• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

সাইবার নিরাপত্তা ইস্যু

জরুরি অবস্থা জারি ট্রাম্পের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯

image

ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্য যুদ্ধের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলোকে ‘বিদেশি প্রতিপক্ষের’ হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত বুধবার তিনি এক নির্বাহী আদেশে সই করার মধ্য দিয়ে এ জরুরি অবস্থা জারী করেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এমন কোনও বিদেশি টেলিকম প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে না মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে মার্কিন সরকারের এসব সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে অভিমত রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের।

ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটন ও বেইজিং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং চলতি সপ্তাহে পরস্পরের ওপর আরোপ করা নতুন শুাল্কারোপের কারণে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার অ্যাক্ট ব্যবহার করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এ আইনে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকির মুখে ফেলে এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন প্রেসিডেন্ট। এ আদেশের মাধ্যমে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরকারের অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ১৫০ দিনের মধ্যে একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। বুধবার ট্রাম্পের আদেশের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হুয়াওয়েসহ ৭০টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেছে।

এ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে কোনও প্রযুক্তি ও উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবে না। জরুরি অবস্থা জারি করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ নির্বাহী আদেশে কোনো কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে কোম্পানিকে লক্ষ্য এটি করা হয়েছে বলে ধারণা সংবাদ মাধ্যম বিবিসির। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন এতকাল শাস্তিমূলক শুল্ককে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে চীনের টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি হুয়াওয়ের কার্যক্রমে রাশ টানতে ওয়াশিংটন একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। কানাডায় কোম্পানিটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গ্রেফতার ও তার প্রত্যর্পণের প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে উন্নত ৫জি মুঠোফোন নেটওয়ার্ক চালু করার ক্ষেত্রে হুয়াওয়েকে দূরে রাখতে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, চীনা রাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বে নজরদারি চালাতে চায় এ কোম্পানি। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মুঠোফোন নেটওয়ার্কে তাদের সরঞ্জাম ব্যবহার করা বিপজ্জনক।এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের দেয়া একটি বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্পের আদেশের লক্ষ্য হল ‘বিদেশি প্রতিপক্ষ যারা সক্রিয় ও ক্রমবর্ধমানভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো ও সেবার ক্ষেত্রে দুর্বলতা সৃষ্টি করছে ও এর সুযোগ নিচ্ছে তাদের থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।’ এ আদেশের বলে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী ‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি আছে এমন লেনদেনে বাধা দিতে পারবেন’ বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যান অজিত পাই। এক বিবৃতিতে এ পদক্ষেপকে ‘আমেরিকান নেটওয়ার্কগুলো নিরাপদ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। পৃথক আরেকটি পদক্ষেপে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হুয়াওয়ে টেকনোলজিস্ কোম্পানি লিমিটেড ও এর অন্তর্ভুক্ত ৭০টি প্রতিষ্ঠানকে তাদের ‘এনটিটি লিস্টে’ যুক্ত করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন ছাড়া এ কোম্পানিটি আর মার্কিন প্রযুক্তি কিনতে পারবে না।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফল ভালো

হবে না বলে হুশিয়ারি হুয়াওয়ের

অপরদিকে বিদেশি প্রতিপক্ষের প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেয়া অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার ঘোষণাকে ‘অযৌক্তিক’বলে অভিহিত করেছে চীনভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের মুখপাত্র গেং সুহাং বলেছেন, নির্দিষ্ট চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মর্যাদাহানিকর ও অন্যায্য। তিনি বলেন, আমরা মার্কিন পক্ষকে পূর্ব নির্ধারিত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা নেয়া বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। এবং তাদের স্বাভাবিক বিনিয়োগ ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি যথাযথ, ন্যায্য এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতের অনুরোধ করছি।

মার্কিন সরকারের এসব পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় চীনের বৃহৎ প্রযুক্তি হুয়াওয়ে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় মার্কিন ভোক্তা ও কোম্পানিগুলোই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের কাজে কোনো হুমকি নেই এবং তারা চীন সরকার থেকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন একটি কোম্পানি। বরং এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কেবল নিম্নমানের ও ব্যয়বহুল বিকল্প পণ্য ব্যবহারে বাধ্য হবে। অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়বে আর চূড়ান্তভাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’ একইসঙ্গে বিবৃতিতে পণ্যের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যকেও প্রতিষ্ঠানটি একই আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

গত বুধবার (১৫ মে) অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার এ নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। নির্বাহী আদেশে কোনও বিদেশি কোম্পানি বা দেশের নাম উল্লেখ করা না হলেও এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা হুয়াওয়ে’কে হুমকি হিসেবে আখ্যা দেন। পরবর্তী প্রজন্মের ৫জি নেটওয়ার্কে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ব্যবহার না করতে মিত্র দেশগুলোকেও সতর্ক করেছিলেন কর্মকর্তারা। এমন প্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে হুওয়াওয়ে বলেছে, ‘হুওয়াওয়ে’র ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি নিরাপদ হয়ে উঠবে না, এর মধ্য দিয়ে দেশটি শক্তিশালীও হয়ে যাবে না।