• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী

পারলে পদত্যাগ করতাম

পদত্যাগে চীনের চাপের কথা প্রত্যাখ্যান কারি ল্যামের

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

রাজনৈতিক সংকটের সূচনা করে নিজেই ‘ক্ষমার অযোগ্য বিপর্যয়’ ডেকে এনেছেন, এমন আক্ষেপ করে সুযোগ থাকলে পদত্যাগ করতেন বলে মন্তব্য করেছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। গত সপ্তাহে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এমন মন্তব্য করেন তিনি। রয়টার্স।

১৩ সপ্তাহ আগে প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে চলমান হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভ এখন গণতন্ত্রের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের বৈঠকে ওই ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে প্রধান নির্বাহী লাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার, হংকংয়ের অস্থিরতা ও আঞ্চলটির উত্তেজনা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয় হয়ে যাওয়ায় এ সংকট সমাধানে তার ক্ষমতা ‘অত্যন্ত সীমিত’ হয়ে পড়েছে। যদি সুযোগ থাকত প্রথমেই আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতাম।’ লামের নাটকীয় ও কখনও কখনও বেদনামিশ্রিত মন্তব্যগুলোতে হংকংয়ের অস্থিরতা নিয়ে তদন্তরত চীনা নেতৃবৃন্দের চিন্তা-ভাবনা সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। ১৯৮৯ সালে তিয়ানয়ানমেন স্কয়ারের প্রতিবাদের ঘটনার পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে হংকং । চীনের মূলভূখন্ডে বন্দী প্রত্যর্পণের সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত একটি বিল বাতিলের দাবিতে গত জুন থেকে হংকংয়ে টানা আন্দোলন চলছে। কখনও কখনও সহিংস হয়ে ওঠা ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে লাম প্রথমে প্রস্তাবিত বিলকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ওই বিল সম্পূর্ণ বাতিল করার দাবি জানিয়েছে, যা প্রত্যাখ্যান করেছে লামের সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হংকংয়ের তিন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রবল চাপের মুখে লাম ওই বিল বাতিল করতে চাইছেন, কিন্তু বেইজিংয়ের আপত্তিতে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বেইজিং বিক্ষোভ দমনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়নি বলে ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানিয়েছেন লাম। এমনকি ১ অক্টোবর জাতীয় দিবস উদ্যাপনের আগে সংকট সমাধানের জন্য কোন সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। হংকংয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোন পরিকল্পনাও বেইজিংয়ের নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। কোন ইস্যু যখন ‘সার্বভৌমত্ব ও নিআপত্তার মতো জাতীয় পর্যায়ে’ উঠে যায় তখন সরকারের হাতে থাকা বিকল্পগুলোও কমে যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি। লাম আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাহীর রাজনৈতিক সুযোগ, দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাকে সংবিধানের অধীনে থাকা দুই প্রভুকেই সেবা দিতে হয়, কেন্দ্রীয় জনগণের সরকারকে ও হংকংয়ের জনগণকে, রাজনৈতিক সুযোগ ভয়ানকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে।’ লামের মন্তব্যের ২৪ মিনিটের রেকর্ডিং তাদের কাছে আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

লাম ‘হংকংয়ের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে’ বৈঠক করে চলছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে করা বৈঠকটি ওই অনেকগুলোর ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠকের’ একটি ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সকে লামের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে দুটি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হন যেখানে ব্যবসায়ীরাও ছিল এবং দুটিই একান্ত বৈঠক ছিল। ‘তাই ওই অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধান নির্বাহী কী বলেছেন তা নিয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে নেই আমরা’ বলে জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র। চীনের মন্ত্রিসভার অধীনস্ত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা চীনের হংকং এবং ম্যাকাও সম্পর্কিত দফতর ‘স্টেট কাউন্সিল’ এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে করা প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি। এমনকি স্টেট কাউন্সিলের তথ্য দফতরও রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোন জবাব দেয়নি বলে জানা গেছে।