• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

ইরান ইস্যু

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা খর্বের প্রস্তাব পাস সিনেটে

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব সিনেটে পাস হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের যুদ্ধ করার ক্ষমতা খর্বের এ প্রস্তাবটি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ৫৫-৪৫ ভোটে অনুমোদিত হয়। রয়টার্স।

বার্তা সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডার কাশেম সোলেইমানিকে হত্যার কয়েক সপ্তাহ পর সিনেটে বিলটি পাস হলো। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্বের এ প্রস্তাবে দেশটির ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের বেশ কয়েকজন সিনেটর অন্য সদস্যদের বিপক্ষে অবস্থান নেন। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সিনেটের এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। প্রেসিডেন্টের ভেটো খারিজ করতে হলে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে।

বৃহস্পতিবার পাস হওয়া বিলটি তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে ‘ভুল বার্তা’ দেবে বলে মন্তব্য করেছেন কট্টর রিপাবলিকানদের কেউ কেউ। এ প্রসঙ্গে সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিম রিসচ বলেছেন, ‘আমাদের দৃঢ়তার বার্তা পাঠানো দরকার; দুর্বলতার নয়।’

প্রস্তাবটির উত্থাপক বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর টিম কেইন বলেছেন, উচ্চকক্ষের এ ভোট কংগ্রেসের সামর্থ্য দেখাল। এতে সেনা মোতায়েনের যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের গুরুত্বও প্রতিফলিত হয়েছে।

সিনেট ভোটের পর এক সংবাদ সম্মেলনে কেইন বলেন, ‘বিলটি তার (ট্রাম্প) টেবিলে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে তাকে জানানো যে, আমরা আমাদের সংসদীয় আসনের জনগণের কথা শুনছি। আমরা তাকে বলছি- নতুন একটি যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা হবে সাংঘাতিক ভুল।’

এদিকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কিরকুক প্রদেশের একটি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কে-১ ঘাঁটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোন হতাহতের তথ্য জানা যায়নি। ইরাকি ও মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এএফপি ।

এদিনের হামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরাকের শিয়া আইনপ্রণেতারা। গত ৩ জানুয়ারি এ আইনপ্রণেতারা ইরাকে থাকা পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা বহিষ্কারের পক্ষে ভোট দেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে বলেছে, এর আগে কে-১ ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর। তখন প্রায় ৩০টি রকেট হামলা হওয়ার পর নিহত হয় এক মার্কিন ঠিকাদার। এ হামলার জন্য ইরানের ঘনিষ্ঠ ইরাকি গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহকে দায়ী করে তাদের অবস্থানে পাল্টা হামলা চালায় ওয়াশিংটন। নিহত হয় গোষ্ঠীটির প্রায় ২৫ সেনা। এরও কয়েক দিনের মাথায় বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ও কাতাইব হিজবুল্লাহর সহপ্রতিষ্ঠাতা আবু মাহদি আল মুহান্দিসকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।

কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের শোক শেষ হওয়ার ধারবাহিকতায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত আটটা ৪৫ মিনিটের দিকে কে-১ ঘাঁটিতে আবারও রকেট হামলার ঘটনা ঘটলো। হামলার পরপরই ওই এলাকায় খুব নিচ দিয়ে মার্কিন সামরিক বিমান উড়তে দেখা গেছে। নতুন এ হামলার পর এ অঞ্চলে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন সেনা অবস্থান থাকা ইরাকের দুটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। হামলার আগেই সেনাসদস্যদের সতর্ক করায় এতে কেউ নিহত হয়নি বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে যে, একশোরও বেশি সেনা মস্তিষ্কে আঘাত পেয়েছে।

ওই ঘটনার পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি থেকে বিরত রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে ইরাকি রাজনীতিতে মেরুকরণ ঘটে চলেছে।