• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ ১৪৩৯

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পক্ষে ইসরায়েলি পুলিশ

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে দেশটির পুলিশ বিভাগ। গত মঙ্গলবার দেয়া বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এ বাহিনী জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের পৃথক দুটি মামলায় অভিযোগ গঠন করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। এদিকে পুলিশের এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ অ্যাখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আগের বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মতো এগুলোও ‘কোন কিছু ছাড়াই শেষ হবে’ বলেও মন্তব্য তার। বিবিসি।

৬৮ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে তার অবস্থান ১২ বছরের। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েক দফা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের একটিতে বলা হচ্ছে, নেতানিয়াহু তার সম্পর্কে ইতিবাচক প্রচারের বিনিময়ে গণমাধ্যম ইয়েদিয়ত আহারনতকে অন্যদের চেয়ে বেশি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করেন। একই ঘটনায় গণমাধ্যমটির সম্পাদক আরনন মোজেসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য পুলিশের। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নেতানিয়াহু ২০০৯ সাল থেকে হলিউডের প্রভাবশালী ব্যক্তি আরনন মিলচেন ও অন্য সমর্থকদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ লাখ ইসরায়েলি মুদ্রা সমপরিমাণ উপহার নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ পুলিশের। এসব উপহারের মধ্যে শ্যাম্পেন ও সিগার আছে বলে জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মিলচানকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এসব উপহার নেন বলে দাবি ইসরায়েলি এ গণমাধ্যমের। একই অভিযোগে ফাইট ক্লাব, গন গার্ল ও দ্য রেভনেন্টের মতো নামকরা হলিউডি চলচ্চিত্রের প্রযোজক মিল চেনকেও বিচারের মুখোমুখি করতে চায় ইসরায়েলি পুলিশ। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, উপহার নিয়ে নেতানিয়াহু হলিউডি প্রযোজককে আইনি সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিদেশ ফেরত কোন ইসরায়েলি দেশে বসবাস শুরু করলে তাকে ১০ বছরের কর রেয়াত দেয়ার যে সুযোগ রয়েছে তা মিল চেনকে পাইয়ে দিতে সুপারিশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় পরে নেতানিয়াহুর এ প্রস্তাব আটকে দেয়।

এদিকে অস্ট্রেলীয় ধনকুবের জেমস প্যাকার জড়িত এমন এক ঘটনায় নেতানিয়াহুর জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গেরও সন্দেহ করছে পুলিশ। গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল টেনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যাকার তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারাকে উপহার দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে কমপক্ষে ৭ বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলেও ভাষ্য দেশটির গণমাধ্যমের। তবে বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশ চাইলেও দুর্নীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিচার শুরু হবে কিনা সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কখনো কখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কয়েক মাসও লাগতে পারে। অপরদিকে ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী আয়েলেত শেকেড বলেছেন, অভিযোগ দায়ের হলেই কোন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য নন। ইসরায়েলি টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহুও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী বছরের নভেম্বরে দেশটিতে পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের অবস্থাও দুর্বল। যদিও টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই দুর্নীতির অভিযোগের কারণে জোটে ভাঙন কিংবা আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই বলে জানান। তিনি বলেন ‘কয়েক বছর ধরে কমপক্ষে ১৫ দফা অনুসন্ধান বা তদন্তের মুখোমুখি হয়েছি আমি। এর কোন কোনটি আজ রাতের মতো তীব্র পুলিশি সুপারিশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। যদিও এসব চেষ্টার ফল কিছুই হয়নি। এবারও তাদের এ চেষ্টা কোন কিছু ছাড়াই শেষ হবে’ বলে বিশ্বাস করেন তিনি। দুই দশক আগে প্রথম দফা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া উপহার রাষ্ট্রকে না দিয়ে নিজেদের কাছে রেখে দেয়ার অভিযোগ আনে পুলিশ। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এ দম্পতির বিরুদ্ধে তাদের ব্যক্তিগত কাজ করা এক ঠিকাদারের পরিসেবার বিল সরকারের নামে করার অভিযোগ আনা হয়। পরে এ দুটি অভিযোগই তুলে নেয়া হয়।