• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টার ৪০ মাসের কারাদণ্ড

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

সাড়ে তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে হওয়া তদন্তে আইনপ্রণেতাদের মিথ্যা বলা, তাদের কাজে বাধা দেয়া এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার দায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা রজার স্টোনকে ৪০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি মার্কিন আদালত। বিবিসি।২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার সন্দেহভাজন আঁতাত নিয়ে তদন্তে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মধ্যে স্টোন ষষ্ঠ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলেছে, এসব অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরেই দোষী সাব্যস্ত হন স্টোন। এরই ধারবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার বিচারক অ্যামি বারম্যান জ্যাকসনের সাজার মেয়াদ জানান। কারাদণ্ডের পর স্টোনকে দুই বছর নজরদারির মধ্যেও থাকতে হবে। বিচারক তাকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা এবং ২৫০ ঘণ্টার ‘কমিউনিটি সার্ভিস’ দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।রায় দেয়ার সময় বক্তব্যে বিচারক জ্যাকসন বলেন, স্টোন তাকে হুমকি দিয়েছিলেন ও ভীতি প্রদর্শন করেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা আইনের শাসনের ক্ষেত্রে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আদালত এসব ক্ষেত্রে চুপ করে বসে থাকতে এবং ‘রজার রজারের মতো আচরণ করেছে’ এমনটা বলতে পারেন না।’ এ নারী বিচারক আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্টের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য স্টোনের বিচার হয়নি, বিচার হয়েছে প্রেসিডেন্টের কাজকর্ম ঢেকে ফেলার জন্য। স্টোনের বিরুদ্ধে মামলায় মার্কিন বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপকেও ‘অভূতপূর্ব’ বলে অ্যাখ্যা দেন তিনি। ৬৭ বছর বয়সী ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টোন বিকল্পধারার সংবাদ মাধ্যম উইকিলিকসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিন্মকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটিকে মিথ্যা বলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক নথি ফাঁস করে আলোড়ন তোলা ওয়েবসাইট উইকিলিকস ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়া ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের কিছু ইমেইল ফাঁস করে । ‘বিধ্বংসী’ ওই ইমেইল ফাঁসের ঘটনা ট্রাম্পের জয়ে ভূমিকা রেখেছিল বলে অধারনা অনেকের। হিলারির ওই ইমেইলগুলো রুশ হ্যাকাররা চুরি করেছিল বলে ভাষ্য মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের।

এদিকে বৃহস্পতিবার রায় হলেও স্টোনকে এখনই কারাগারে যেতে হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি। তার আইনজীবীদের করা একটি আপিল আবেদনের সুরাহার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। গত নভেম্বরে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিচার বিভাগের কৌঁসুলিরা ট্রাম্পের সাবেক এ উপদেষ্টাকে ৭ থেকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার আবেদন করেন। বিচারক জ্যাকসন তাতে সাড়া না দিয়ে সোয়া তিন বছরের সাজা দেন। গত সপ্তাহে কৌঁসুলিরা সাবেক উপদেষ্টার ৭ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত সাজা চাওয়ার পরপরই ট্রাম্প একে ‘বিচ্ছিরি ও অন্যায্য’ অ্যাখ্যা দেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিচার বিভাগও জানায়, স্টোন এমন সাজা পেলে তারা তা কমানোর পদক্ষেপ নেবে। এ ঘোষণার পর বাদীপক্ষের ৪ কৌঁসুলির সবাই পদত্যাগ করেন। এমনকি একজন বিচার বিভাগও ছেড়ে দেন।

বৃহস্পতিবার রায়ের পরও ট্রাম্প তার সাবেক এ উপদেষ্টার পক্ষ নিয়েছেন। তবে এখনই স্টোনকে ক্ষমা করে দেয়ার কোন পরিকল্পনা নেই বলেও আভাস দেন মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট। নেভাদার লাস ভেগাসে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘রজারকে মুক্তি দিতে পছন্দ করব আমি। এটি ঘটতে দেখলেও আনন্দিত হব। কেননা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তার প্রতি অবিচার হয়েছে।’