• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান আরব লীগের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সংস্থা আরব লীগ। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এ চুক্তিতে প্যালেস্টাইনিদের ‘অধিকার ও আকাক্সক্ষার ন্যূনতম প্রতিফলন’ও নেই। গত শনিবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে ডাকা আরব লীগের এক জরুরি সভার পর এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানান আরব লীগের নেতারা। আল- জাজিরা।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিতর্কিত শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এ পরিকল্পনা ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা। তবে শুরু থেকেই এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে প্যালেস্টাইন। আরব লীগও জরুরি বৈঠক ডেকে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে শনিবার। এদিনের বিবৃতিতে বলা হয়, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মার্কিন প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে না আরব দেশগুলো। এমনকি বল প্রয়োগ করে ইসরায়েলেরও এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত হবে না। এ সমস্যা সমাধানে ‘দুই রাষ্ট্র নীতি’ প্রস্তাব করে আরব লীগ। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলিরা গাজার পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করার আগে প্যালেস্টাইনের যে সীমান্ত ছিল, সে ভিত্তিতে প্যালেস্টাইনের সীমানা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের রাজধানী করার কথা বলা হয়।

গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় হোয়াইট হাউজে বহু প্রতীক্ষিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ১৮১ পৃষ্ঠার ওই প্রস্তাবনা প্রকাশের সময় তার পাশে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ঘটনার পরই এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে আরব দেশগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য আরব লীগের জরুরি সভা ডাকেন প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। শনিবার আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এ সভায় আব্বাস বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছে, ট্রাম্প ওই প্রস্তাবনা আমাকে পাঠাতে চায় যেন আমি তা পড়ি। আমি তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি। ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনেও কথা বলতে বলা হয়েছে আমাকে। আমি ‘না’ করেছি। তিনি আমাকে চিঠি পাঠাতে চেয়েছেন, সেটাও আমি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাই।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণাও দেন আব্বাস।

ইসরায়েলের অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’। পাশাপাশি স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের প্রস্তাব করে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এ প্রস্তাব প্যালেস্টাইনিদের জন্য শেষ সুযোগ।’ অপরদিকে, প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এসব পরিকল্পনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখান করেন। টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে বলতে চাই, জেরুজালেম বিক্রির জন্য নয়। আমাদের অধিকার বিক্রির জন্য নয়। এ নিয়ে দর কষাকষির কোন সুযোগ নেই। আপনাদের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার পরিকল্পনা ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন দুই পক্ষের জন্যেই সুবর্ণ সুযোগ। দুই রাষ্ট্রের জন্যই এটি একটি বাস্তববাদী সমাধান, যা প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রের অধিকার ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা দুটিই রক্ষা করবে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলের অংশকে সার্বভৌম বলে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের একটি খসড়া মানচিত্রও তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি এ মানচিত্র অনুযায়ী, প্যালেস্টাইনের অঞ্চল আকারে আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হবে। পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম হবে প্যালেস্টাইনের রাজধানী। সেখানে একটি মার্কিন দূতাবাসও প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, তার এ পরিকল্পনা প্যালেস্টাইনিদের জন্য ‘নিজস্ব একটি স্বাধীন রাষ্ট্র’ অর্জনের সুযোগ। তবে কীভাবে তা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ‘কোন প্যালেস্টাইনি বা ইসরায়েলিকে তাদের ঘর থেকে উচ্ছেদ করা হবে না।’ তার মানে পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলিদের সরানো হবে না। প্যালেস্টাইনিদের জন্য বরাদ্দ অঞ্চল নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে চার বছর আলোচনা করতে পারবে প্যালেস্টাইনি। ওই চার বছর প্যালেনস্টাইনিরা এ পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা ও ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে পারবে। এভাবেই প্যালেস্টাইনিরা অর্জন করবে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র।

এ পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই গাজায় বিক্ষোভ শুরু করেন প্যালেস্টাইনিরা। তবে ট্রাম্পের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বিবাদ নিরসনে এ শান্তি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৫ সালে আরব দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সহযোগী সংস্থা আরব লীগ। বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, লিবিয়া, লেবানন, মিসর, প্যালেস্টাইন, ইরাক, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়াসহ ২২টি দেশ এ সংস্থার সদস্য।