস। রোমান ক্যাথলিক যাজকদের প্রশিক্ষণ কলেজে প্রথমে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। এর আগে কিছুদিন রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ ও ‘নৈশ ক্লাব বাউন্সা’ হিসেবে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৯ সালে ক্যাথলিক পুরোহিত হিসেবে অভিষেক হয় ফ্রান্সিসের।

এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে পোপ ফ্রান্সিস মিসরের আল আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমেদ আল তাইয়েবের সঙ্গে বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার সম্বলিত এক যৌথ ইশতেহারে সই করেছেন। আগে থেকেই তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকা কট্টর ধর্মগুরুরা এ ঘটনায় আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ৭১ বছর বয়সী ভ্যাটিক্যানের পদচ্যুত যে সাবেক উচ্চপদস্থ ধর্মগুরু প্রচারপত্র প্রকাশ করেছেন তার নাম কার্ডিনাল গেরহার্ড মুলার। পদচ্যুতির আগ পর্যন্ত (দু’বছর আগে) তিনি জার্মানিতে ‘কংগ্রেগেশন ফর দা ডক্ট্রিন অব দ্য ফেইথের’ প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার লিখিত ‘ম্যানিফেস্ট অব ফেইথ’ নামের প্রচারপত্রটি আগেই বিভিন্ন খ্রিস্টান ধর্মীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাতে তারিখ লেখা ১০ ফেব্রুয়ারি। ১০ ফেব্রুয়ারি সাবেক পোপ বেনেডিক্টের পদত্যাগ দিবস। কট্টরপন্থি খ্রিস্টান ধর্মগুরুরা তাকে গভীরভাবে সম্মান করে। কার্ডিনাল মুলারের ভাষ্য, এরকম একটি প্রচারপত্র লেখার জন্য তাকে বারবার অনুরোধ করে আসছিলেন অনেকেই। ‘ডকট্রিন অব ফেইথের’ বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে তিনি প্রচারপত্রটি রচনা করেছেন। তার অভিমত, ‘ভ্যাটিক্যানের কিছু নেতা সেসব মানুষকে প্রকৃতপক্ষে ত্যাগ করেছেন যারা তাদের উপর আস্থা রেখেছিল। তারা বিশ্বাসীদের অবস্থান নড়বড়ে করে দিয়েছেন। তাদের বিশ্বাসের ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।’ তবে ‘ম্যানিফেস্ট অব ফেইথের’ কোথাও পোপ ফ্রান্সিসের নাম উল্লেখ করা নেই। কিন্তু সেসব কাজের সমালোচনা করা হয়েছে যা পোপ ফ্রান্সিস করেছেন। আবার খ্রিস্টান ধর্মীয় এমন সব রীতিনীতিকে সমর্থন করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে অবস্থান ঘোষণা করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। এসবের মধ্যে রয়েছে যাজকদের কৌমার্য্য মেনে চলা থেকে শুরু করে নারীদের ধর্মগুরুর পদে নিয়োগ না দেয়ার মতো শর্ত শিথিলের বিষয়।

মুলার ভ্যাটিক্যানের সেসব কট্টরপন্থি ধর্মগুরুদের একজন যারা প্রকাশ্যে পোপ ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে দিকভ্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তারা মনে করেন, পোপ ফ্রান্সিস ক্যাথলিক ধর্মের নীতিগত অবস্থানকে দুর্বল করে ফেলছেন। তিনি সমকামিতা ও বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয়গুলোকে হালকাভাবে দেখেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো সামাজিক সমস্যাগুলোর বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেন।

বিশ্বভ্রাতৃত্ব নিশ্চিতের যে যৌথ ইশতেহারে পোপ ফ্রান্সিস স্বাক্ষর করেছেন তাতে আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন এ কট্টরপন্থি ক্যাথলিক ধর্মগুরুরা। তাদের বিশ্বাস, ‘ইসলামের মূল লক্ষ্য পশ্চিমকে ধ্বংস করা।’ ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে একজোট হওয়া ধর্মগুরুদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ধর্মগুরু রেমন্ড লিও বার্ক। ২০১৪ সালে ভ্যাটিক্যানের শীর্ষস্থানীয় একটি পদ থেকে তাকে পদাবনতি দেয়া হয়।