• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

চীনের পার্লামেন্টে হংকং নিরাপত্তা আইন পাস

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২০

image

বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাসের বিরুদ্ধে আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভ -এএফপি

উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যগুলির হংকং-এ প্রবেশও বন্ধ করে দেয়া হয়। খর্ব হতে পারে হংকং-এর স্বাধীনতা তবে আইনের খসড়া এখনও প্রকাশিত হয়নি

আধা স্বায়ত্তশাসিত নগর হংকংয়ের জন্য একটি বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করেছে চীনা পার্লামেন্ট। বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ আইন পরিষদ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটি (এনপিসিএসসি) সর্বসম্মতিক্রমে আইনটি অনুমোদন করেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

মঙ্গলবার বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দেশটির সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনটি জানায় এ আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এনপিসিএসসির বৈঠক শুরু হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৬২ জন সদস্যের সম্মতিতে আইনটি পাশ হয় । বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে মর্নিং পোস্ট আরও জানায়, ব্রিটিশ শাসন থেকে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২৩তম বার্ষিকী ১ জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের জাতীয় আইনসভায় পাস হওয়ার আগে হংকংয়ের হাতেগোনা কয়েকজন প্রতিনিধি এ আইনের একটি খসড়া দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রতিবেদনে প্রকাশিত এ বিষয়টি নিয়েই বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুদূরপ্রসারি এই আইনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের নিন্দা জানিয়েছেন অনেক হংকংবাসী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, এ আইন সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশটি চীনের কাছে হস্তান্তরের ঠিক ২৩ বছর পর এর জীবনযাত্রার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় হংকংয়ের জন্য উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করেছিল বেইজিং। কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে তা লংঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অন্যান্য পশ্চিমা সরকারগুলোর। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের বিরোধের আরও একটি ধারা শুরু হল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষগণ। চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির এ আইনটি বেজিংয়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে আইনটি পাস হওয়ায় চিন তার আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির ওপর নতুন করে ক্ষমতা পেল। এদিকে এই আইন পাসের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোমবার আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আইনের অধীনে হংকংয়ের বিশেষ মর্যাদা অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু করে। এমনকী প্রতিরক্ষা রফতানি বন্ধ করে দেয়া হয়। উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যগুলির হংকং-এ প্রবেশও বন্ধ করে দেয়া হয়। খর্ব হতে পারে হংকং-এর স্বাধীনতা তবে আইনের খসড়া এখনও প্রকাশিত হয়নি। বেজিংয়ের তরফে বলা হয়েছে বিগত বছরে প্রায়শই হিংস-গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ শুরু হয় হংকং-এ। এই আইনের মাধ্যমে সেই সব বিভ্রান্তি, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং বিদেশী শক্তির সঙ্গে জোট হয়ে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। যদিও হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের দাবি, এই আইন অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে হস্তক্ষেপ করবে। হংকংবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে, এ আইন তাকে খর্ব করবে।