• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

তালেবানের সঙ্গে নতুন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র!

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

আফগানিস্তানের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের প্রধান মার্ক এসপার জানিয়েছে, আফগানিস্তানে এক সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা। সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এরই মধ্যে গত দুই সপ্তাহে সশস্ত্র এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির তিন পাকিস্তানি নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি আরেকটি গোষ্ঠীর অবস্থানেও প্রাণঘাতী অভিযান চালিয়েছে আফগান বিশেষ বাহিনী। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার গোপন চুক্তি অনুযায়ী এ অভিযান চালানো হচ্ছে। আল-জাজিরা, বিবিসি, এপি।

৯/১১ হামলার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে উৎখাত করতে শুরু করা যুদ্ধে প্রায় দুই লাখ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৮ বছর ধরে চলা এ যুদ্ধের ইতি টানতে গত কয়েক বছর ধরে তালেবানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এদিকে সংবাদ মাধ্যম এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। খুব শীঘ্রই এটি কার্যকর হবে এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদেরও সরিয়ে নেয়া হবে। চুক্তিতে উভয়পক্ষের সম্মতির কথা জানা গেলেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত কোন ঘোষণা আসেনি। তবে এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে এ নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আফগানিস্তানের একমাত্র সমাধান রাজনৈতিক চুক্তি। আর সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে। শীঘ্রই এ নিয়ে আরও বিস্তারিত জানানো যাবে।

সম্প্রতি আফগান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তালেবানের সঙ্গে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এতে শর্ত সাপেক্ষে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরুর কথা বলা হয়েছে।

অপরদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্য মূলত সাত দিনের একটি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হলে এ থেকে পরবর্তীতে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সুগম হবে।

চুক্তিতে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা যেমন থাকবে তেমনি তালেবানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিশ্চয়তাও দেয়া হবে। এছাড়া আফগানিস্তানের মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সরকারের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করবে তালেবান।

এছাড়ও সংবাদমাধ্যম বিবিসির গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধ অবসানে সম্প্রতি তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত শুক্রবার মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে এ জানিয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহাতে ২০১৮ সাল থেকে আলোচনা শুরু করে দুই পক্ষ। ওই আলোচনায় পাকিস্তান ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

সম্প্রতি পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠীর নেতা শেহরিয়ার মাসুদকে আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে হত্যা করা হয়। আফগান তালেবান থেকে বের হয়ে যাওয়া এ নেতাকে হত্যা করতে তার বাড়ির পাশে পুঁতে রাখা হয় রিমোট কন্ট্রোল বোমা। নিজ গোষ্ঠীর মধ্যে তার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও ওই গোষ্ঠীর বিশ্বাস এই হত্যাকা-ের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা। এর আগে এই মাসে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মারা যায় পাকিস্তানি তালেবানের দুই কমান্ডার। এছাড়া গত সপ্তাহে পাকিস্তানি গোষ্ঠী হিজবুল আজহারের অবস্থানে নাঙ্গাহার প্রদেশে হামলা চালায় আফগান বাহিনী।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবান আলাদা গোষ্ঠী। তারা উভয়েই নিজ নিজ দেশে হামলা চালিয়ে থাকে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তালেবান বিরোধী অভিযান শুরুর পর গোষ্ঠীটির কোন কোন অংশ আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে আফগান তালেবানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের সমর্থন ঠেকাতে এর কোন কোন গোষ্ঠীর অভ্যন্তরে সংযোগ স্থাপন করেছে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী।

বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এছাড়াও উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর হয়ে আরও সহস্রাধিক ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে দেশটিতে।