• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭, ৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডব

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যাবে

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ২২ মে ২০২০

image

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সুন্দরবনসহ দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। রাজ্যটির রাজধানী কলকাতায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে শুরু করে। এর আগে সুপার সাইক্লোন থেকে দুর্বল হয়ে মঙ্গলবার ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয় এটি। সুন্দরবনের ওপর দিয়ে ভারতের দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়টি।

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শুরুর পর স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের দফতর নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবের ভয়াবহতা বর্ণনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা । ঝড়ের তাণ্ডবলীলা বোঝাতে গিয়ে বারবারই তিনি রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বলে আনন্দ বাজার জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই ২৪ পরগনা ধ্বংস হয়ে গেছে... বাড়িঘর, নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে, ফসলের মাঠ ভেসে গেছে।’ তখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার কথা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের কমপক্ষে ৫ লাখ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ায় প্রাণহানি কমেছে। তারপরও কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কলকাতার রিজেন্ট পার্কে দেয়াল চাপা পড়ে এক নারী ও তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও দু’জনের মৃত্যু সংবাদ মিলেছে। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় নুরজাহান বেওয়া নামে ৫৬ বছর বয়সী এক নারী গাছ ভেঙে পড়ে এবং গোপাল ভূঁইয়া নামের ৩২ বছরের এক তরুণ ঝড়ে উড়ে আসা কিছুর আঘাতে মারা গেছেন। বসিরহাট-২ ব্লকের ২০ বছর বয়সী মোহান্ত দাস নামের এক যুবক গাছ পড়ে এবং হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় লক্ষ্মীকুমার সাউ নামে বছর তেরোর এক কিশোরী বাড়ির টিনের চাল ভেঙে মারা গেছে। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে মাটির বাড়ি চাপা পড়ে ৫৮ বছরের ছবিরানি শিট নামের এক নারীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। এছাড়া পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে আরও তিন জন মারা গেছেন। দেশটির অপর সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আম্ফান করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব থেকেও বেশি ক্ষতি করেছে এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব ব্যানার্জি জানান, রাত পর্যন্ত কলকাতায় ২৪৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি সাগর থেকে স্থলে উঠে আসতে শুরু করে। সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে আম্ফান। এ সময় বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার থাকলেও দমকা ও ঝড়ো হওয়া কখনো কখনো ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যায়। কলকাতার দমদম এলাকার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়।

ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টি কলকাতায় তাণ্ডব চালানোর পর উত্তরপূর্বে নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের দিকে এগিয়ে গেছে বলে সঞ্জীব জানিয়েছেন। কলকাতা শহরে প্রায় তিন শতাধিক গাছ ভেঙে পড়েছে ও বহু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে বলে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে। সুন্দরবনে ভারতীয় বন দপ্তরের বিভিন্ন ক্যাম্প জলোচ্ছ্বাসের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জেটি ভেঙে যাওয়ায় সাগরদ্বীপ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা, গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, ভাঙড় ও বসিরহাটসহ বহু এলাকায় প্রচুর ঘরবাড়ি, ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট জেলায় প্রায় ১০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকা থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ স্থান সরিয়ে নেয়া হয়। উড়িষ্যায় সরানো হয় এক লাখ বাসিন্দাকে। এতে বহু মৃত্যু এড়ানো গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অব্যাহত বৃষ্টি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছানো যায়নি বলে মমতা জানিয়েছেন। এর আগে মে মাসে একদিনে কলকাতায় এত বৃষ্টি আর হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পাওয়া না গেলেও শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। মহামারী করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চাপে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আরও গভীর সংকটে পড়ল। ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ও দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।