• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ৯ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘দ্বিতীয় দফায়’ করোনা প্রকোপের আশঙ্কা

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০

image

করোনা মহামারীর প্রথম দফা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা দক্ষিণ কোরিয়া এবার ‘দ্বিতীয় দফায়’ ভাইরাসটির প্রকোপে পড়ার আশঙ্কা করছে। পূর্ব এশিয়ার এ দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বিনোদন কেন্দ্রগুলো আবারও বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। এদিকে লকডাউন শিথিল হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে পশ্চিম ইউরোপের দেশ জার্মানিতে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রবার্ট আরকেআই ইনস্টিটিউট দৈনিক বুলেটিনে জানিয়েছে, সংক্রমণের হার ১ দশমিক ১ এ পৌঁছেছে। রয়টার্স।

গতকাল সোমবার সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ^জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা৪১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭জন। আর মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৮৩ হাজার ৯শ’ ৯২জন। পাশাপাশি ১৪ লাখ ৯৯হাজার ৪শ’ ৫জন। এদিকে বার্তা সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, লকডাউন থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার সময়টিতেই দক্ষিণ কোরিয়ায় একলাফে নতুন ৩৪ জনের নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্র সংস্থা কেসিডিসি (কোরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন)। গত ৯ এপ্রিলের পর দেশটিতে আক্রান্তের এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। আক্রান্তদের অধিকাংশই রাজধানী সিউলের ইতেওন নাইট ক্লাব, পানশালা থেকে সংক্রমিত হয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এটি মোকাবিলায় দেশটি বিশে^ সাফল্যের দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণ ১০ বা তার নিচে নেমে আসে। গত ১০ দিনেও দেশটিতে তেমন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেই লকডাউন শিথিল করে সরকার। খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছিল স্কুল এবং ব্যবসা বাণিজ্যও। এরই মধ্যে নতুন করে সংক্রমণ ছড়ায় এক তরুণের কাছ থেকে। তিনি সিউলের নাইট ক্লাবে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে তার ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ তথ্য প্রকাশের পরই গত রোববার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মুন সতর্ক করে বলেছেন, একগুচ্ছ মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণই বলে দিচ্ছে ‘এ ভাইরাস একেবারে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর শেষ নেই। ’ যে কোনো সময়ই ব্যাপকভাবে এর বিস্তার ঘটতে পারে।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সজাগ না থাকলে চলবে না। আমরা একটি দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমি সবাইকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

কোরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ- প্রিভেনশন (কেসিডিসি) বলছে, নতুন আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে ২৪ জনই আক্রান্ত হয়েছেন ওই তরুণের মাধ্যমে। ওই ক্লাবগুলোতে গেছেন এমন প্রায় ১ হাজার ৯০০ জনকে এখন খুঁজছে কেসিডিসি। এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে তারা। ক্লাবগুলোতে যারাই গেছেন তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা ও ভাইরাস পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে। নতুন সংক্রমণের পর শনবারই নাইটক্লাব ও বারগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন শহরের মেয়র। একই সঙ্গে লকডাউনের কড়াকড়িগুলো আবার আরোপ করা হবে কিনা তাও ভেবে দেখছে সরকার।

অপর এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, জার্মানিতে করোনাভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংক্রমণ ঘটানোর হার (রিপ্রোডাকশন রেট) বেড়েছে। রোগীরা এখন গড়ে একজনের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করছেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে, জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা আবারও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সংক্রমণের হার ১ এর নিচে রাখতে হবে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

বিশ্বে প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্তের দিক দিয়ে জার্মানি সপ্তম স্থানে আছে। রবার্ট আরকেআই ইন্সটিটিউট রোববার জানিয়েছে, দৈনিক নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৭ জন বেড়ে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮১ জনে। আর দৈনিক মৃত্যু ২৬ জন বেড়ে মোট মৃতের সংখ্যা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৫ জন। এমন পরিস্থিতেতে গত শনিবার লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেয়ার দাবিতে জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভে সমবেত হয় কয়েক হাজার মানুষ। তাদের অনেকেই আরো দ্রুত লকডাউন তোলার দাবিও জানায়। এরপরই সংক্রমণের নতুন হারের এ খবর এল। কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে জার্মানি প্রশংসা কুড়ায়। বৃহৎ পরিসরে এ রোগের পরীক্ষা করা এবং কার্যকর লকডাউনের কারণে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর চাইতে জার্মানিতে ভাইরাসে মৃত্যু কম হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দেশটিতে গত ২০ এপ্রিল প্রাথমিকভাবে লকডাউন কিছুটা শিথিলের ঘোষণা দিয়ে ছোট ছোট দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার ১৬ রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল আরেক ধাপে নিয়ম কানুন শিথিলের ঘোষণা দেন। দোকান, বাজার খোলার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাধানিষেধ তুলে নিয়ে আরো বেশি দোকনপাট খুলে দেয়া হয়। স্কুলও ধীরে ধীরে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। ফেডারেল স্তরেও কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে নিজ পরিবারের বাইরে অন্য একটি পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে মানুষের মেলামেশার অনুমতি দেয়া হয়।

এদিকে জার্মানির এক স্যোশাল ডেমোক্র্যাট এমপি ও দেশটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, বাইরে এত মানুষের এ সমাবেশের ফলে করোনাভাইরাস আবার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করতে পারে।

তবে গত বুধবার লকডাউনের বিধিনিষেধ আরো বেশি শিথিলের ঘোষণা দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন চ্যান্সেলর মার্কেল। তবে বিধিনিষেধ শিথিল করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে কড়াকড়ি আবার চালু করার ব্যবস্থাও রেখেছেন তিনি।

এ ব্যবস্থায় প্রতি ১ লাখ মানুষে সংক্রমণ ৫০ জনের উপরে চলে গেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আবারও কড়াকড়ি আরোপ করতে পারবে।