• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

চীনের মুসলিম বন্দীশিবির বন্ধ করার আহ্বান তুরস্কের

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

চীনের মুসলিম বন্দীশিবিরগুলোতে (কনসেনট্রেশন ক্যাম্প) দেশটির সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ১০ লক্ষাধিক সদস্যকে আটকে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এগুলো বন্ধের জন্য বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উইঘুরদের বন্দীশিবির হিসেবে ব্যবহৃত চীনের এসব বন্দীশিবির মানবতার জন্য ভয়াবহ মাত্রায় লজ্জাজনক।

বর্তমানে উইঘুরদের বসবাস চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে হলেও তারা মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত জাতিগোষ্ঠী। তাদের সংস্কৃতিতে আরব ও তুরস্কের প্রভাব রয়েছে। এ জনগোষ্ঠীর বর্ণমালাও আরবি। এর আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানও উইঘুর মুসলিমদের ওপর ‘গণহত্যা’র জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেন। সম্প্রতি বেইজিংয়ের একটি উইঘুর নির্যাতন কেন্দ্রে আবদুরহিম হায়াত নামের এক খ্যাতনামা উইঘুর সংগীত শিল্পীর মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয় তুর্কি পররাষ্ট্র দফতর। উইঘুর বন্দীশিবিরে আট বছরের সাজা ভোগ করছিলেন আবদুরহিম হায়াত নামের ওই শিল্পী। তার মৃত্যুর পর শনিবার তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসয় বলেন, চীনের ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে আটকে রাখার বিষয়টি এখন আর গোপন কিছু নয়। এসব নিপীড়ন কেন্দ্রে নির্যাতনের মাধ্যমে বন্দীদের মগজধোলাই করা হয়। মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এসব বন্দীশিবির বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে তুরস্ক। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসয় বলেন, চীনে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর তুর্কি নির্বিচারে গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন। নিপীড়ন কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে তাদের নির্যাতন, রাজনৈতিক মগজধোলাইয়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। তিনি বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষকে আমরা উইঘুর তুর্কিদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে বন্দীশিবিরগুলোও বন্ধের আহ্বান জানচ্ছি। গত অক্টোবর পর্যন্ত পুনঃশিক্ষাকেন্দ্র নামে পরিচালিত এসব ভয়াবহ উইঘুর বন্দীশিবিরের কথা অস্বীকার করে আসছিল চীন। ওই মাসেই প্রথমবারের মতো এসবের অস্তিত্ব স্বীকার করে তারা দাবি করতে থাকে, ছোটখাটো অপরাধের জন্য এসব কেন্দ্রে আটক রেখে তাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

এর আগে আগস্টে জেনেভায় চীনের ওপর জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির দুই দিনের বিশেষ সভায় উঠে আসে দেশটির সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্যদের বন্দীশিবিরে আটকে রাখার বিষয়টি। সভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক সংস্থা জানায়, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ স্বায়ত্তশাসিত উইঘুর প্রদেশকে কার্যত ‘বিশাল একটি বন্দীশিবিরে’ পরিণত করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে উইঘুরসহ অন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের আটকের খবর সামনে আসছে।