• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

পশ্চিমবঙ্গই কি মোদিকে ক্ষমতায় ফেরাবে!

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

image

নরেন্দ্র মোদি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী বুথফেরত জরিপের ফলাফলে ক্ষমতাসীন বিজেপি-এনডিএ জোটের ব্যাপক জয়ের আভাস পাওয়া গেছে। তবে কি উত্তরপ্রদেশে অপেক্ষাকৃত খারাপ ফলের ঘাটতি এবার পশ্চিমবঙ্গই মেটাবে!?

গত ১১ এপ্রিল শুরু হওয়া সাদ দফার এ ভোটযুদ্ধ শেষ হয়েছে গত রোববার (১৯ মে) ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ২৩ মে (বৃহস্পতিবার) । এ ফলাফলকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ভারতের কমপক্ষে ৭টি বুথফেরত জরিপের ফলাফলে একসুরে দাবি করা হয়েছে, দ্বিতীয়বারের জন্য কেন্দ্রের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স)। ৫৪৩ আসনের ভারতীয় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যে কোন রাজনৈতিক দলের ২৭২টি আসন দরকার। সেখানে যে জরিপে বিজেপি একক দল হিসেবে সবথেকে কম আসন পাচ্ছে, সেখানেও ২৬০ আসনে জেতার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। আর সবচেয়ে বেশি জয়ের সম্ভাবনায় এ জোট পাচ্ছে ৩৬৫টি আসন। জরিপে দেখা যাচ্ছে, একমাত্র কর্নাটক ছাড়া দক্ষিণ ভারতে বিশেষ সুবিধে করতে পারছে না বিজেপি। রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে আঞ্চলিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। ভারতে সবচেয়ে বেশি আসন যে রাজ্যে, হিন্দি বলয়ের রাজধানী সেই উত্তরপ্রদেশেও সমাজবাদী পার্টি (সপা) বহুজন সমাজ পার্টির (বসপা) মহাজোটের কারণে বিজেপি ভালো ফল করতে পারবে না বলেই জরিপে ধরা পড়েছে। তবে এ ক্ষতি নাকি পুষিয়ে দেবে পূর্ব ভারতের দুটি রাজ্য ওডিশা এবং পশ্চিমবঙ্গ। ওডিশায় এবার নাকি ৯টি আসন পেতে পারে বিজেপি। আর পশ্চিমবঙ্গে কমপক্ষে ১১ থেকে ১৬টি আসন। এ অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা আরও বেড়ে ২২টি আসন পর্যন্ত গড়াতে পারে। এমনও শোনা যাচ্ছে যে, এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়েও বেশি আসন পেতে পারে বিজেপি। কারণ, গত ৮ বছরের অপশাসনের কারণে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। যা বিশেষ করে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং বহু এলাকায় বিরোধীদের প্রার্থী দিতে না দেয়ায় সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যদিও বুথফেরত (এক্সিট পোলের) ফল ঘোষণার পরই এক টুইটার বার্তায় বলেন,? ‘এসব জরিপের গল্পে আমার বিশ্বাস নেই। আসল ছক হলো গুজব ছড়িয়ে ইভিএমগুলো বদলে দেয়া। কাজেই সব বিরোধী দলের প্রতি আমার আবেদন, একজোট থাকুন, শক্ত থাকুন, সাহস রাখুন। আমাদের একসঙ্গে এ লড়াই লড়তে হবে।’

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ গুজব রীতিমতো জোরদার হয়েছে যে, নির্বাচনের ফল খারাপ হবে ধরে নিয়েই বিজেপি কৌশলে নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে থাকা সব ইভিএম বদলে দেয়ার চেষ্টা করবে। তাই মমতার নির্দেশেই গণনা কেন্দ্রের ওপর নজর রাখছেন তৃণমূল কর্মীরা। এদিকে জাতীয় স্তরের বিরোধী নেতাদের অনবরত টেলিফোন আসছে মমতার কাছে। মমতা সবাইকেই একই আশ্বাস দিচ্ছেন, ২৩ মে সরকারিভাবে ফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত তিনি হাল ছাড়তে রাজি নন। অপরদিকে তেলুগু দেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুও গত সোমবার কলকাতায় গিয়ে মমতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দিল্লিতেও বিরোধী শিবিরে ব্যস্ততা বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আবার কোন কোন রাজনীতিবিদ তাদের হতাশা প্রকাশে নিজেকে বিরত রাখতে পারেননি। যেমন, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা। এদিন সবক’টি বুথফেরত জরিপেই মোদি ও বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা দেখার পর তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেন, সব জরিপের ফল ভুল হতে পারে না। এখন সময় টেলিভিশন বন্ধ করে ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেরিয়ে গিয়ে ২৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করা। এবং দেখা, পৃথিবী তখনও ঘোরে কিনা। তবে বুথফেরত জরিপের অসারতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচনে জরিপের ফল ও প্রকৃত ফলের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস বুথফেরত জরিপের সব ফল ভুল। গত সপ্তাহ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৬টি জরিপ সংস্থা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ভারতে ভোটাররা সমীক্ষকদের প্রশ্নের সঠিক জবাব দেন না। কারণ, তারা ভয় পান, প্রশ্নকর্তা সরকারের পক্ষের কেউ হতে পারে। আমি ২৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’ তবে বুথফেরত জরিপের ফলে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ভারতের শেয়ার বাজার। গুঞ্জন উঠেছে, বাজারকে তেজি করতে ইচ্ছাকৃতভাবেই বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে জরিপের ফলাফল। আপাতত আরও দু’দিন শেয়ার বাজার এরকম চাঙ্গাই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।