• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

করোনাভাইরাস মোকাবিলা

ট্রাম্পের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা ওবামার

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২০

image

প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ধরনের তৎপরতা দেখিয়েছেন, তার কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণায় গত শুক্রবার রাতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়ার সময় ওবামা এসব সমালোচনা করেন। এদিকে করোনা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে ওবামার করা সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। সিএনএন।

মহামারী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চলে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ লাখ ১ হাজার ৫৩৬ জন। এরমধ্যে মারা গেছে ২ লাখ ৮০ হাজার ৪৩৫। এদিকে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে এ সমালোচনা করেন। বাইডেনের নির্বাচনী প্রচার ও প্রশাসনে কাজ করা সাবেক কর্মীদের উৎসাহিত করতে এদিনের দেয়া বক্তব্যে করোনা মহামারী মোকাবিলায় বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া পদক্ষেপগুলোকে ‘চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা। এ সময় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সাড়া দিচ্ছে তার জন্য ট্রাম্প তার প্রশাসনকে যেভাবে চালাচ্ছেন তাও অংশত দায়ী বলেও জানান ওবামা।

ডেমোক্র্যাট সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এমনটা হলে সরকারের সেরাটা দিয়েও ফল খারাপই হতো। যখন সরকার পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি হয় ‘আমার জন্য এতে কী আছে’ আর ‘অন্যরা চুলোয় যাক’, তখন এ ধরনের চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ বিপর্যয়ই দেখা যাবে।’ এ সময় মার্কিন বিচার বিভাগ দেশটির সাবেক জাতীয় ?নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিডিও কনফারেন্সের কথোপকথনে ওবামা তারও সমালোচনা করেছেন।

অপরদিকে করোনা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে ওবামার করা সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভূতপূর্ব পদক্ষেপসমূহ যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য নাগরিকের জীবন বাঁচিয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃত্যু ৭৯ হাজার ছুঁইছুঁই করছে। আক্রান্ত-মৃত্যুর এ সংখ্যা বিশ্বের অন্য যে কোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মতে, দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ৯ হাজার ১৫৯। আর মারা গেছেন ৭৮ হাজার ৭৯২ জন।

সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশটির বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্য লকডাউন দিলেও অর্থনীতি সচলে সম্প্রতি অনেক অঙ্গরাজ্যই বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে করোনার সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প নতুন এ করোনাভাইরাসকে ‘বড় ধরনের ঝুঁকি’ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ ছিলেন। সে সময় ভাইরাস দ্রুতই নিঃশেষ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি এসে কোভিড-১৯ এর বিপদের ভয়াবহতা স্বীকার করে নেন তিনি। এরই ধারাবািহিকতায় এপ্রিলে আক্রান্তদের সারিয়ে তুলতে তাদের দেহে জীবাণুনাশক প্রয়োগেরও পরামর্শ দেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তার এ পরামর্শকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্স ভেঙে দেয়ারও ঘোষণা দেন। পরে তিনি সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বলেন, টাস্ক ফোর্স থাকবে, তবে এখন থেকে তাদের মনোযোগ থাকবে মার্কিন অর্থনীতিকে আবারও সচল করার দিকে।

ফাউসিসহ শীর্ষ ৩ মার্কিন বিশেষজ্ঞ স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে

এদিকে প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামনের সারিতে থাকা ডা. অ্যান্থনি ফাউসিসহ দেশটির তিন শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে গেছেন। প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্রের বরাতে এ তথ্য জানা যায়। রয়টার্স।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট শনাক্ত ৪০ লাখ কোভিড-১৯ রোগীর এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাষ্ট্রের। এ পর্যন্ত যে পৌনে তিন লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাদের এক-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিলেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে রয়টার্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস এর পরিচালক অ্যান্থনি ফাউসি হোয়াইট হাউজের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দেশটির সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে তিনি নিজেই ‘সীমিত কোয়ারেন্টিনে’ থাকার কথা জানান। হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তার বরাতে সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, ওই তিন বিশেষজ্ঞ হোয়াইট হাউসের একজন কর্মীর সংস্পর্শে আসেন, পরে যার মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।