• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭, ১৪ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

ট্রাম্পরে ভূমকিার তীব্র সমালোচনা ওবামার

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২০

ভারতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছঁইছুঁই। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গতকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগের দিন শনিবার দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৩ হাজার ৩২০ জনের শরীরে এ ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। এনডিটিভি।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে দেশটির সংবাদ মাধ্যমটি বলেছে, গতকাল রোববার দুপুরে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছুঁইছুঁই করছে এবং মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে ২ হাজার ১০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিন রোববার সুস্থ হওয়ার হার ছিল ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। সেখানে আগের শনিবার সুস্থ হওয়ার হার বেড়ে ২৯ দশমিক ৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি লোকজনের ক্রমশ সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও বাড়ছে। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যা অন্তত ১৭ হাজার ৮৪৭। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনাবিষয়ক বিশেষ দূত ড. ডেভিড ন্যাবারো শুক্রবার এনডিটিভির সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে ভারতে আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে এ ভাইরাস আরও প্রবল মহামারী রূপ নেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ প্রতিনিধির মতে, ভারতে জারি করা বিদ্যমান লকডাউন উঠে গেলেই করোনা সংক্রমণের সংখ্যা আরও দ্রুত হারে বাড়বে। তবে এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। ন্যাবারো আরও বলেন, ‘লকডাউন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে যে খুব দ্রুত হারে ওই রোগের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। অর্থাৎ, দেশের সব জায়গাতেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থাকবে। আমি নিশ্চিত যে আগামী জুলাই মাসের শেষের দিকে গোটা দেশে করোনা সংক্রমণের মাত্রা শিখরে পৌঁছবে। তবে তারপর থেকে আশা করা হচ্ছে পরিস্থিতি ভালোর দিকে ঘুরবে।’

মহারাষ্ট্রে ট্রাক উল্টে ৫ শ্রমিক নিহত

এবার দেশটির মধ্য প্রদেশের রাজধানী শহর মহারাষ্ট্রে আম বহনকারী একটি ট্রাক উল্টে পাঁচ আভিবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। গত শনিবার গভীর রাতে এ দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদিকে আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এনডিটিভি।

মহারাষ্ট্রে রেললাইনের ওপর ঘুমিয়ে থাকা ২০ অভিবাসী শ্রমিকের একটি দলের ১৬ জন মালবাহী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ার দুই দিন পর ট্রাক দুর্ঘটনায় ভারতে আরও পাঁচ অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হলো। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, শনিবার গভীর রাতে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে ট্রাকটি উল্টে যায়। হায়দ্রাবাদ থেকে ২০ অভিবাসী শ্রমিক ওই ট্রাকটিতে উঠেছিলেন। তারা মধ্যপ্রদেশের ঝাঁসি শহর ও উত্তর প্রদেশের একটি শহরে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

ট্রাকটি নরসিংপুরের একটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় উল্টে যায় বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে একজন শ্রমিকের কোভিড-১৯ এর লক্ষণ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি সব শ্রমিকের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে।

এদিকে মহারাষ্ট্রে ট্রেনের নিচে প্রাণ হারানো শ্রমিকরাও রাজ্যটির জালনা থেকে ১৫৭ কিলোমিটার দূরে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভুসাবলের নিজ এলাকার ফেরার চেষ্টা করেন। রেললাইন ধরে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে ছিলেন তারা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ক্লান্তিতে একসময় রেললাইনের ওপরই ঘুমিয়ে পড়েন। লকডাউনের মধ্যে ট্রেন আসবে না এমন ধারণাই ছিল তাদের। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারগুলো আটকা পড়া এ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ নিজ গন্তব্যে পাঠাতে বিশেষ ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা করা উদ্যোগ নিলেও অনেক শ্রমিকই হেঁটে নিজ ঠিকানায় ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে জারি করা লকডাউনের মধ্যে নিজ রাজ্য ছেড়ে কাজের খোঁজে ভিন্ন রাজ্যে গমন করা ভারতের কয়েক লাখ অভিবাসী শ্রমিক ও দিনমজুর সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। কাজ হারানোর পাশাপাশি নগদ অর্থ না থাকায় আশ্রয় হারিয়েছেন তারা, প্রয়োজনীয় খাবারটুকুও জুটাতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকশ’ কিলোমিটার আবার কখনো বা হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করছে তারা। এমনটি করতে গিয়ে কখনো ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও হাঁটার ক্লান্তিতে আবার কখনো দুর্ঘটনায় অনেক শ্রমিক প্রাণ হারাচ্ছেন।