• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমজান ১৪৩৯

পরমাণু চুক্তি চালু রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারলো না ইইউ

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

image

মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পর এবার গুয়েতেমালায়ও তার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করল। ছবিতে গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বামে) ও তার স্ত্রী সারার সঙ্গে গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট জিম্মি মোরালেস (ডানে) ও তার স্ত্রী হিলদা প্যাট্রিসিয়া মার্রোকুইন ফিতা কেটে নতুন দূতাবাস উদ্বোধন করছেন -দ্য গার্ডিয়ান

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা থেকে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে নিশ্চয়তা (গ্যারেন্টি) দিতে পারল না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ সদর দফতরে গত মঙ্গলবার এ চুক্তি ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে বৈঠকে বসে ইরান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এতে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে ইউরোপ কীভাবে নিজস্ব সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোন আভাস পাওয়া যায়নি। এদিকে গতকাল বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সরকারপ্রধানরা পরমাণু চুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব তুলে ধরে নিজেদের মূল্যায়ন পেশ করবেন।

ইরানের আবেদন নাকচ করে পশ্চিমা মিত্রদের অনুরোধ ও তদবিরকে পাশ কাটিয়ে পরমাণু চুক্তি থেকে গত ১১ মে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ চুক্তি বাতিল করার পর থেকেই ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইউরোপ, চীন ও রাশিয়া এই চুক্তি চালু রাখার সদিচ্ছা প্রকাশ করলেও বাস্তবে তা সম্ভব হবে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জরিফ বেইজিং ও মস্কো সফর করে মঙ্গলবার ব্রাসেলসে গিয়ে এ চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা ইইউ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মর্মে আশ্বাস পেলেও কোন সুনিশ্চিত নিশ্চয়তা আদায় করতে পারলেন না তিনি।

এদিনের বঠকের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি বলেন, ‘আমাদের এক আত্মীয় হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার বিভাগে রয়েছেন, এ বিষয়ে আমরা একমত। আমরা তাকে যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে বার করে আনতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে সবাই মিলে বর্তমান সমস্যার বাস্তব সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাব। ইরান কীভাবে তার পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস বিক্রি চালিয়ে যাবে, ব্যাংকিং ক্ষেত্রে লেনদেন কীভাবে চালু রাখা হবে এবং ইরানে ইউরোপের বিনিয়োগ কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে- এসব প্রশ্নগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তবে মোঘেরিনি স্বীকার করেন, এ মর্মে কোন আইনি নিশ্চয়তা দেয়া এ মুহূর্তে সম্ভব নয়। এদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস বলেন, যাবতীয় সমস্যা সত্ত্বেও পরমাণু চুক্তি রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে আমাদের। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ এ বৈঠক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ইউরোপের পক্ষ থেকে চান। তার মতে, সূচনা ইতিবাচক হলেও আগামী কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহের ওপর সবকিছু নির্ভর করবে। তবে সেই প্রচেষ্টা বিফল হলে ইরানও চুক্তি বাতিল করে পরমাণু কর্মসূচি আরও জোরালোভাবে শুরু করার হুমকি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া পরমাণু চুক্তি চালু রাখা কত কঠিন হবে, মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ঠিক আগে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। তেহরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ চাপালে সে ধাক্কা হয়তো সামলানো সম্ভব। কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখলে ইইউভুক্ত বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনলে ইউরোপের পক্ষে কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন খোলাখুলি এ সমস্যার উল্লেখ করেন। তবে মার্কিন চাপের মোকাবিলা করতে ইইউ পালটা পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনররা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি বাতিল করা ছাড়াও জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তর এবং ইউরোপ ও চীন থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর শুল্ক চাপানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার ফলে ইউরোপে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে।