• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৪ রমজান ১৪৪০

আসন্ন লোকসভা নির্বাচন

জাতীয়তাবাদী জোয়ারকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০১৯

image

ভারতের আসন্ন ১৭তম লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গিবাদ দমনে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে নয়াদিল্লির চালানো সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে জেগে ওঠা জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় ভারতের আধা-সামরিক বাহিনী এসপিআরএফ (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। প্রায় যুদ্ধাবস্থা পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়ে জঙ্গি ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। সেটিকে ঘিরেই জেগে উঠেছে জাতীয়তাবাদের ঢেউ। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে জাতীয়তাবাদের এ জোয়ারকে কাজে লাগাতেই প্রচার শুরু করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি)। ডয়েচে ভেলে।

ভারতে গত ১৬ বারের সংসদীয় নির্বাচনে কমপক্ষে আটবার কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। ১৯৮৪ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল দেশটির বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেস। এর তিন দশক পরা করে ২০১৪ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি।

১৯৮৪ সালে পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে কংগ্রেস নেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর পুরো ভারতজুড়ে দেশাত্মবোধের এক জোয়ার আসে। সে জোয়ারে চারশ’রও বেশি আসন নিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। সেসময় সীমান্তের ওপার থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং সন্ত্রাসের মোকাবিলা করাই ছিল কংগ্রেসের প্রধান নির্বাচনি ইস্যু। কংগ্রেসকে ভোট দেয়া যেন এক দেশাত্মবোধক কাজ- নির্বাচনী প্রচারণায় এমন জিগির তুলে ধরেছিল কংগ্রেস। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক জম্মু-কাশ্মীরের চিত্রও একই।

আর তাই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে এ প্রশ্নটাই বারবার ঘুরে ফিরে আসছে-বিজেপি কি এ সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে? এ প্রসঙ্গে দেশটির রাজনীতি বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক উদয়ন ব্যানার্জি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিপরীতে দেখা দিয়েছে একটা জাতীয়তাবাদ। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে সাধারণ জনগনের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে গেছে। যা এবারের নির্বাচনে বাড়তি গুরুত্ব পাবে। তবে নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধি অনুসারে, নির্বাচনী প্রচারণায় সেটা তুলে ধরা যাবে না। তাই বিজেপির এবারের প্রচারে ২০১৪ সালে দলটি যেসব উন্নয়নের কথা বলেছিল সেসব তুলে ধরা হবে। গত পাঁচ বছরে মোদির শাসনামলে বিজেপি সরকার কি অর্জন করেছে সম্ভবত তারই বিস্তারিত থাকবে। তবে রাজ্যভিত্তিক অর্জনের ইস্যুকেই মূল ইস্যু হিসেবে এবার তুলে ধরা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যেমন, উত্তরপ্রদেশে প্রশাসনিক ইস্যু, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে হয়তো সেটা হবে না। ওডিশায় হবে অন্য ইস্যু। দক্ষিণী রাজ্যগুলোতে আলাদা ইস্যু। তবে এখানে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, বিরোধী জোট সুসংহতভাবে এগিয়ে যেতে পারছে না।’ এরপর নির্বাচনি প্রচার সম্পর্কে উদয়ন বলেন, ‘কংগ্রেসের বাড়তি কোনো ইস্যু নেই। যেসব ইস্যুকে ভিত্তি করে দাঁড়িয়েছিল দলটি, যেমন, কৃষক আন্দোলন, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে আর এগিয়ে যেতে পারছে না কংগ্রেস। জঙ্গি বিরোধী জাতীয়তাবাদ এমন একটা স্তরে পৌঁছেছে যেটাকে নাড়ানোর সাধ্য আপাততো কংগ্রেসের নেই বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অতি সম্প্রতি পাঁচটি রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে ক্ষমতা দখল করেছে ঠিকই, কিন্তু পুলওয়ামার ঘটনার পরে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরে ওই তিনটি রাজ্যের সংসদীয় ভোটে বিজেপি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।’ নির্বাচনের সময়সূচিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সন্তুষ্ট নয় কেন? রমজান মাসে ভোটপর্ব চলবে তাতেও আপত্তি কেন? -এসব প্রশ্নের জবাবে এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ‘এবার সাত দফায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে। প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর একটা মানসিক চাপ থাকবে। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের মধ্যে একটা ডামাডোল তৈরি হয়েছে। এ বেরিয়ে যাচ্ছে, ও বেরিয়ে যাচ্ছে। জনসমর্থনও পড়তির দিকে। ফলে সেটা তৃণমূলের চিন্তার কারণ। আর রমজান মাসে ভোটের আপত্তি ধোপে টেকে না একেবারেই। রমজান মাসে এর আগেও বহুবার নির্বাচন হয়েছে। মুসলিম ভোট ব্যাংকের দিকে তাকিয়েই এসব কথা বলছে তৃণমূল। রমজান মাসে মুসলিমরা কি কাজ করেন না? সব কাজই করেন। বাড়িতে বসে থাকেন না। এটা মুসলিমদের একটা বাৎসরিক রীতি যা তারা পালন করেন। কাজেই ভোট দিতে অসুবিধা হবে কেন?’

অপরদিকে এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তানে ঢুকে ভারতের বিমান অভিযানে জঙ্গি ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে মোদি যে পরাক্রম দেখিয়েছেন, তাতে তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৫১ হাজার ভোটারের মতামত যাচাই করে দেখা গেছে, মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি একা পেতে পারে ২২০টি আসন এবং বিজেপি জোট পেতে পারে ২৬৪টি আসন। পাশাপাশি কংগ্রেসের ইউপিএ জোট পেতে পারে কমবেশি ১৪১টি আসন। কাজেই সরকার গঠনে বিধানসভার মতো এবারও আঞ্চলিক দলগুলোর গুরুত্ব বাড়বে নিঃসন্দেহে।