• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০

নৃশংস হামলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার!

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার ভয়াবহ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ মিনিট ধরে লাইভ স্ট্রিম (সরাসরি সম্প্রচার) করেছে বন্দুকধারী। সেখানে নিজের পরিচয়ও দিয়েছে সে। জানিয়েছে, তার নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। বয়স ২৮ বছর। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ সে। ইতোমধ্যেই ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামে একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারী পৃথক হামলা চালায়। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস অ্যাভিনিউতে আল নুর মসজিদ এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদের কাছ থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। এ হামলায় সর্বশেষ ৪৯ জনের প্রাণহানি হওয়ার তথ্য জানা গেছে। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের দাবি, ভয়াবহ হামলার সে দৃশ্য লাইভ স্ট্রিম করে বন্দুকধারী। পরে তা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়ে।

হাতে থাকা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে সে ক্রামগত গুলি ছুড়তে থাকে। হামলাকারীর হেলমেট ক্যামেরায় গুলির দৃশ্য ‘লাইভ’ সম্প্রচার করেছে। প্রায় ১৭ মিনিটের ওই লাইভে অটোমেটিক রাইফেলধারী ওই ব্যক্তি নিজের নাম বলেছেন ‘ব্রেন্টন ট্যারেন্ট’। ২৮ বছর বয়সের উগ্র জাতীয়তাবাদী শ্বেতাঙ্গ এ হামলাকারীর জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চের ডিন্স অ্যাভিনিউতে আল নুর মসজিদের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ‘লাইভ’ শুরু হয়। একটি ড্রাইভওয়ের কাছে সে গাড়ি পার্ক করে। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রচুর গুলি দেখা যায়। সেখানে পেট্রল ভর্তি কয়েকটি ক্যানও ছিল। ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মসজিদের দিকে হাঁটতে শুরু করে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মসজিদে ঢোকার পথেই সে একজনকে গুলি করে। ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে। সে বেশ কয়েকবার তার সেমি-অটোমেটিক রাইফেলটিতে গুলি ভরে এবং এলোপাতাড়ি গুলি করে। এভাবে প্রায় তিন মিনিট ধরে গুলি করার পর সে মসজিদের সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। রাস্তার দিকে যাওয়ার সময় সে আশপাশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও সরিয়ে নিতে কাজ করছে কেন্টাবুরি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে ওই ভিডিও শেয়ার না করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, ‘ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনার চরম বিপর্যয়কর ভিডিওগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে পুলিশ সচেতন এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে কাজ করছে।’

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফুটেজের বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। এ ফুটেজ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে পুলিশ। ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীর ফেইসবুক ও ইনস্ট্রাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলার কথা জানিয়েছে। টুইটার থেকেও ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট মুছে দেয়া হয়েছে। আইসিটি প্রোভাইডার স্পার্ক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমন মৌটার জানান, ওই ভয়াবহ ফুটেজ বিতরণের চেষ্টাকারী ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দেয়ার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারীদের ছড়ানো সে বিদ্বেষমূলক ফুটেজ বিতরণের চেষ্টাকারী ওয়েবসাইট বন্ধে স্পার্ক এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমাদের ধারণা, এতে আমাদের গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা হবে।’ স্পার্ক এর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু পিরি বলেছেন, প্রযুক্তি কর্মীরা ওই ফুটেজ বিতরণকারী তিনটি প্রাথমিক সাইট শনাক্ত করেছেন। এ ধরনের সাইটগুলো বন্ধে ইন্টারনেট প্রোভাইডারাও একযোগে কাজ করছেন।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের শহরের গ্রাফটনে বেড়ে ওঠা ব্রেন্টনের পড়ালেখার প্রতি তেমন কোন আগ্রহ ছিল না। উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সুযোগ বা কর্মকা-ও তাকে টানত না। ব্রেন্টনের বাবা ছিলেন একজন পুরোপুরি অ্যাথলেট, যিনি ২০১০ সালে ক্যান্সারে মারা যান। মা এখনও জীবিত, পরিবারের অন্য সদস্যরা বাস করছেন নিউ সাউথ ওয়েলসে।