• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

ট্রাম্পের দাবি চীনের তৈরি মার্কিন গোয়েন্দাদের না

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৩ মে ২০২০

image

বিশ্বের প্রায় ২শ’ নয়টির মতো দেশ ও অঞ্চলে মৃত্যুষজ্ঞ চালানো প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি না প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্ট- এ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর বিতর্ক চলছে। একদিকে এ ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ প্রতিদিনই বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে করোনা নিয়ে চলছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভি, ফরেন পলিসি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উৎপত্তি ও এর মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে তুমুল কথার লড়াই চলছে।

নতুন করোনাভাইরাস চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইয়ের রাজধানী শহর উহানের ল্যাবে তৈরি বলে সম্প্রতি জোরালো দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ জন্য বেইজিংয়ের কাছ থেকে বড় অংকের ক্ষতিপুরণও আদায় করে ছাড়বেন বলে হুমকি দেন তিনি। উত্তর আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে পূর্ব এশিয়ার দেশ চীন।

তবে এবার নিজেদের প্রেসিডেন্টেরই এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করল খোদ মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার তারা জানিয়েছে, নতুন নভেল করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়ে ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপ-মহাদেশ অস্টেলিয়াও করোনা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানায়। এতে বেইজিং ক্ষুব্ধ হওয়ায় পরে নিজেদের অবস্থান পাল্টে শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, চীনের উহান শহরের গবেষণাগারে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার তিনি বলেন, মহামারী কীভাবে শুরু হয়েছে তা বোঝার জন্যই তদন্তের আহ্বান জানান আর তা থেকে সৃষ্ট দ্বিধা বিশ^জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গবেষণাগার তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে।

এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) হোয়াইট হাউজের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মহামারী আকারে ছ­ড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাস চীনের উহানের পরীক্ষাগারের সংযোগ থাকার ‘প্রমাণ দেখেছেন’ বলে জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর তা দেখার পর চীনা ল্যাবরেটরিতে ভাইরাসটির উৎপত্তি নিয়ে অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন বলে জানান তিনি। এসময় ভাইরাসের বিপদ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না জানানোয় চীনের বিরুদ্ধে আরও শুল্ক আরোপেরও হুমকি দেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, ‘উহানের পরীক্ষাগারই যে করোনাভাইরাসের উৎস, আপনি কি এ বিষয়ে উচ্চমাত্রার আত্মবিশ্বাস দেয় এমন কিছু দেখেছেন,’Ñ ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ‘প্রমাণ দেখার’ কথা জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে সম্মত হননি। তার এ দাবির সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের মতভেদ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

একইদিন (বৃহস্পতিবার ) দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কার্যালয় বিরল এক বিবৃতিতে নতুন করোনাভাইরাস ‘মানব সৃষ্ট’ নয় বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ জানায়, বিজ্ঞানসম্মতভাবে ভাইরাসটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এতদিন ধরে তদন্ত করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে, করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি নয় বা জিনগত ভাবে এর কোনো পরিবর্তন ঘটানো হয়নি। যদিও ভবিষ্যতেও গোয়েন্দারা এ ভাইরাসের উৎস নিয়ে তদন্ত করে যাবেন বলে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে তারা আরও জানায়, দেশের পুরো গোয়েন্দা বিভাগ পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে।

এর কিছু সময় পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেভাবে চীনের গণসংযোগ সংস্থার মতো কাজ করেছে, সেজন্য তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।’ ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ এমন তথ্য তুলে ধরেছে।

সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বিরুদ্ধে একের পর এক বাক্যবাণ ছুড়লেও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিয়ে কিছু বলছেন না। যাকে আগে বেশ কয়েকবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন। এরই ধারাবহিকতায় বুধবার পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, মার্চের শেষদিকে দুই নেতার ফোনালাপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে ওই ‘যুদ্ধবিরতি মনে হয় শেষ হয়ে এসেছে’।

এরই ধারাবহিকতা শুক্রবার ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন কোনও প্রমাণ নেই যাতে আভাস পাওয়া যায় যে ভাইরাসটির উৎপত্তি চীনের গবেষণাগারে হয়েছে। যদিও এন পরিস্থিতিতে কোনও কিছুই উড়িয়েও দেয়া যায় না। ’ তিনি বলেন, আমরা জানি এটা চীন থেকে শুরু হয়, আরও জানি এটা উহান থেকে শুরু হয়। সেখানকার একটি বণ্যপ্রাণী বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু এ বিষয়টি আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে করোনার মহামারী নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানান স্কট মরিসন।

এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, বেইজিং ভাইরাসটি নিয়ে তথ্য গোপন করেছে। এর জেরে পুরো বিশ্বে ৩২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার মানুষের। এবং এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী চীন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলোজি ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগটি বরাবর অস্বীকার করে আসছে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞও বিশ্বাস করে থাকেন ভাইরাসটি উহানের একটি বণ্যপ্রাণী বিক্রি হওয়া বাজার থেকে সৃষ্টি হয়। আর সেখান থেকেই তা পশু থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে।

বাদুড় কিংবা বনরুই (প্যাঙ্গোলিন) থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। করোনায় সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অর্থনীতিকে ফেলে দিয়েছে ভয়াবহ মন্দায়। দেশটিতে ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় শুরুর দিকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়া রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট আগেরদিনই রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নতুন করোনাভাইরাস বিষয়ে বিশ্বকে ‘চীনের আরও আগে জানানো উচিত ছিল’ মন্তব্য করেন।

আগামী ৩ নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে হারাতে বেইজিং ‘সম্ভব সবকিছুই করতে পারে’ বলেও অনুমান তার।