• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৫ জুন ২০১৮, ১ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ রমজান ১৪৩৯

তবে কি ভুল করলেন ট্রাম্প!

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

image

কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিমের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাত দশকেরও বেশি সময়ের ওয়াশিংটন- পিয়ংইয়ং কূটনৈতিক টানাপড়েনের অবসান হয়েছে গত মঙ্গলবার। এদিন সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে এ দুই শীর্ষ নেতা যে ঐতিহাসিক বৈঠকে করেন, সেখানে শুধু আশ্বাসের ভিত্তিতে উত্তর কোরিয়াকে অপ্রত্যাশিত ছাড় দিয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার ট্রাম্পের ঘোষণায় আঞ্চলিক সহযোগীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

গত মঙ্গলবারের ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠককে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ বিপুল সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘প্ররোচনা’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে তা বন্ধ রাখার যে আভাস তিনি দিয়েছেন, সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন যুগের সম্ভাবনাকে ঘিরেও দেশটির বিপুল প্রত্যাশা জেগে উঠেছে।

উত্তর কোরিয়ার প্রাপ্তিতালিকা আরও দীর্ঘ। কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার করে পিয়ংইয়ং নিরাপত্তা গ্যারেন্টির প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পেরেছে। সম্পর্কের উন্নতি হলে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। যথেষ্ট অগ্রগতি হলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্যও প্রত্যাহার করতে চান তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ ফলাও করে এ বিষয়গুলোর উল্লেখ করেছে। আর তাই কোন স্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নরম মনোভাবের কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে ইতোমধেই। বিশেষ করে ট্রাম্প যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যয়ভারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অনেক মহল এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গোটা অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ বজায় রাখতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতির গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সৈন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প নিজে এক টুইট বার্তায় শীর্ষ বৈঠকের সাফল্য তুলে ধরেছেন। তার মতে, এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে পৃথিবী এক পরমাণু বিপর্যয় থেকে সরে এলো। তিনি কিম জং উনয়ের প্রশংসা করে লেখেন, তিনি তার দেশের মানুষের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে প্রথম সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সরকারও সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার আকস্মিক ঘোষণার বিস্ময় প্রকাশ করেছে। দেশটির অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এর মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে উত্তর কোরিয়া তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পেরেছে। পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে সমান মর্যাদা নিয়ে তারা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সামরিক মহড়া বন্ধ করাতেও সফল হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গতকাল সিউল পৌঁছেছেন। আজ তিনি প্রেসিডেন্ট মুন এবং পরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরবেন। এ দুই সহযোগী দেশকে আশ্বস্ত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন গত মঙ্গলবারই এক বিবৃতি প্রকাশ করে।

তবে কোন কোন বিশেষজ্ঞের মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতাকে সৌজন্য, প্রশংসা ও একতরফা ছাড় দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটির ওপর নতুন ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছেন। এতদিন শুধু পিয়ংইয়ংয়ের উপরেই নানা পদক্ষেপ নেবার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো। ট্রাম্প কিম উনয়ের প্রতি আস্থা দেখিয়ে তাকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করতে চান। কিম স্পষ্টতই জানেন, তিনি সেই পথে অগ্রসর না হলে ট্রাম্প ক্রোধের বশে অনেক কিছু করে বসতে পারেন। ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্প্রতি জি-৭-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের প্রতি যে আচরণ করেছেন, তার আলোকে চট করে তাকে ক্ষুব্ধ করতে চাইবেন না কিম, এমনটাই প্রত্যাশা অনেকের।