• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোন আলোচনা নয়

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

image

হাসান রুহানি

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাকে ঘিরে হোয়াইট হাউজ প্রত্যাশিত আলোচনায় ইরান অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এ উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানালে তার জবাবে বিদ্যমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার উপযোগী নয় বলে জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট। রাজধানী তেহরানে গত সোমবার আলেম ও ধর্মীয় নেতাদের এক সমাবেশে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি তার দেশের এমন অবস্থান পরিষ্কার করেন। পার্স টুডে, জেরুজালেম পোস্ট, রয়টার্স।

এদিন ওই সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, সংকট সমাধানে আলোচনার বিষয়ে তার দেশের ঐতিহ্য রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোন ধরনের আলোচনায় বসবে না তেহরান। তার ভাষায়, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সংলাপ ও কূটনীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি কিছুতেই (আমেরিকার সঙ্গে) আলোচনার অনুমতি দেব না।’ তেহরানের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি যখন নিউইয়র্ক সফর করেন তখন পাঁচ বিশ্বনেতা তাকে আলোচনার আহ্বান জানান। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। রুহানি বলেন, এ মুহূর্তে পরিস্থিতি মোটেও আলোচনার অনুকূল নয়। আজ আমাদের নীতি হচ্ছে প্রতিরোধ ও দৃঢ় মনোবল প্রদর্শন করা। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের মোকাবিলায় ইরান সরকার ও জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে বলেও এ সময় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রুহানি। এদিকে ইরানের প্রতি কঠোর সতর্কতা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান ধ্বংস হয়ে যাবে। উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েনের পর এমন হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন তেহরানের মধ্যে উত্তেজনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আশা করি না। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাও দেশ দুটির মধ্যকার এ উত্তেজনা নিরসনে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। এর মধ্যেই গত রোববার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি যুদ্ধ চায় তাহলে তা হবে দেশটির আনুষ্ঠানিক পতন। যুক্তরাষ্ট্রকে আর কোন হুমকি দিও না।’

গত ২০১৫ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি) ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে গত বছর ওয়াশিংটন বের হয়ে যায়। এরই অংশ হিসেবে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার বর্ষপূর্তির দিনে (৮ মে) চুক্তি থেকে আংশিকভাবে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। এরপর ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে উগসাগরীয় এলাকায় বিমানবাহী রণতরী ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন এমন পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ শুরুর অভিযোগ এনেছে।

গত বছর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আটবার আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয় ইরানকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ওই সব আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।