• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৪০

পরমাণু আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে সময় বেঁধে দিলেন কিম

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

image

কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

পরমাণু ও অন্যান্য ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ওয়াশিংটনকে সময় বেঁধে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি তৃতীয় দফার সম্মেলনে বসতে রাজি আছেন। তবে তার জন্য অবস্থান পরিবর্তন করে ওয়াশিংটনকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরতে হবে। আর সে জন্য তিনি এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও দ্বিধা করবেন না। পিয়ংইয়ংয়ের ১৪তম জাতীয় পরিষদের সভায় কিম জং উন এমন মন্তব্য করেন। গতকাল উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও বিবিসি। দেশ দুটির আলোচনার বিরতিতে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বেড়েছে। তৃতীয় সম্মেলনে বসার অপেক্ষার এ সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন যথার্থ অবস্থানে ফিরলে আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কিম। এদিনের পরিষদ সভার ভাষণে কিম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি ‘স্বচ্ছ’ ও ‘উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য’ একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আহ্বান জানান যা তাদের দু’দেশের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে গত বছর প্রথমবারের মতো সিঙ্গাপুরে এ দুই শীর্ষ নেতা মিলিত হন। এরই ধারবাহিকতায় ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সম্মেলনটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়ায় ভেস্তে যায়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক ইস্যুসহ নানা বিষয়ে চলতি বছরের শেষ সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সময় দিতে আগ্রহী কিম। তার প্রত্যাশা, এতে করে যুক্তরাষ্ট্র আরও ইতিবাচক ও নমনীয় হবে। কিম জং উন বলেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তার গতানুগতিক চিন্তাধারার ইতি টানতে হবে। পিয়ংইয়ং-এর কাছে আসতে তাদের নতুন করে ভাবতে হবে। এদিকে গত মার্চে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন, উত্তর কোরিয়া হয়তো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সেটি উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিও হতে পারে। শঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ, সানুমডং নামের সংশ্লিষ্ট স্থানটিতে আগে থেকেই উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইল মোতায়েন করা রয়েছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার এমন প্রস্তুতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে হতাশাজনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া যাতে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণা পরিহার করে তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ দিয়ে আসছে। দেশটির ওপর দীর্ঘদিন ধরে বলবৎ রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এ পিরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সিঙ্গাপুরে এক ঐতিহাসিক সম্মেলনে মিলিত হন। সেখানে চূড়ান্ত কোন সমঝোতা না হলেও দুই পক্ষ আবারও মিলত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হয় ট্রাম্প-কিম দ্বিতীয় সম্মেলন। কিন্তু সেখান থেকেও সুনির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা আসেনি।

সম্প্রতি জানা যায়, উত্তর কোরিয়া সোহায়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মূল স্থাপনার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। গত বছর ওই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জিত না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। সোহায়ের পর খবর এলো সানুমডংয়ের। স্যাটেলাইটে তোলা ছবি থেকে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়া সানুমডংয়ে বড় বড় গাড়ি পাঠিয়েছে। গাড়িগুলো স্যাটেলাইট বা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চপ্যাডের কাছে নিয়ে যেতে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। সানুমডংয়ে উত্তর কোরিয়া স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে না কি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলেছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত রকেট ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার জন্য খুব একটা কার্যকর নয়। এটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যদি সেটা হয়ে থাকে তাহলেও তা ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সমঝোতার খেলাপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার এমন পদক্ষেপের বিষয়ে বলেছেন, ‘এ দাবি যদি সত্য হয় তাহলে আমি বিস্মিত হবো।

কারণ তার সঙ্গে আমার যে সমঝোতা হয়েছে সেটার সঙ্গে এ বিষয়টি যায় না। আমি খুবই হতাশ হবো, যদি আবার তারা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করে।’ দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নিয়োজিত বিবিসির সাংবাদিক লরা বিকার মন্তব্য করেছেন, ভিয়েতনামে আশাব্যাঞ্জক কোন সমঝোতা না হওয়ার প্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে এ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এরমধ্যেই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ওয়াশিংটনকে সময় বেঁধে দেয়ার কথা বললেন কিম জং উন।