• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

ট্রাম্পের আয়কর বিবরণী প্রকাশের আলটিমেটাম ডেমোক্র্যাটদের

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

image

ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ছয় বছরের আয়কর বিবরণী প্রকাশের জন্য দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগকে আলটিমেটাম (সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে) দিয়েছেন দেশটির বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা। গত শনিবার মার্কিন কংগ্রেসের বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একদল সদস্য আগামী ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এটি আইনপ্রণেতাদের কাছে সরবরাহের জন্য রাজস্ব বিভাগকে সময় বেঁধে দিয়েছে। রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এমন পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পথে এগোচ্ছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতারা। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই আয়কর বিভাগকে সতর্ক করে দিয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড নীল। তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিলের মধ্যে আইনপ্রণেতাদের কাছে ট্রাম্পের গত ছয় বছরের আয়কর বিবরণী সরবরাহ না করলে বিষয়টিকে কংগ্রেসের প্রতি রাজস্ব বিভাগের অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতারা মূলত ট্রাম্পের গত ছয় বছরের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক আয়কর বিবরণী দেখতে আগ্রহী। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের কমিশনার চার্লস রেটিগের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড নীল। এক বিবৃতিতে নীল বলেন, আমাদের সরকার এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের গণতন্ত্রের উপর আস্থা বজায় রাখতে আমেরিকান জনগণকে এ বিষয়টি আশ্বস্ত করা উচিত যে, তাদের সরকার সঠিকভাবে কাজ করছে। বিশ্বের সব সব দেশেই যার আয় বেশি তাকে আয়কর দিতে হয় বেশি। তবে আয়করের বিস্তারিত বিবরণী গোপন রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন অনেকে। ট্রাম্পও সে কাজটিই করেছেন। কিন্তু ২০১৭ সালে দেশটির একটি টেলিভিশন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুরনো একটি আয়কর নথি ফাঁস করে দিয়ে আলোড়ন তোলে। ওই নথিতে বলা হয়, ২০০৫ সালে ৩৮ মিলিয়ন ডলার আয়কর দিয়েছেন ট্রাম্প। ওই বছর তিনি তার আয়কর বিবরণীতে আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। নথিতে দেখা যায়, ওই বছর ট্রাম্প যে পরিমাণ আয়কর দিয়েছেন সেটি তার মোট উপার্জনের ২৪ শতাংশ। সাধারণত মার্কিনীরা গড়ে যে পরিমাণ আয়কর দেন, এটি তার চেয়েও বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ আয়ের নাগরিকরা গড়ে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ আয়কর দেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আয়কর তার তুলনায় কম।

মার্কিন টেলিভিশন এমএসএনবিসি ট্রাম্পের ওই আয়কর বিবরণী প্রকাশ করায় সেসময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় হোয়াইট হাউজ। কারণ ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প তার আয়কর বিবরণী প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে যারা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন, তারা সবসময় নিজেদের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করে থাকেন। ১৯৭৬ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা এ রীতি পালন করে আসছেন। যদিও আইন অনুযায়ী এর কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ট্রাম্প প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙেছেন। এমন পরিস্থিতিতে চিঠি দিয়ে ট্রাম্পের আয়কর বিবরণী চাওয়ার পর এবার এ বিষয়ে রাজস্ব বিভাগকে সময় বেঁধে দিয়েছেন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতারা।