• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৯ রমজান ১৪৩৯

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার তদন্ত

নিরাপত্তা পরিষদের নিষ্ফল বৈঠক

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

image

গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে গত সোমবার অর্ধশতাধিক প্যালেস্টাইনি নিহতের ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ডাকা বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। এতে অংশ নেয়া বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্রই এদিনের গণহত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানালেও তাতে ভেটো দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে ফলাফল ছাড়াই শেষ হয় এ বৈঠক। কুয়েতের আহ্বানে পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে জাতিসংঘ সদর দফতরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত সোমবার গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অর্ধশতাধিক প্যালেস্টাইতি নিহত হন। আহত হন দুই সহস্রাধিক প্যালেস্টাইনি। এরপর কুয়েতের আহ্বানে মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে প্যালেস্টাইন বিষয়ক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয়া বেশিরভাগ দেশই জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের সমালোচনা করেন। এবং গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে এর নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। এ সময় নিরস্ত্র প্যালেস্টাইনিদের ওপর ইসরায়েলের তাজা গুলি ব্যবহারের সমালোচনা করা হয়। এদিনের বৈঠকে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সমন্বয়ক নিকোলাই ম্লাদেনোভ গাজা আহত প্যালেস্টাইনিদের চিকিৎসার জন্য এ উপত্যকা থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিতে মিসর ও ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত প্যালেস্টাইনি জনগণের ওপর ইসরায়েলের নির্বিচার গুলিবর্ষণের নিন্দা জানান এবং এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তবে ইসরায়েলের প্রতি সবাই নিন্দা জানালেও সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে গিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি গাজায় সহিংসতার জন্য ইসরায়েলে কোনও দোষ নেই বলে জানান। এসময় ওই সহিংস ঘটনার জন্য হামাসকে দায়ী করেন তিনি। ভেটো প্রদানকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের কারণেই মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া তো দূরে থাক সামান্য নিন্দা প্রস্তাবও পাশ না করেই বৈঠক শেষ হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে প্যালেস্টাইনিদের কাছ থেকে জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ওই অবৈধ শহরেই নিজের দূতাবাস খুলল যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ গাজা পরিস্থিতি

এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, তার দেশ ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সহিংসতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। গত মঙ্গলবার দেশটির কর্তৃপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিনষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে, বিশেষ করে মধ্যস্থতাকারী ও সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আহ্বান জানায়। সোমবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অর্ধশতাধিক প্যালেস্টাইনি নিহত হওয়ার পর পরদিন এ আহ্বান জানায় দেশটি। এদিন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, প্যালেস্টাইনি নিহত হওয়ার ঘটনায় রাশিয়া খুবই উদ্বিগ্ন। তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারও মুক্তিকামী প্যালেস্টাইনি। এ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট হলে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেও দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মে জেরুজালেমে দূতাবাস খোলে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ।